• ই-পেপার

পঞ্চগড়ে বিএনপির সমাবেশ আজ

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ, উন্নয়ন বরাদ্দের সুষম বণ্টন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদকে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর হবে, মানুষের আস্থা তত বাড়বে। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে স্পিকারের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসম্পদ লুটপাট বন্ধে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

সরকারি অর্থে স্থাপনায় ব্যক্তির নামফলক বসানোর সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক বদলাতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত আলোচনা ও মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যা জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীকে পরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা প্রাথমিক শিক্ষায় নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা এবং অবহেলিত স্বতন্ত্র মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এবারের দুর্যোগে চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারি দলের তুলনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। উন্নয়ন তহবিল বণ্টনে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সুষম ও ন্যায়সংগত নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম

আতিক রহমান, বগুড়া
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় এনসিপি আয়োজনে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এই সরকারের পরিণতি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই হবে। এই দেশ দিল্লির তাঁবেদারিতে চলবে না। শহীদ হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না।

জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপির) সারা দেশে পদযাত্রা ও পথসভা উপলক্ষে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় এনসিপি আয়োজনে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)  বিকেলে সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বগুড়ার মানুষও গর্ব করতে পারে বাংলাদেশের মানুষও গর্ব করতে পারে। তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—আপনি আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আপনি আপনার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হননি। আপনি আপনার যোগ্যতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হননি। ১৭ বছর পর আপনি যখন দেশে আসেন দেশের মানুষ যখন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো বিদায় দিয়েছে, যখন তাদের সামনে মেজর জিয়াউর রহমানের মুখখানি ভেসে উঠেছে। তাদের মুখের দিকে চেয়ে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। আপনি যদি এই আমানত রক্ষা করতে পারেন, তাহলে জনগণ আগামীতে ভোট দেবে। যদি আমানত রক্ষা করতে না পারেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে না পারেন আগামীতে ধানের শীষ তথা বিএনপিকে জনগণ ভোট দেবে না।’ 

বগুড়া জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইজাজ আল ওয়াসী জ্বীমের পরিচালনায় পথসভায় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিক মাহাদী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এমএসএ মাহমুদ, সদস্যসচিব সুলতান মাহমুদ, এনসিপির দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ। এদিন সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরের সাতমাথায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে : জি এম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে :  জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে তিনি সফল বা ব্যর্থ—কোনোটিই বলতে চান না। তার ভাষায়, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এটি এখনো ‘অসমাপ্ত’ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরো বড় রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা নতুন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘পল্লী নিবাসে’ কালের কণ্ঠকে তিনি এ কথা বলেন। পরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনকে আমি সফল বা ব্যর্থ বলতে চাই না। কারণ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তাই আমি বলব, আন্দোলনটি এখনো অসমাপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জনগণ আশা করেছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনে দলীয়করণ, নিয়োগে বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। তারা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মতকে সম্মান করা হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি, মামলা-হামলা এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় আন্দোলন কিংবা নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হলে নতুন সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে জি এম কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হতে হবে। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং নিয়োগপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে জনগণের আস্থা। সেই আস্থা অর্জন করতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে, বৈষম্য দূর করতে হবে এবং সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাদক এখন সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা করা কঠিন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদক নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধে আরো কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে রংপুর মহানগর ও জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৯টায় পল্লী নিবাসে স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

এ সময় জি এম কাদের বলেন, ‘পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন দর্শন আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী জনপদের অগ্রগতি এবং রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর যে অবদান, তা মানুষ কখনো ভুলবে না। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই জাতীয় পার্টি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’

দল গোছানোর উদ্যোগ বিএনপির

৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও মেয়াদোত্তীর্ণ স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্ব চলতি বছরই দলীয় কাউন্সিলের তোড়জোড়

অনলাইন ডেস্ক
দল গোছানোর উদ্যোগ বিএনপির

এবার দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হওয়ায় এর মধ্যে দলের অনেকে সরকারে চলে গেছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা হয়েছেন অনেকে। এ কারণে দলের কর্মকান্ডে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙা করতে দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য দলীয় কাউন্সিল আয়োজনসহ অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা জানান, তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠনে সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এ ছাড়া দলটির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিএনপির ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিশেষ করে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেই দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন : বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে এসব কমিটি দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় দলীয় নেতারা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন।

তাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল- এই ৯টি হলো বিএনপির অঙ্গসংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি হয়নি।

বিএনপির কাউন্সিল : বিএনপির গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও এক দশকেও তা হয়নি। তবে এ সময়ে নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ। কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কেউ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। দলীয় দায়িত্বশীল নেতারা জানান, চলতি বছরের শেষের দিকে দলের সপ্তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য দায়িত্বশীলদের ৮২টি সাংগঠনিক জেলা ও অধিভুক্ত উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোতেও অধিকাংশ নেতা কাউন্সিল করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। একই সঙ্গে কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘোষণার জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দায়িত্বশীলরা আভাস দিয়েছেন, এবার কাউন্সিলে থাকবে নতুন নতুন চমক। পরিবর্তন হবে দলীয় গঠনতন্ত্রের কিছু ধারা-উপধারা। দীর্ঘ ৯ বছর পর দলের কাউন্সিলে ১৬ বছর রাজপথে থাকা নেতাদের আমলনামা অনুসারে ভাগ্য নির্ধারণ হবে। যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে নবরূপে সাজানো হবে বিএনপিকে।

বিএনপির ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ : বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও সাংগঠনিক তৎপরতায় পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। সারা দেশে ৮২ কমিটির মধ্যে এখন ৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ। শুধু সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি নয়; সারা দেশে বিএনপির থানা-উপজেলা এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। জানা গেছে, সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এসব কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৮ জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরো তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়েও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেবে কেন্দ্র। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্ব : স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাফল্য পেতে চায় বিএনপি। সেজন্য দল শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আগামী স্থানীয় নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু হতে পারে এবং দল কীভাবে প্রস্তুতি নেবে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

সূত্র জানায়, নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে এবার সতর্ক অবস্থান নিতে চায়। এজন্য বিভিন্ন এলাকায় জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই এখন থেকেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা সংগঠনের চলমান প্রক্রিয়া। তবে জাতীয় কাউন্সিল হলে সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব পায়। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা ত্যাগী, সংগ্রামী, পরীক্ষিত নেতারাই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এতে ত্যাগীরা যেমন মূল্যায়িত হন, তেমনি সংগঠনও শক্তিশালী হয়।

কাউন্সিলের বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের সীমাহীন নির্যাতনে বিএনপি তখন স্বাভাবিক দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে পারেনি। তাই উদ্যোগ নেওয়ার পরও দলের জাতীয় কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন রাজনীতির পরিবেশ এসেছে। তাই দলের জাতীয় কাউন্সিলও হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই। এখনো আমরা সময় নির্ধারণ করিনি। দলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের লোক অনেকে সরকারে চলে গেছেন। সেই জায়গাগুলো পূরণ হতে সময় লাগবে। এটা বিচ্ছিন্ন ব্যাপার না। এটা আলাদা করে দেখা যাবে না। সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

পঞ্চগড়ে বিএনপির সমাবেশ আজ | কালের কণ্ঠ