মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। বুধবার (২২ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আগামী সপ্তাহে বসতে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন। এই বৈঠক থেকেই সুদের হারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১১৫ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে দিনের শুরুতেই দাম বেড়ে গত ৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ স্থানে উঠে যায়।
অন্যদিকে, আগামী আগস্টে সরবরাহের জন্য মার্কিন ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৬০ ডলারে বেচাকেনা হয়।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্টিভট্রেডস’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ‘জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে এবং সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন আশঙ্কা থাকলেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার বাড়তি চাহিদা সেই চাপ কিছুটা সামাল দিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ সংঘাত কমাতে পারে এবং তেলের দামের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে—এমন আশাও কাজ করছে।’
ইভানজেলিস্তা আরো বলেন, ‘জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণে সোনার বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী গতি কিছুটা বাধার মুখে পড়তে পারে। তবে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা এখনো সোনার জন্য একটি শক্তিশালী টেকনিক্যাল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল সোনার দাম। তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার উঁচু রাখতে বাধ্য হয়। সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধী সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হলেও সুদের হার বেশি থাকলে সুমহীন এই ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমে যায়।
রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৬ সালের বাকি সময় মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ফেড দুবার সুদের হার বাড়াতে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বরেই ফেড কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৮ শতাংশ বলে মনে করছেন।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বাজারে স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৬ দশমিক ৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৫ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার গয়নার দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।











