• ই-পেপার

মহানবী (সা.) কতবার রমজানের রোজা রেখেছিলেন

কোরআন থেকে শিক্ষা

পিপীলিকারও স্বজাতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে

ড. আমির বিন মুহাম্মদ মাদরি
পিপীলিকারও স্বজাতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নামল নামে একটি সুরা নাজিল করেছেন। আরবি নামল শব্দের অর্থ পিপীলিকা। পিপীলিকার বর্ণনা থাকায় সুরার নাম হয়েছে নামল। সুরায় একটি পিপীলিকার সংক্ষিপ্ত সংলাপ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সে নিজ জাতিকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করছে এবং আত্মরক্ষার পথ বাতলে দিচ্ছে, যা একই সঙ্গে স্বজাতির প্রতি দরদ ও দায়িত্ববোধের বার্তা দেয়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছল তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকা বাহিনী! তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী তোমাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পদতলে পিষে না ফেলে। সুলাইমান তার কথায় মৃদু হাসল।’ (সুরা : নামল, আয়াত : ১৮-১৯)

কোরআণের বর্ণনা অনুসারে একটি দুর্বল পিপীলিকা স্বজাতিকে সতর্ক করছে, তাদের উদ্বুদ্ব করছে এবং জাতিকে রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করছে। সে তাদের সামনে আসন্ন বিপদের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। প্রশ্ন হলো, একটি পিপীলিকা কি স্বজাতির প্রতি আমাদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল? ভেবে দেখুন! পিপীলিকা নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হয়নি, বরং সে তার জাতিকে নিয়ে চিন্তিত। সে বলেনি, আমি একাই বাঁচব, তোমাদেরকে মৃত্যুর মুখে ফেলে যাব।

ছোট হওয়ার পরও সে আওয়াজ নিচু রাখেনি, সে চিৎকার করে ডেকেছে, হে পিপীলিকার দল! যেন সবাই শোনে, সবাই সচেতন হয়। পরিবার, প্রতিবেশী ও স্বজাতির প্রতি পিপীলিকার এই দায়িত্ববোধ কি আমাদের লজ্জিত করে না?

কত মানুষ তার দায়িত্বে অবহেলা করছে, কত প্রহরী ঘুমিয়ে থেকে শত্রুকে সুযোগ করে দিচ্ছে, কত মানুষ পরিবারের বিপদ দেখেও চুপ থাকছে, অথবা নিরাপদে সরে গিয়ে বলছে, আমি পালিয়ে বেঁচেছি। তরুণ হলেও তোমার দায়িত্ব অনেক, একটিমাত্র পিপীলিকা যদি স্বজাতিকে বাঁচাতে পারে, তাহলে একটি মানুষ কেন তাদের রক্ষা করতে পারবে না? তুমি নিজেকে ছোট ও বিচ্ছিন্ন ভেবো না, বোলো না—এতে আমার কি?

প্রতিটি মুসলমান দ্বিন ও উম্মাহর প্রতি দায়িত্বশীল। সুতরাং তোমার কারণে যেন ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতি না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

আত্মমুখী ও স্বার্থপরতার এই সময়ে কত মানুষ তৃপ্ত হয়ে ঘুমায় এবং তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে! কত কর্মজীবী নিজ প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস দেখেও নির্বিকার থাকে, অথচ সে বেতনও গ্রহণ করে! কত কর্মকর্তা মানুষকে বিপদে ফেলে নিজে আনন্দের সঙ্গে দিন কাটায়! কত আলেম ও ধর্মপ্রচারক নিজের পদ-পদবি ও সুবিধা রক্ষার জন্য অনাচার দেখেও চুপ থাকে! এসব মানুষ কি পিপীলিকাকে দেখে লজ্জিত হয় না? সে কিন্তু নিজের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে স্বজাতির প্রতি ঈমানদারি দেখিয়েছিল।

ঘটনার শেষ হয়েছে এভাবে—‘সুলাইমান তার কথা শুনে মৃদু হাসল।’ আল্লাহর নবীর এই হাসি তাচ্ছিল্যের ছিল না, এই হাসি ছিল বিস্ময় ও মুগ্ধতার। তিনি পিপীলিকার প্রজ্ঞা, মমতা ও বীরত্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। একজন নবী পিপীলিকার গুণে মুগ্ধ হয়েছেন।

আপনি সতর্ককারী হোন! আপনি কি আপনার পরিবারের দিকে বিপদ আসতে দেখছেন? আপনি কি ফিতনা ও বিকৃতির গন্ধ পাচ্ছেন? আপনি কি সমাজে দুর্নীতির সয়লাব দেখছেন? দয়া করে চুপ থাকবেন না। আপনি সতর্ককারী হোন, আপনি সত্যের ধ্বনি হোন, প্রকম্পন সৃষ্টিকারী কণ্ঠস্বর হোন, যেভাবে পিপীলিকা হয়েছিল। আজ আমরা যারা স্বজাতির ব্যাপারে উদাসীন, যারা ভোগ-বিলাসিতায় সন্তুষ্ট, যারা আত্মমগ্ন হয়ে আছি, আসুন, আমরা উদাসীনতা পরিহার করি। কেননা এখন আমরা পিপীলিকারও অধম!

হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, ‘যে অন্যায় দেখে তা (চুপ থেকে) অনুমোদন করে, সে যেন নিজ পরিবারকে তাতে লিপ্ত করল।’ হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে স্বজাতির জন্য সতর্ককারী করুন, পরিবারের জন্য কল্যাণকামী করুন, আমাদের দ্বারা যেন ইসলামের কোনো ক্ষতি না হয়, আমরা যেন দায়িত্বে অবহেলা না করি। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.), পরিবার ও সকল সাহাবির প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন। আমিন।

ভাবানুবাদ : মুফতি আবদুল্লাহ নুর

নিজ হাতে হালাল উপার্জনের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ

ইকবাল কবীর মোহন
নিজ হাতে হালাল উপার্জনের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ
সংগৃহীত ছবি

একজন মুসলিমের জীবনে হালাল রুজি উপার্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মুসলিম জীবনে আমলের পবিত্রতা, ইবাদত কবুল হওয়া, তার সম্পদে বরকত, এমনকি আখিরাতের জীবনে সফলতা হালাল রুজির ওপর নির্ভর করে।

ইসলামে হালাল উপার্জনের অর্থ হলো বৈধ আয় বা রুজি। সেই বৈধ জিনিস, যা নিষেধাজ্ঞার বন্ধন থেকে মুক্ত এবং শরিয়ত যে কর্মের প্রতি অনুমোদন দেয়, তা-ই হলো হালাল। হাদিসের পরিভাষায়, ‘আল্লাহ তাঁর কিতাবে যেসব জিনিস হালাল করেছেন তা হালাল এবং যেসব জিনিস হারাম করেছেন তা হারাম। আর যেসব জিনিস সম্পর্কে তিনি নীরব থেকেছেন তা তিনি ক্ষমা করেছেন।’ (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস : ১৭২৬)

মনে রাখতে হবে, সৎপথে উপার্জিত রিজিক মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পূর্বশর্ত।

হালাল রুজি সন্ধান করা ফরজ
হালাল পথে জীবিকা উপার্জনকে ইসলামে অত্যন্ত সম্মানের কাজ বলে গণ্য করা হয়েছে। এটি একটি ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে হালাল জীবিকা গ্রহণের জন্য আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘হে মানবজাতি! তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬৮)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘হে রাসুলরা! তোমরা পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫১)

আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা.) হালাল জীবিকাকে ফরজ ইবাদত বলে গণ্য করেছেন। আবদুল্লাহ বিন মাসুদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হালাল জীবিকার সন্ধান করা ফরজ ইবাদতের পরই ফরজ (অপরিহার্য কর্তব্য)।’ এর অর্থ হলো, হালাল জীবিকা অর্জনের জন্য যে কর্মপ্রচেষ্টা, গুরুত্বের প্রশ্নে নামাজ, রোজা, হজ ইত্যাদি অপরিহার্য (ফরজ) ধর্মীয় ইবাদতগুলোর পরই তার স্থান।

হালাল উপার্জন জিহাদের সমতুল্য
মহানবী (সা.) হালাল উপার্জনকে জিহাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কাব ইবনে আজরা (রা.) এ প্রসঙ্গে বলেন, একবার নবীজি (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে বসে ছিলেন। এমন সময় এক সাহাবি আমাদের সামনে দিয়ে তড়িঘড়ি করে চলে গেল। তার ব্যস্ততা দেখে কোনো কোনো সাহাবি আফসোসের সুরে বলেন—আহা রে, লোকটার এই ব্যস্ততা যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো।

এ কথা শুনে মহানবী (সা.) বলেন, সাহাবিরা শোনো! তার তৎপরতা যদি নিজের সন্তানের জন্য হয়ে থাকে তাহলে সে আল্লাহর পথেই রয়েছে। অথবা তার ব্যস্ততা যদি মা-বাবার জন্যও হয়ে থাকে, তাহলে সে আল্লাহর রাস্তায় রয়েছে। কিংবা সে যদি হালাল উপার্জনের জন্য বের হয়ে থাকে, তাহলেও সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত অবস্থায় আছে। (আল মুজামুল আওসাত : ৮৬১৯)

পবিত্র কোরআনেও হালাল রিজিক অন্বেষণকে জিহাদের সমতুল্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ জানেন, তোমাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সম্পদ সন্ধানে (জীবিকা উপার্জনে) দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করবে আর কেউ কেউ আল্লাহর পথে সংগ্রামে ব্যস্ত থাকবে।’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ২০)

হালাল রুজি ইবাদত কবুলের শর্ত
হালাল পথে জীবিকা উপার্জন করা এবং তা ভক্ষণ করা ছাড়া ইবাদত কবুল হয় না। সাইয়েদ বিন ইয়াজিদ (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, পাঁচটি গুণে ইলমের পূর্ণতা রয়েছে। আর তা হলো আল্লাহকে চেনা, হক বোঝা, আল্লাহর জন্য ইখলাসপূর্ণ আমল করা, সুন্নাহ মোতাবেক আমল এবং হালাল খাদ্য গ্রহণ করা। আর এর একটিও নষ্ট হলে ইবাদত বা আমল কবুল হবে না। (তাফসিরে কুরতুবি : ২০৮)

হারাম উপার্জনকারীর জন্য জাহান্নাম
হালাল রুজির সন্ধান ও ভক্ষণ করা যেমন জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজ করে, তেমনি হারাম উপার্জন এবং সেই উপার্জন দিয়ে বস্তু ভক্ষণ করাকে জাহান্নামে প্রবেশের পথ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, যে দেহের গোশত হারাম মালে গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। হারাম মালে গঠিত দেহের জন্য জাহান্নামই সমীচীন। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ২৭৭২)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা) বলেন, হারাম দ্বারা পরিপুষ্ট দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৭৮৭)

নিজ হাতে হালাল উপার্জনের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ
হালাল জীবিকা উপার্জন করা মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরজ করা হয়েছে। আর এই বৈধ উপার্জন স্বহস্তে করার মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি স্বহস্তে উপার্জিত হালাল রিজিক আহার করল, সে বিদ্যুত্গতিতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৭২)

অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি স্বহস্তে পরিশ্রম করে হালাল রিজিক আহার করল, তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খোলা থাকবে। সে যেই দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। মহানবী (সা.) আরো বলেন, যে ব্যক্তি স্বহস্তে পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করে জীবন ধারণ করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং তাকে কখনো শাস্তি দেবেন না।

রিজিক হালাল হওয়ার শর্ত
মানুষ জীবনে যা যা ভোগ করে তার সবই রিজিক। হালাল রিজিক ইবাদত কবুলের প্রধান শর্ত। আর রুজি হালাল না হলে মানুষের জীবনই বৃথা। কেননা রিজিক হালাল বা বৈধ না হলে আখিরাতের জীবনে জান্নাত লাভ করা অসম্ভব। তাই দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর যাবতীয় ফরজ ইবাদত ও অন্যান্য আদেশ-নিষেধ পালন করার পাশাপাশি বৈধ পন্থায় জীবিকা উপার্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, রিজিক পবিত্র বা হালাল হবে কিভাবে। রিজিক হালাল হওয়ার দুটি শর্ত রয়েছে।

প্রথমত, ব্যবহার্য, ভোগ্যবস্তু বা বিষয়টি হালাল বা শরিয়তে অনুমোদিত হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রিজিক অর্জনের পথ বা মাধ্যম হালাল বা বৈধ হতে হবে। এই দুয়ের কোনো একটির ব্যত্যয় ঘটলে ওই রিজিক হালাল হবে না।

তাই আমাদের যাবতীয় হারাম জীবিকা ও হারাম উপার্জন, যেমন—সুদি কারবার, সুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা, ওজনে কম দেওয়া, ঘুষ খাওয়া, চুরি ও ডাকাতি করা, বেচাকেনায় প্রতারণা করা, মিথ্যা শপথ করাসহ যাবতীয় হারাম ও নিষিদ্ধ কর্ম থেকে বিরত থাকা জরুরি।

কারণ পরকালে মানুষের উপার্জিত সম্পদ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার সামনে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, আখিরাতে মানুষের পা একবিন্দুও নড়তে পারবে না, যতক্ষণ না সে পাঁচটি প্রশ্নের জবাব দেবে। তার মধ্যে দুটি হলো, সে কোন পথে অর্থ বা জীবিকা উপার্জন করেছে এবং কোন পথে তা ব্যয় করেছে।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল জীবিকা উপার্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ জুন ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ জুন ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৫ জিলহজ ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জুমার সময় শুরু ১২টা ০২ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৩৮ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৬ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১০ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের তাগিদ

মাওলানা আল আমিন সরকার
ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের তাগিদ

মানুষের বানানো কোনো আইন দিয়ে সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করা পুরোপুরি সম্ভব নয়। মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আত্মসমর্পণ করতে হয় আল্লাহর বানানো আইনের কাছে। কোরআনের কাছে। নবীর কাছে। এমন সরল স্বীকারোক্তির পর যে কেউ নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন, আমি নিজেকে আল্লাহর আইনের কাছে, কোরআনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, নাকি লোভ-মোহ-স্বার্থের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি; আমি কি কোরআনের আইন অনুযায়ী শান্তির ফেরিওয়ালা হয়েছি, নাকি হানাহানি, মারামারি আর রাহাজানির কালো ডোবায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি।

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানবতার কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও শান্তি নিশ্চিতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অন্যায় ও সীমা লঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন’ (সুরা নাহল, আয়াত ৯০)

এই নীতির আলোকে একজন মুসলমানকে ধর্ষণ, হত্যা, গুম, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সুদ, ঘুষ, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট, মুনাফাখোরি, মজুদদারিসহ সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা ফরজ। কারণ এসব অপরাধ শুধু আইন ভঙ্গ করে না; বরং সমাজের শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধও ধ্বংস করে দেয়।

সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে ইনসাফভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান নিরাপদ থাকে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বুদ্ধিমানগণ! হত্যার বদলে হত্যার (কিসাস) মধ্যেই তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে’ (সুরা বাকারা-১৭৯)

একইভাবে ইসলাম মানুষের জীবনের মর্যাদাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে একজন নিরপরাধ মানুষ হত্যার চেয়েও হালকা।’

তবে ইসলাম কখনো আবেগনির্ভর বিচার বা মবকে সমর্থন করে না। কোনো অপরাধের উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া ইসলামে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনরোষের নামে অনেক সময় প্রকৃত বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন ন্যায়বিচার বর্জন করতে প্ররোচিত না করে। ন্যায়বিচার করো, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী’ (সুরা মায়েদা-৮)।

সমাজের কল্যাণ, অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি নারীর প্রকৃত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষেও দৃঢ়ভাবে অবস্থান করেছে ইসলাম। ইসলাম নারীকে শিক্ষা, সম্পদ, ভরণপোষণ, সম্মান ও নিরাপত্তার অধিকার দিয়েছে।

মা হিসেবে সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং স্ত্রী হিসেবে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করেছে। অথচ আধুনিকতার নামে অনেক সময় নারীকে ভোগবাদী সংস্কৃতির উপকরণে পরিণত করা হচ্ছে, যা প্রকৃত সম্মান নয়। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’

একইভাবে সুদ, ঘুষ ও অর্থনৈতিক লুটপাটের বিরুদ্ধেও ইসলাম দাঁড়িয়েছে শক্তভাবে। সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ এটাই। এসব অন্যায় মানুষের মধ্যে বৈষম্য, শোষণ ও অবিচার বৃদ্ধি করে। বাজার সিন্ডিকেট, পণ্য মজুত এবং কৃত্রিম সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এবং মানবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন’ (সুরা বাকারা-২৭৫)।

মহানবী (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ের ওপর লানত করেছেন।

ন্যায় ও মানব কল্যাণের প্রশ্নে জাতি, বর্ণ, ধর্ম ও শ্রেণিভেদে বৈষম্য করার সুযোগ নেই। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সব মানুষই ন্যায়বিচার ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজন, দমনপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সে-ই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক তাকওয়াবান’ (সুরা হুজুরাত-১৩)

তেমনি ইসলাম অশ্লীলতা, নৈতিক অবক্ষয় ও অবাধ সম্পর্কের বিপক্ষে; পরিবার, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে। কারণ সুস্থ পরিবারই একটি সুস্থ সমাজ ও সভ্যতার ভিত্তি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

মহানবী (সা.) কতবার রমজানের রোজা রেখেছিলেন | কালের কণ্ঠ