• ই-পেপার

আজ দাম নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক

চামড়ার দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা

আবু আহমেদ

সরকারকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় দিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
সরকারকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় দিতে হবে
আবু আহমেদ

সরকারকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বড় বাজেট দোষের কিছু নয়। নির্বাচিত সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় বাজেট দিতেই পারে। তবে বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ সরকারকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় দিতে হবে। অতীতে টানেলের শেষে কোনো আলো খুঁজে পাওয়া যেত না, এখন আমরা আশাবাদী। হতাশা কাটিয়ে টানেলের শেষে আলো দেখা যাচ্ছে।’

গতকাল রাজধানীর এফডিসিতে ‘বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবারের বাজেট’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘স্বৈরাচার আমলে কোনো বড় বিজনেস হাউস সেই সরকারকে সন্তুষ্ট না করে ব্যবসা করতে পারত না। ব্যবসাবাণিজ্যে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পেত। পালিয়ে যাওয়া সরকার পদ্মা রেলসেতু, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দও, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অনেক মেগা প্রকল্পই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করেছিল। এসব প্রকল্পে দুর্নীতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্প গ্রহণে রক্ষণশীল। মানব উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রকল্পকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর আমাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গেমচেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। এ সফর উন্নয়ন সহায়তা, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।’

করপোরেট কর হারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে করপোরেট করের হার বাংলাদেশের তুলনায় কম। আমরা যদি করের হারকে অন্তত এ দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে না পারি তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন না।’

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে লুণ্ঠনের অর্থনীতি গড়ে তোলা হয়েছিল। অতিমূল্যায়িত এসব মেগা প্রকল্পের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয়ই ছিল ভুয়া। অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের যেগুলো থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে সেগুলোকে রেশনালাইজড করে অপচয় বন্ধ করা উচিত। গত দুই বছরে ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন দেড় লাখের বেশি শ্রমিক। শিল্পকারখানা বন্ধের অভিঘাত পড়ছে অর্থনীতিতে।’

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, আবুল কাশেম ও মাইদুর রহমান রুবেল।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা ফের চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা ফের চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

দেশিবিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

সভায় জানানো হয়, এসব কলকারখানায় বিনিয়োগে অনেক বেসরকারি কম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কম্পানিগুলো যে ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোর সম্ভাব্যতা এখন যাচাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস

বিশ্ববাজারে ধারণার চেয়েও কমে যেতে পারে সোনা-রুপার দাম

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে ধারণার চেয়েও কমে যেতে পারে সোনা-রুপার দাম
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ধারণার চেয়েও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান তাদের নতুন পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, তবে সোনার দাম ধারণার চেয়েও কমে পারে। খবর রয়টার্স

সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনার চেয়ে অন্য লাভজনক খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে পছন্দ করেন। এর ফলে সোনা বা এই জাতীয় অনুৎপাদনশীল ধাতুর বাজারে বড় চাপ তৈরি হয়।

প্রধান খাতগুলো থেকে সোনার চাহিদা আশানুরূপ না হওয়ায় দাম বাড়ার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়েছে জেপি মরগান। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৪ হাজার ৫০০ ডলার হতে পারে।

অথচ গত ৯ জুনের এক পূর্বাভাসে জেপি মরগান জানিয়েছিল, বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আউন্সপ্রতি ছয় হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে নতুন মূল্যায়নে সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে ব্যাংকটি।

এদিকে, শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ২১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ধাতুটির দাম সামগ্রিকভাবে দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সাময়িক ওঠানামা এবং দাম কমার ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার নিয়ে আশাবাদী জেপি মরগান।

ব্যাংকটি বলছে, ২০২৭ সাল নাগাদ সোনার দাম আবার বাড়তে পারে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা এবং বাজারে বাস্তব চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেরও পূর্বাভাস দিয়েছে জেপি মরগান। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম ৬০ থেকে ৬৫ ডলার হতে পারে।

এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্ল্যাটিনামের দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮০০ ডলার এবং ২০২৭ সালে তা ১ হাজার ৯৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ২০২৬ সাল নাগাদ আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

ইসলামিক ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ কাউন্সিলকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে : গভর্নর

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামিক ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ কাউন্সিলকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের অধিকাংশ আমানতকারী ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে আগ্রহী। তাই শরিয়াহ কাউন্সিলকে আরো কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (আইবিআরপিডি) যৌথ উদ্যোগে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহ-সংক্রান্ত ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সুশাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর ‘বাংলা কিউআর’ সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তার মতে, ব্যাংকের সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও কার্যকারিতা আরো উন্নত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর শরিয়াহ গভর্নেন্স ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তিনি বলেন, শরিয়াহ নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ কেবল ইসলামিক ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি করে না, বরং এ খাতের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরো বলেন, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা এবং শরিয়াহ সুপারভিশন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিআইবিএম গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

আলোচনা সভায় তিনটি কারিগরি উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যরা বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন এবং কার্যকর শরিয়াহ তদারকি জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
 

চামড়ার দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা | কালের কণ্ঠ