• ই-পেপার

প্রতিশোধ গ্রহণের বদলে ক্ষমা করা সুন্নত

আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৭ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ২৭ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ১২ সফর, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৪৮ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১৯ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০৬ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ২৫ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের উপায় সৃষ্টিকে ভালোবাসা

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী
স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের উপায় সৃষ্টিকে ভালোবাসা

মানবজাতির কল্যাণ পৃথিবীর সব সৃষ্ট জীব মহান আল্লাহর পরিবারের সদস্য। প্রত্যেক সৃষ্ট জীবই মহান স্রষ্টার সৃষ্টিনৈপুণ্যের বহিঃপ্রকাশ। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র প্রতিটি প্রাণী তার অনেক আদরের এবং তিনি সব জীবের রিজিকদাতা। বৈচিত্র্যময় হাজারো মাখলুক সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি সাজিয়েছেন এ বিশাল জগৎসংসার। 

দয়াময় প্রভুর এসব আয়োজন মানবজাতির কল্যাণের জন্য এবং তিনিই এ জগৎসংসারের একমাত্র অভিভাবক। পাহাড়, নদী কিংবা সাগরতলের প্রতিটি প্রাণীর তিনি খবর রাখেন অতি কাছ থেকে। সব সৃষ্ট জীবই দিনরাত তার তসবিহ পাঠে মশগুল। 

মহান আল্লাহ আল কোরআনে ইরশাদ করেন, তারা কি লক্ষ করে না; তাদের মাথার ওপর উড়ন্ত পাখিদের প্রতি, তারা (কখনো) ডানা বিস্তারকারী এবং (কখনো) ডানা সংকোচনকারী? রহমান আল্লাহই তাদের স্থির রাখেন। তিনি সর্ব বিষয় দেখেন। (সুরা মুলক, আয়াত-১৯)।

মহান আল্লাহর বাণী : নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে। রাজত্ব এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। (সুরা তাগাবুন, আয়াত-০১)।

কোনো জীবকে কষ্ট দেওয়া মানে মহান মালিকের পরিবারকে কষ্ট দেওয়া। পক্ষান্তরে কোনো জীবের প্রতি দয়া করা মানে মহান স্রষ্টার পরিবারের প্রতি দয়া করা। আর যে মহান স্রষ্টার পরিবারের ওপর দয়ার্দ্র হয়, রাব্বুল আলামিন তার ওপর অসীম দয়ার ভাণ্ডার খুলে দেন। 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অনুগ্রহকারীদের প্রতি পরম করুণাময় অনুগ্রহ করে থাকেন। তোমরা দুনিয়াবাসীর ওপর অনুগ্রহ কর, এতে আসমানে অবস্থানকারী তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করবেন। (আবু দাউদ, তিরমিজি)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, নবীদের মধ্যে কোনো এক নবীকে একটি পিঁপড়া কামড়ালে তিনি পিঁপড়ার গোটা বস্তি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তা জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। এরপর মহান আল্লাহ তাঁর কাছে ওহি পাঠালেন, তোমাকে একটি পিঁপড়া কামড়াল, আর তুমি আল্লাহর প্রশংসাকারী একটি উম্মতকেই পুড়িয়ে ফেললে! (বুখারি, মুসলিম)।

যারা সৃষ্ট জীবের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করে, দয়াময় প্রভু তাদের দিকে ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলছিল; সে খুব পিপাসার্ত হয়ে পড়ল এবং সামনে একটি কুয়া পেল। সে তাতে নেমে পানি পান করল। 

কুয়া থেকে উঠে দেখল একটি কুকুর পিপাসায় জিব বের করে কাদামাটি চাটছে। লোকটি বুঝতে পারল পিপাসার কারণে আমার যে অবস্থা হয়েছিল কুকুরটিরও সে অবস্থা। এরপর সে আবার কুয়ায় নেমে নিজের পায়ের মোজায় পানি ভরে ওপরে নিয়ে এলো এবং কুকুরটিকে পান করাল। এ কারণে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করলেন এবং ক্ষমা করে দিলেন।

লেখক : খতিব, মাসজিদুল কোরআন জামে মসজিদ, কাজলা (ভাঙ্গা প্রেস), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

নিষিদ্ধ যে কাজে বান্দার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না

অনলাইন ডেস্ক
নিষিদ্ধ যে কাজে বান্দার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না
সংগৃহীত ছবি

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ সালাত বা নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)।

ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রিয় একটি আমল। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? নবীজি (সা.) বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০২)

তবে সালাত বা নামাজ পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য নামাজের মধ্যে থাকা রোকনগুলো সঠিকভাবে আদায় করা জরুরি। উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহ তাআলার (বান্দার জন্য) ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এ সালাতের জন্য ভালোভাবে অজু করবে, সঠিক সময়ে আদায় করবে এবং এর রুকু ও খুশুকে পরিপূর্ণরূপে করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে যে, তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে তা না করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা নেই। ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন। (মেশকাত, হাদিস : ৫৭০)

বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের নামাজের বিষয়ে তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি নবীজি (সা.) যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন উত্তম আমলের পথও। এরমধ্যে একটি হাদিসে ইসলামে নিষিদ্ধ এমন একটি কাজের কথা এসেছে, যা করলে মহান আল্লাহর দরবারে বান্দার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না।

নবীজির (সা.) কোনো এক স্ত্রীর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না আনাযী (রহ.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি আররাফ (গণক বা জ্যোতিষী) কাছে গেল এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, ৪০ রাত তার কোনো সালাত (নামাজ) কবুল করা হয় না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৬২৭)

সিরিয়ার প্রখ্যাত আরবি ভাষাবিজ্ঞানীর ইন্তেকাল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সিরিয়ার প্রখ্যাত আরবি ভাষাবিজ্ঞানীর ইন্তেকাল
শায়খ ড. মাজিন আবদুল কাদির। ছবি : সংগৃহীত

আরববিশ্বের প্রখ্যাত আরবি ভাষাবিজ্ঞানী শায়খ ড. মাজিন আবদুল কাদির আল-মুবারক ইন্তেকাল করেছেন। তিনি সিরিয়ার বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ও ‌‘শাইখুন নুহাত’ তথা আরবি ব্যাকরণবিদদের পুরোধা হিসেবে পরিচত। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৬ বছর। 

শনিবার (২৫ জুলাই) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে সিরিয়ার শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, আরবি ভাষা একাডেমি। এ ছাড়া তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ উসামা আর-রিফায়ি। 

ড. মাজিন আবদুল কাদির ১৯৩০ সালে সিরিয়ার দামেশকে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শায়খ আবদুল কাদির ছিলেন তৎকালীন দামেস্কেকে আরবি ভাষা ও ইসলামী শরিয়াহ বিষয়ক বড় পণ্ডিত। তার ভাই ছিলেন মুহাম্মদ আল-মুবারকও দামেশকের আরবি ভাষা একাডেমির অন্যতম সদস্য ছিলেন। 

দামেস্কেকের বড় বড় আলেমদের কাছে ড. মাজিন পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৫২ সালে দামেশক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে টিচার্স কলেজ থেকে শিক্ষা বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। তিনি শায়খ সাঈদ আফগানি, শায়খ মুস্তফা আজ-জারকা, শায়খ মুহাম্মদ বাহজাহসহ প্রখ্যাত আলেমদের সান্নিধ্যে পড়াশোনা করেন। পরে দামেশকের একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। 

১৯৫৪ সালে শিক্ষবৃত্তি নিয়ে মিসরের কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করেন এবং সেখান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর পিএচইডি গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল- ‘আর-রুম্মানি আন-নাহবি ফি দাওয়ি শরহিহি লিকিতাবি সিবাওয়াইহি’। ১৯৬৫ সালে সিরিয়ায় ফিরে দামেশক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষকতা করেন। 

ড. মাজিন আবদুল কাদির অ-আরবি ভাষীদের আরবি ভাষা পাঠদানের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দামেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় তিনি একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তা পরিচালনা করেন। 

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় তিনি রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়, লেবানন বিশ্ববিদ্যালয়, কাতার বিশ্ববিদ্যালয়, দুবাই ইসলামিক কলেজসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে আরবি ভাষা বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আরবি ভাষা অভিধান নিয়েও কাজ করেন। 

আরবি ভাষা ও গবেষণায় অনবদ্য অবদানের জন্য ২০২৫ সালে ড. মাজিন আবদুল কাদির সৌদি আরবের কিং সালমান গ্লোবাল একাডেমি ফর অ্যারাবিক ল্যাংগুয়েজ পুরস্কার লাভ করেন। 

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা

প্রতিশোধ গ্রহণের বদলে ক্ষমা করা সুন্নত | কালের কণ্ঠ