• ই-পেপার

কোরআনের বাণী

আল্লাহ যেভাবে আমলনামা পরিমাপ করবেন

ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স পরিশোধের আগেই মৃত্যু হলে করণীয়

মুফতি ওমর বিন নাছির
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স পরিশোধের আগেই মৃত্যু হলে করণীয়
সংগৃহীত ছবি

ইসলাম মানুষের হক বা অধিকার আদায়ের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হকও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ এমন একটি বিষয়, যা পরিশোধ না করলে মৃত্যুর পরও তার দায় থেকে যায়। তাই মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের শরয়ি বিধান জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এর বাইরে যা কিছু আছে, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৮)
 
বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে অনেক মোবাইল অপারেটর গ্রাহকদের জন্য 'ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স' বা জরুরি ব্যালেন্সের সুবিধা দিয়ে থাকে। মূলত মোবাইল কোম্পানির পক্ষ থেকে গ্রাহককে দেওয়া ‘ঋণ’। অর্থাৎ কোম্পানি গ্রাহককে অগ্রিম একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ব্যালেন্স ব্যবহার করতে দেয়, যা পরবর্তীতে রিচার্জের মাধ্যমে আদায় করে নেয়। অতএব, শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি ঋণ, আর ঋণ গ্রহণ করলে তা পরিশোধ করা ওয়াজিব। ইসলামে ঋণ পরিশোধের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই মৃত্যুর পর মানুষের সম্পদ থেকে সর্বপ্রথম তার ঋণ পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফকিহগণ বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে সর্বপ্রথম তার ঋণ পরিশোধ করা হবে।’ (আস-সিরাজি ফিল মিরাস, পৃ. ৮)

এমনকি যদি মৃত ব্যক্তি এ বিষয়ে কোনো অসিয়ত না করে থাকেন, তবুও উত্তরাধিকারীরা স্বেচ্ছায় তার ঋণ পরিশোধ করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, ইনশাআল্লাহ। (রদ্দুল মুহতার : ২/৫৩৩, আল-মাবসুত : ৩/১২৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের আত্মা তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।’ (সুনানে ইবন মাজাহ, হাদিস : ২৪১৩)

অন্য এক হাদিসে তিনি আরও বলেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর পথে শহিদ হন, তারপর জীবিত হন, আবার শহিদ হন—এভাবে তিনবারও শহিদ হন, তবুও যদি তার ওপর ঋণ থেকে যায়, তবে সেই ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২৮৬০)

সুতরাং যদি কেউ আন্তরিকভাবে ঋণ পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখেন, কিন্তু সুযোগ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে আল্লাহর রহমতের আশা করা যায়। কারণ আল্লাহ বান্দার নিয়ত সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করেন, অথবা পরিশোধ করার কোনো ইচ্ছাই না রাখেন, তাহলে তা একটি গুরুতর গুনাহ। পরকালে এ বিষয়ে তাকে জবাবদিহি করতে হতে পারে। এ কারণে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের উচিত, তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে প্রথমেই মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সসহ সব ধরনের ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া। সম্পদ না থাকলেও সামর্থ্যবান আত্মীয়রা স্বেচ্ছায় তা পরিশোধ করলে ইনশাআল্লাহ মৃত ব্যক্তি উপকৃত হবেন।

আমাদের করণীয় হলো-
১. মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সকে সাধারণ সুবিধা নয়, বরং ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা।
২. সুযোগ পেলেই দ্রুত ঋণ পরিশোধ করা।
৩. মৃত্যুর আগে নিজের সব ঋণের হিসাব পরিষ্কার রাখা।
৪. উত্তরাধিকারীদেরও মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে সচেষ্ট হওয়া।
৫. মানুষের হক আদায়ে সর্বদা সতর্ক থাকা।

মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স একটি প্রযুক্তিগত সুবিধা হলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি ঋণ। আর ঋণ পরিশোধ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই কোনো মুসলমানের উচিত নয় ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঋণ বকেয়া রাখা। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অসহায় অবস্থায় ঋণ পরিশোধের আগেই মৃত্যু ঘটে, তবে আল্লাহর অসীম রহমতের আশা করা যায়। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করলে তা পরকালে জবাবদিহির কারণ হতে পারে। অতএব, একজন সচেতন মুমিনের কর্তব্য হলো—মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সসহ সব ধরনের ঋণ দ্রুত পরিশোধ করা, মানুষের হক আদায়ে যত্নবান হওয়া এবং এমন জীবন যাপন করা যাতে আল্লাহর দরবারে ঋণমুক্ত অবস্থায় উপস্থিত হওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মানুষের হক আদায়ে আন্তরিকতা দান করুন এবং ঋণমুক্ত অবস্থায় তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন

সিরিয়া নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মহানবী (সা.)

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সিরিয়া নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মহানবী (সা.)
সংগৃহীত ছবি

‘মুলকে শাম’ বা শাম ভূখণ্ড নবী-রাসুলদের ভূখণ্ড। কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় তার বরকত ও পবিত্রতার বর্ণনা রয়েছে। ইতিহাসের অগণিত ঘটনাপ্রবাহ তার সঙ্গে জড়িত। মক্কা-মদিনার পরই যার মর্যাদা স্বীকৃত। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা, সংস্কৃতির দেশ সিরিয়া ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছেন অসংখ্য নবী ও রাসুল। তারা বসবাসও করেছেন এখানে। 

হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ সম্প্রদায়ের বিরোধিতার মুখে পড়ে আল্লাহর আদেশে সিরিয়া ভূমিতে হিজরত করেন। এখানে জন্মগ্রহণ করেন ঈসা (আ.)। হজরত মুসা (আ.) হিজরত করে আগমন করেছিলেন এখানে। আগের মুলকে শাম বর্তমানে কয়েকটি রাষ্ট্রে বিস্তৃত রয়েছে। বর্তমানের সিরিয়া, জর্দান, লেবানন ও পূর্ণ ফিলিস্তিন ভূখণ্ড প্রাচীন মুলকে শামের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই শামের সঙ্গে ভবিষ্যতের ও কিয়ামতপূর্ব অনেক ঘটনাও জড়িত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শামের ব্যাপারে বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

মুসলিমদের দ্বিতীয় হিজরতভূমি

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, হিজরতের পর আরেকটি হিজরত শিগগিরই সংঘটিত হবে। তখন ভূপৃষ্ঠের সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ হবে তারাই, যারা ইবরাহিম (আ.)-এর হিজরতভূমিতে (শাম দেশে) অবস্থান করবে।

আর গোটা পৃথিবীতে সর্বনিকৃষ্ট মানুষরাই বাকি থাকবে। তাদের ভূমিগুলো তাদের নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তাদের অপছন্দ করবেন। তাদের ফিতনার আগুন বানর ও শূকরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে (তাদের দুশ্চরিত্রের কারণে তারা যেখানেই যাবে, সেখানেই ফিতনা লেগে থাকবে)।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪৮২)

শামের কল্যাণের সঙ্গে উম্মতের কল্যাণ সম্পৃক্ত

হজরত মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন শামভূমি ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, তখন তোমাদের মধ্যেও কোনো কল্যাণ থাকবে না। আর আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, তাদের যারা ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২১৯২)

আল্লাহর ওলিদের বিশেষ দল শাম দেশে রয়েছেন

হজরত শুরাইহ ইবনে উবাইদ (রহ.) বলেন, হজরত আলী (রা.) ইরাকে অবস্থানরত অবস্থায় তাকে শামবাসীর ব্যাপারে বলা হলো, আপনি তাদের ওপর অভিশাপ করুন! তখন তিনি বলেন, না, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে শাম ভূখণ্ডে আবদালরা (আল্লাহর ওলিদের বিশেষ দল) থাকেন, তারা ৪০ জন থাকেন, যখনই তাদের থেকে একজন মারা যান, আল্লাহ তার স্থানে অন্য একজনকে রাখেন, তাদের বরকতে বৃষ্টি হয় ও শত্রুর ওপর জয়লাভ হয়। ভবিষ্যতে তাদের অছিলায় শামবাসীর ওপর থেকে আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৯৬)

মহাযুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সেনাছাউনি হবে শাম দেশে

হজরত আবুদ্দারদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মহাযুদ্ধের সময় মুসলিমদের ছাউনি হবে ‘গোতা’ শহরে, যা দামেস্ক শহরের পাশে অবস্থিত। এটি শামের উৎকৃষ্ট শহরগুলোর একটি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪২৯৮)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অচিরেই তোমরা শাম বিজয় করতে পারবে, যখন তোমাদের সেখানে বসবাসের এখতিয়ার দেওয়া হবে, তোমরা দামেস্ক নগরীকে বাসস্থান বানাবে, কেননা তা যুদ্ধবর্তীকালীন মুসলিমদের আশ্রয়স্থল হবে, আর তাদের ছাউনি হবে সে দেশের একটি ভূমি, যাকে ‘গোতা’ বলা হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৭৪৭০)

কিয়ামতের আগে মাহদির খেলাফত গ্রহণ

হজরত উম্মে সালামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুসলমানদের একজন খলিফার ইন্তেকালের পর মতানৈক্য হবে। তখন মদিনাবাসীর একজন ব্যক্তি (মতানৈক্য এড়িয়ে যাওয়ার জন্য) মক্কায় চলে আসবেন। অতঃপর মক্কাবাসী অনেক লোক তার কাছে আসবে এবং তাকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঘর থেকে বের করে এনে মাকামে ইবরাহিম ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তার হাতে বাইয়াত হবে। (তিনিই হলেন ইমাম মাহদি) তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শামবাসীর মধ্য থেকে একটি (বাতিল) দলকে পাঠানো হবে। 

তবে তারা মক্কা-মদিনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে পৌঁছলে ভূমিধসে আক্রান্ত হবে। যখন মানুষ তা দেখবে, তখন তার কাছে শামের আবদালরা ও ইরাকবাসী উৎকৃষ্ট মানুষের দল আসবে। অতঃপর তারা মাকামে ইবরাহিম ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে তার হাতে বাইয়াত হবে। অতঃপর কুরাইশ বংশের জনৈক ব্যক্তির উদ্ভব হবে, কালব গোত্র হবে তার মাতুল গোত্র। সে তাদের মোকাবেলায় একটি বাহিনী পাঠাবে। যুদ্ধে মাহদির অনুসারীরা কালব বাহিনীর ওপর বিজয়ী হবে। 

এ সময় যারা কালবের গণিমত নিতে উপস্থিত হবে না, তাদের জন্য আফসোস! মাহদি গনিমতের সম্পদ বণ্টন করবেন ও নবী করিম (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী মানুষের মধ্যে কার্য পরিচালনা করবেন, আর ইসলাম সারা পৃথিবীতে প্রসারিত হবে। অতঃপর তিনি সাত বছর অবস্থান করার পর মারা যাবেন। আর মুসলিমরা তার জানাজার সালাত পড়বে। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) বলেন, কেউ কেউ হিশাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, ৯ বছর অবস্থান।

ঈসা আ.-এর অবতরণ ও দাজ্জালকে হত্যা

হজরত নাউওয়াস ইবনে সামআন (রা.) সূত্রে বর্ণিত, একটি হাদিসে দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দাজ্জাল ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বের হবে এবং ডানে-বাঁয়ে গোটা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে থাকবে। তাই হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ঈমানের ওপর অটল থাকবে।’ দীর্ঘ হাদিস বর্ণনার একপর্যায়ে নবী করিম (সা.) বলেন, দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে দাজ্জালের অনিষ্ঠতার পর আল্লাহ ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-কে পাঠাবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ববর্তী এলাকার শুভ্র মিনারের কাছে আসমান থেকে দুজন ফেরেশতার কাঁধে চড়ে অবতরণ করবেন। তখন তার শ্বাস-প্রশ্বাস যে কাফেরের গায়ে লাগবে, সে মারা যাবে, আর তার দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে গিয়ে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস পড়বে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন, অতঃপর শামের বাবে লুদ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৩৭)

হাদিসের বাণী

যে আমলে পারস্পরিক ভালোবাসা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
যে আমলে পারস্পরিক ভালোবাসা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.)- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, তোমরা মুমিন না হওয়া অবধি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর তোমরা পরস্পর ভালোবাসা ব্যতীত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। আর আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব, যে আমল করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা-সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে? (সেটা হলো-) তোমরা পরস্পরে সালামের প্রচার-প্রসার করো।  (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৯৭০৯)

শিক্ষা ও বিধান 
১. জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শর্ত ঈমান। আর প্রকৃত ঈমান ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ সম্ভব নয়।

২. পূর্ণ ঈমানের আলামত হলো পারস্পরিক ভালোবাসা। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলমানরা একে অপরকে ভালোবাসবে—এটাই ঈমানের পরিপূর্ণতার লক্ষণ।

৩. মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কেননা হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা ও বিভেদ ঈমানকে দুর্বল করে।

৪. সালামের ব্যাপক প্রচলন ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। কারো সঙ্গে দেখা হলে আন্তরিকতার সঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা উচিত।

৫. সালাম একটি ইবাদত এবং সওয়াবের কাজ। এটি শুধু সামাজিক রীতি নয়; বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।

৬. মুসলিম সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার সহজ উপায় হলো সালামের প্রসার। সালামের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যে দোয়া পড়বেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যে দোয়া পড়বেন
সংগৃহীত ছবি

বিয়ে শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে বসবাসের সূচনা নয়; এটি দুটি হৃদয়, দুটি পরিবার এবং দুটি জীবনের পবিত্র বন্ধন। ইসলামের দৃষ্টিতে দাম্পত্য জীবন আল্লাহ তাআলার এক মহান নিয়ামত, যার ভিত্তি হলো ভালোবাসা, দয়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং তাকওয়া। তাই একজন মুসলমানের নতুন জীবনের শুরু হওয়া উচিত আল্লাহর রহমত, বরকত ও কল্যাণের দোয়ার মাধ্যমে। 

আমাদের সমাজে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানানোর নানা রকম বাক্য প্রচলিত আছে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন একটি দোয়া শিখিয়েছেন, যা শুধু শুভ কামনাই নয়; বরং দাম্পত্য জীবনের স্থায়ী সুখ, বরকত ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে সর্বোত্তম প্রার্থনা। তাই বিয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তা পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের সবার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। দোয়াটি হলো-

بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ

উচ্চারণ : ‘বারকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারকা আ’লাইকা, ওয়া জামাআ’ বাইনাকুমা ফি খাইরিন।’
অর্থ : ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৩০)

আল্লাহ যেভাবে আমলনামা পরিমাপ করবেন | কালের কণ্ঠ