• ই-পেপার

নিজ হাতে হালাল উপার্জনের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ

জুমার দিন যেসব কাজ পরিহার করা উচিত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন যেসব কাজ পরিহার করা উচিত
সংগৃহীত ছবি

মহান আল্লাহ দিন ও রাত সৃষ্টি করেছেন। সব দিনের মধ্যে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। কোরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তা হলো—এক. আল্লাহ তাআলা এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন, তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন, চার. এই দিনে এমন সময় আছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ না সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না, পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)

জুমার দিনটি যেমন মর্যাদা ও ফজিলতে পরিপূর্ণ, তেমনি এই দিনে কিছু নিষিদ্ধ কাজও রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যেগুলো ইসলামে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। জুমার দিনের নিষিদ্ধ কাজ হলো—

আজান হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকা : জুমার আজান হওয়ার পর কেনাবেচা করা এবং দুনিয়াবি সব কাজ নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (সুরা : জুমুআ, আয়াত : ৯)

এখানে বেচাকেনা ও ব্যবসা বলতে বোঝানো হয়েছে যাবতীয় ব্যস্ততাকে, তা যেকোনো প্রকারেরই হোক না কেন। জুমার আজানের পর তা ত্যাগ করতে হবে। খুতবা চলাকালীন ঘাড় মাড়িয়ে যাওয়া : খুতবা চলা অবস্থায় মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যাওয়া নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় দেখলেন জনৈক ব্যক্তি মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছে। তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি বসো, তুমি লোকদের কষ্ট দিচ্ছ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১১১৮)

খুতবার সময় দুই হাঁটু উঁচু করে বসা : অনেকে দুই হাঁটু খাড়া করে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে বা কাপড় পেঁচিয়ে বসেন। একে আরবিতে ইহতেবা বলা হয়। খুতবা চলাকালীন এভাবে বসা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালে কাউকে হাঁটু খাড়া করে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।’(আবু দাউদ, হাদিস : ১১১০)

খুতবার সময় অনর্থক কথা বলা ও কাজ করা : খুতবার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি। খুতবার সময় অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেকেই খুতবার সময় মোবাইল টেপা, মেসেজ চেক করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা ইত্যাদি অনর্থক কাজ করেন। এ কাজগুলো জুমার সওয়াব বাতিল করে দিতে পারে। যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন যখন তোমার সাথিকে চুপ থাক বলবে, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তাহলে তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৩৪)

খুতবা চলাকালীন ঘুমানো : খুতবার সময় ঘুম চলে এলে অজু ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে এবং খুতবার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,  ‘যদি মসজিদে কোনো ব্যক্তি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তবে সে যেন স্বীয় স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র সরে বসে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১১১৯)

শুধু জুমার দিন রোজা রাখা : শুধু জুমার দিন নির্দিষ্ট করে সিয়াম পালন করা জায়েজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমার দিন সিয়াম পালন না করে। তবে তার আগে এক দিন অথবা পরের দিন (মিলিয়ে রাখবে)।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯৮৫)
 

জুমার দিন করণীয় ১৫ আমল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জুমার দিন করণীয় ১৫ আমল
সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাই জুমার দিনে মুমিনের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব এক সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ দিনের বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল আছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে পাওয়া যায়। নিম্নে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৬৮)

জুমার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করতেন : কারণ এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা, কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসব হবে জুমার দিন। সে জন্য এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা : ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর এদিনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অলসতা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা : এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে, সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা : অন্য দিনের চেয়ে এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : জুমার দিনের ফজিলত লাভে  এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত। 

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা : ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস : ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা : নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো : ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা : এদিন মহান রবের পক্ষে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা : জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৮৩)

জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা : বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৮)

বেশির ভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে নিয়ে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)
 

কোরআন থেকে শিক্ষা

পিপীলিকারও স্বজাতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে

ড. আমির বিন মুহাম্মদ মাদরি
পিপীলিকারও স্বজাতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করে
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নামল নামে একটি সুরা নাজিল করেছেন। আরবি নামল শব্দের অর্থ পিপীলিকা। পিপীলিকার বর্ণনা থাকায় সুরার নাম হয়েছে নামল। সুরায় একটি পিপীলিকার সংক্ষিপ্ত সংলাপ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সে নিজ জাতিকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করছে এবং আত্মরক্ষার পথ বাতলে দিচ্ছে, যা একই সঙ্গে স্বজাতির প্রতি দরদ ও দায়িত্ববোধের বার্তা দেয়। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছল তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকা বাহিনী! তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী তোমাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পদতলে পিষে না ফেলে। সুলাইমান তার কথায় মৃদু হাসল।’ (সুরা : নামল, আয়াত : ১৮-১৯)

কোরআণের বর্ণনা অনুসারে একটি দুর্বল পিপীলিকা স্বজাতিকে সতর্ক করছে, তাদের উদ্বুদ্ব করছে এবং জাতিকে রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করছে। সে তাদের সামনে আসন্ন বিপদের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। প্রশ্ন হলো, একটি পিপীলিকা কি স্বজাতির প্রতি আমাদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল? ভেবে দেখুন! পিপীলিকা নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হয়নি, বরং সে তার জাতিকে নিয়ে চিন্তিত। সে বলেনি, আমি একাই বাঁচব, তোমাদেরকে মৃত্যুর মুখে ফেলে যাব।

ছোট হওয়ার পরও সে আওয়াজ নিচু রাখেনি, সে চিৎকার করে ডেকেছে, হে পিপীলিকার দল! যেন সবাই শোনে, সবাই সচেতন হয়। পরিবার, প্রতিবেশী ও স্বজাতির প্রতি পিপীলিকার এই দায়িত্ববোধ কি আমাদের লজ্জিত করে না?

কত মানুষ তার দায়িত্বে অবহেলা করছে, কত প্রহরী ঘুমিয়ে থেকে শত্রুকে সুযোগ করে দিচ্ছে, কত মানুষ পরিবারের বিপদ দেখেও চুপ থাকছে, অথবা নিরাপদে সরে গিয়ে বলছে, আমি পালিয়ে বেঁচেছি। তরুণ হলেও তোমার দায়িত্ব অনেক, একটিমাত্র পিপীলিকা যদি স্বজাতিকে বাঁচাতে পারে, তাহলে একটি মানুষ কেন তাদের রক্ষা করতে পারবে না? তুমি নিজেকে ছোট ও বিচ্ছিন্ন ভেবো না, বোলো না—এতে আমার কি?

প্রতিটি মুসলমান দ্বিন ও উম্মাহর প্রতি দায়িত্বশীল। সুতরাং তোমার কারণে যেন ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতি না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

আত্মমুখী ও স্বার্থপরতার এই সময়ে কত মানুষ তৃপ্ত হয়ে ঘুমায় এবং তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে! কত কর্মজীবী নিজ প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস দেখেও নির্বিকার থাকে, অথচ সে বেতনও গ্রহণ করে! কত কর্মকর্তা মানুষকে বিপদে ফেলে নিজে আনন্দের সঙ্গে দিন কাটায়! কত আলেম ও ধর্মপ্রচারক নিজের পদ-পদবি ও সুবিধা রক্ষার জন্য অনাচার দেখেও চুপ থাকে! এসব মানুষ কি পিপীলিকাকে দেখে লজ্জিত হয় না? সে কিন্তু নিজের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে স্বজাতির প্রতি ঈমানদারি দেখিয়েছিল।

ঘটনার শেষ হয়েছে এভাবে—‘সুলাইমান তার কথা শুনে মৃদু হাসল।’ আল্লাহর নবীর এই হাসি তাচ্ছিল্যের ছিল না, এই হাসি ছিল বিস্ময় ও মুগ্ধতার। তিনি পিপীলিকার প্রজ্ঞা, মমতা ও বীরত্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। একজন নবী পিপীলিকার গুণে মুগ্ধ হয়েছেন।

আপনি সতর্ককারী হোন! আপনি কি আপনার পরিবারের দিকে বিপদ আসতে দেখছেন? আপনি কি ফিতনা ও বিকৃতির গন্ধ পাচ্ছেন? আপনি কি সমাজে দুর্নীতির সয়লাব দেখছেন? দয়া করে চুপ থাকবেন না। আপনি সতর্ককারী হোন, আপনি সত্যের ধ্বনি হোন, প্রকম্পন সৃষ্টিকারী কণ্ঠস্বর হোন, যেভাবে পিপীলিকা হয়েছিল। আজ আমরা যারা স্বজাতির ব্যাপারে উদাসীন, যারা ভোগ-বিলাসিতায় সন্তুষ্ট, যারা আত্মমগ্ন হয়ে আছি, আসুন, আমরা উদাসীনতা পরিহার করি। কেননা এখন আমরা পিপীলিকারও অধম!

হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, ‘যে অন্যায় দেখে তা (চুপ থেকে) অনুমোদন করে, সে যেন নিজ পরিবারকে তাতে লিপ্ত করল।’ হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে স্বজাতির জন্য সতর্ককারী করুন, পরিবারের জন্য কল্যাণকামী করুন, আমাদের দ্বারা যেন ইসলামের কোনো ক্ষতি না হয়, আমরা যেন দায়িত্বে অবহেলা না করি। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.), পরিবার ও সকল সাহাবির প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন। আমিন।

ভাবানুবাদ : মুফতি আবদুল্লাহ নুর

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ জুন ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ জুন ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৫ জিলহজ ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জুমার সময় শুরু ১২টা ০২ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৩৮ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫০ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৬ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১০ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।