kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

শর্তের বেড়াজালে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৯ ১৪:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শর্তের বেড়াজালে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নারীদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ-সুবিধা এখন অনেক বেড়েছে। এতে প্রতিবছর যে হারে নারী উদ্যোক্তা বাড়ার কথা বাস্তবে তা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত ৯ বছরে ৪ লাখ ৬২ হাজার নারী উদ্যোক্তা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) আওতায় ঋণ পেয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসে পেয়েছেন ৪৬ হাজারের মতো; যার মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা রয়েছেন মাত্র ১০ হাজার।

এ ছাড়া এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ১০ শতাংশ ঋণ বিতরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনো বছরই তা ৫ শতাংশের বেশি অর্জিত হয়নি। ২০১৭ সালে এসএমই খাতে বিতরণ হওয়া ঋণের মাত্র ২.৯৫ শতাংশ পান নারী উদ্যোক্তারা। আর ২০১৮ সালের ৯ মাসে এই হার একটু বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩ শতাংশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পরিসংখ্যান বলছে, এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ও ঋণ বিতরণ আশানুরূপ নয়। এর পেছনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জুড়ে দেওয়া নানা শর্তের বেড়াজাল। প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এসব শর্ত পূরণ করা সহজ হলেও হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়েন নতুনরা। এ ছাড়া ৯ শতাংশ পুনরর্থায়ন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও গোপন চার্জসহ সেটা গিয়ে ১৩ শতাংশে উঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও ঋণসুবিধার অভাবে শুরুতেই ভেঙে যাচ্ছে অনেকের উদ্যোক্তা হওয়ার লালিত স্বপ্ন।

নারী উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ও বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সবার ক্ষেত্রে সেগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করছে না। উল্টো ঋণ আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের নামে নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে তাদের হয়রানি ও ভোগান্তিতে ফেলছেন। এতে নতুনদের পক্ষে ঋণ পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা তেমন হয় না। কারণ তাঁদের ঋণ দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো মুখিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পান না এমন ঢালাও অভিযোগ ঠিক নয়। এ ছাড়া ঋণ পেতে নানা হয়রানির যে অভিযোগ করা হয় তাও পুরোপুরি সত্য নয়। বিশেষ করে ঋণ আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটা পরিপালন করার বিষয়টিকে হয়রানি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওমেন ওয়েন্ডের প্রেসিডেন্ট ড. নাদিয়া বিনতে আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন করলেও নারী উদ্যোক্তারা এই সুবিধা পাচ্ছেন না। ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত জটিলতা নানাবিধ শর্তের বেড়াজাল এবং উচ্চ সুদের কারণে প্রতিনিয়ত পুঁজি সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে।

‘আইঅ্যামএসএমই অব বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাফিয়া শ্যামা বলেন, ব্যাংকগুলো শুধু প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চায়। কিন্তু যাঁরা নতুন, তাঁদের ক্ষেত্রে অনীহা দেখায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনরর্থায়ন তহবিলের আওতায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত যে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার কথা বলা আছে, সেই ঋণ পেতে গ্যারান্টার একজন নয়, একাধিক গ্যারান্টার চায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শেখ মো. সেলিম বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান বিবেচনায় এটাকে প্রাইমারি সেক্টর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ বিতরণের একটা সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ খাতে মোট বিতরণ হওয়া ঋণের কমপক্ষে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের দিতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক কাউকে টাকা দেবে তখনই, যখন নিয়মমাফিক সব কিছু পরিপালিত হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে ঋণ দিতে অনীহা দেখাতেই পারে তারা। তবে এটাকে হয়রানি হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা