জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার কখনোই দেশ পরিচালনায় ভালো ছিল না। সরকার যে শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে ফেল করছে তা না, সরকার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিচালনার ক্ষেত্রেও ফেল করেছে।’
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে এনসিপি কুমিল্লা শাখা আয়োজিত ঈদ-পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের ক্রাইসিস মুহূর্তে তারা (বিএনপি) সব সময় বাজে পারফর্ম করে। তারা বলেছিল বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। দুই বছরের মধ্যে বাড়বে না বলার ঠিক দুই মাসের মধ্যেই দাম বেড়ে গেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়া মানে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যে চ্যালেঞ্জ, তা প্রত্যেক নাগরিককে ভোগ করতে হবে। কারণ আমাদের তো আয়-রোজগার বাড়েনি। সাধারণ জনগণের আয় রোজগার বাড়েনি, কিন্তু খরচ বেড়ে যাবে। গ্যাসের দাম ১২০০-১৩০০ থেকে এখন ১৯০০ টাকার কাছাকাছি। প্রায় ৫০ ভাগ গ্যাসের দাম বেড়েছে। শেখ হাসিনার আমলে ১৭ বছরে যা বেড়েছিল, গত তিন মাসে তারা ততটুকু বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।’
এনসিপি মুখপাত্র সরকারের সমালোচনা করে আরো বলেন, ‘বিএনপি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিচালনা এবং গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থতাসহ সব কিছু মিলিয়ে ইতিমধ্যে অজনপ্রিয় সরকারের পরিণত হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে বারবারই বলা হতো নির্বাচনের পরেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ধর্ষণ, চুরি-ছিনতাই, রাহাজানি, শাহবাগের আন্দোলন এবং মব কালচারসহ সব সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও বলা হয়েছে নির্বাচন হলে সমাধান হয়ে যাবে। দেশে নির্বাচিত সরকার এলো, কিন্তু আমরা এসব কিছুর পরিবর্তন দেখছি না, বরং আরো সব কিছু বাড়তে দেখছি। আমরা দেখছি মব জাস্টিস বেড়ে গেছে। গত এক মাসে ৮৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন তিনি বলেছিলেন, মব বন্ধ বরে দেবেন। কিন্তু আমরা এখন মব বাড়তে দেখছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সরকারদলীয় লোকের সম্পৃক্ততা দেখছি।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, যুগ্ম সদস্যসচিব নাভিদ নওরোজ শাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন দল থেকে আসা প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগদান করেন।