• ই-পেপার

স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গঠনের পালা : তারেক রহমান

স্থায়ী কমিটির বৈঠক

স্থানীয় নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করতে চায় বিএনপি

মাহমুদুল হাসান
স্থানীয় নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করতে চায় বিএনপি
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় দুই মাস পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চায় দলের হাইকমান্ড। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তৃণমূলে সংকট তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এসবের লাগাম টানতে চান দলটির শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি দলীয় সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত ৮টায় গুলশান কার্যালয়ে দলের এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বেগম সেলিমা রহমান। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় চিকিত্সাধীন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস স্কাইপে এই বৈঠকে যোগ দেন। 

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক দীর্ঘদিন পরে হয়েছে। সাংগঠনিক বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ও ছিল। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলগত প্রস্তুতির জন্য সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ 

বৈঠকের শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ সদস্যের মত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এ জন্য এখন থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য কাউন্সিলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।’

বৈঠকে বেশির ভাগ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যত্ রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি।

বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও বেগম সেলিমা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈঠকে দেশ ও সার্বিক অবস্থা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকের বিস্তারিত জানাবেন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক।

নিজের অধিকার জনগণকেই আদায় করে নিতে হবে : মঈন খান

অনলাইন ডেস্ক
নিজের অধিকার জনগণকেই আদায় করে নিতে হবে : মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নিজের অধিকার যতক্ষণ না জনগণ নিজেরাই আদায় করবে, ততক্ষণ কেউ তা এনে দেবে না।

শনিবার (১১ জুলাই) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার মা বেগম খোর্শেদা বানুর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, খান পরিবার দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সব সময় ভূমিকা রেখে এসেছে। তিনি জানান, তার মা বেগম খোর্শেদা বানু খান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসহায় ও নিগৃহীত মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াতে ও সহায়তা করতে পারি, তবে নিজের অধিকার আদায়ে জনগণকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে একটি সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মানুষের সেবায় আজীবন কাজ করে যেতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

প্রায় ২ মাস পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রায় ২ মাস পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা

প্রায় দুই মাস পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত মে মাসের ১৭ তারিখে।

স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বেগম সেলিমা রহমান।

বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে দলটির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা মোকাবেলায় দলটির পক্ষে করণীয়সহ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ঘুষ দিয়ে শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষার ঘাটতি হচ্ছে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘুষ দিয়ে শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষার ঘাটতি হচ্ছে : রিজভী
ফাইল ছবি

ঘুষের বিনিময়ে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার মান উন্নত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

তিনি বলেছেন, ‘৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে কেউ যদি শিক্ষক হন, তবে তিনি শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন এবং তার নিজের নৈতিকতাই-বা কোথায় থাকবে? এই ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার মতো নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে না।’

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবীর রিজভী এসব কথা বলেন।

অতীতের শিক্ষকদের উৎসর্গ ও নৈতিকতার কথা স্মরণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজ থেকে ৫০, ৬০ বা ৭০ বছর আগে শিক্ষকদের মধ্যে একধরনের প্রাণ উৎসর্গকারী প্রেরণা ছিল যে ছাত্রকে মানুষ করতে হবে। শিক্ষকরা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে খোঁজ নিতেন ছাত্ররা ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কি না। আর এখন রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় মানুষ নীতি-নৈতিকতা ও সত্যকে বিসর্জন দিয়েছে। এই সত্য বিসর্জনের কারণে আজ আদর্শ বা প্রশিক্ষিত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না।’

সমাজে মাদকের বিস্তারের পেছনেও নৈতিকতার এই অবক্ষয়কে দায়ী করেন রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ‘সমাজে আজ নানা ধরনের অধঃপতন, মোরাল ব্রেকডাউন (নৈতিক স্খলন) এবং চারিদিকে মাদকের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, যা অতীতে ভাবা যেত না। আজকে যদি নৈতিকতার উৎকর্ষ থাকত, তবে চক্রান্তকারীরা চেষ্টা করেও সমাজে মাদক, ফেনসিডিল বা ইয়াবার প্রসার ঘটাতে পারত না।’

মাঠ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘খবরের কাগজেও দেখা যায়, তৃণমূল বা মাঠ পর্যায়ে একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। ঘুষের বিনিময়ে স্কুলের শিক্ষক হওয়া আজ থেকে ৩০ বা ৫০ বছর আগেও ভাবা যেত না।’

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের যোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক যদি প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ না হন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তার পরিচয় না ঘটে, তবে শিক্ষার্থীরা কখনোই আলোকিত হবে না।’

তিনি মন্তব্য করেন, ‘কাগজের নৌকা দিয়ে কখনো নদী পার হওয়া যায় না।’

স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গঠনের পালা : তারেক রহমান | কালের কণ্ঠ