• ই-পেপার

তিন বছরের বেশি কোমায় থাকার পর থাই রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভার মৃত্যু

১৪ জুন হায়দরাবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করবে সিজেপি

অনলাইন ডেস্ক
১৪ জুন হায়দরাবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করবে সিজেপি
সংগৃহীত ছবি

পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নয়াদিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি করার এক সপ্তাহের মাথায় এবার দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দলের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি সূচিতে জানানো হয়, ১১ জুন থেকে ২০ জুনের মধ্যে দেশের সাতটি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে হায়দরাবাদেও একটি সমাবেশ রয়েছে। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন সকাল ১০টা থেকে হায়দরাবাদের ধরনা চকে এই বিক্ষোভ শুরু হবে।

সূচি প্রকাশের সময় ককরোচ জনতা পার্টি তাদের সমর্থকদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দলটি বলেছে, ‘সিজেপির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেশজুড়ে চলছে। আমরা যখন আপনার শহরে আসব, তখন আমাদের সঙ্গে যোগ দিন।’

ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেন অভিজিৎ দিপকে। চলতি বছরের ১৬ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে দল গঠনের পেছনে রয়েছে একটি বিতর্কিত মন্তব্য। দলটি প্রতিষ্ঠার আগের দিন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ১৫ মে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কিছু আন্দোলনকারী ও চাকরিপ্রার্থী বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ এবং ‘সমাজের পরজীবী’ বলে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন অংশে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকেই মন্তব্যটিকে অপমানজনক ও সংবেদনশীলতাহীন বলে আখ্যা দেন। এর পর দিনই অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেন।

দল গঠনের কয়েক সপ্তাহ পর ৬ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করে সিজেপি। সেখানে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন এবং পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। দলটির দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে হওয়া অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

প্রথম কর্মসূচির পর এবার দেশের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। এর মাধ্যমে পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় দলটি।
 

ইরানে ট্রাম্পের হামলা স্থগিত, বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে ট্রাম্পের হামলা স্থগিত, বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করায় আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায় এবং স্বর্ণের দামও বেড়ে যায়।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা এখন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি বড় আঞ্চলিক জোটও এই চুক্তির প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান এই চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সাধারণত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডে অর্থ রাখেন। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং এর মূল্যও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যখন যুদ্ধ বা সংঘাত কমার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা দেখা দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ যেমন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। এর ফলে ডলারের চাহিদা কমে যায় এবং দামও নিচে নামে। বৃহস্পতিবার ঠিক এমনটিই ঘটেছে। ট্রাম্পের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাতে ইরানের ওপর ‘খুব কঠিন আঘাত’ হানতে পারে। এ ছাড়া তিনি ইরানের জ্বালানী অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের হামলার পর পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পরে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে ডলারের মূল্য ০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে ০ দশমিক ৭৯৪৮-এ নেমে আসে। দিনের শুরুতে যে সামান্য লাভ হয়েছিল, তাও হারিয়ে ফেলে ডলার। পাশাপাশি টানা চার দিনের উত্থানের ধারাও থেমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইয়েন, ইউরোসহ কয়েকটি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপকারী ডলার সূচক ০ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৯৯ দশমিক ৬৪-এ নেমে আসে। এটি প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান।

মনেক্স ইউএসএর ট্রেডিং বিভাগের পরিচালক হুয়ান পেরেজ বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন, যেখানে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ে আবার কিছু সময় পর তা কমেও যায়। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে ডলার শক্তিশালী হয়। কিন্তু যখন মনে হয় যুদ্ধ থেমে যেতে পারে এবং শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ে। এর ফলে ডলারের চাহিদা কমে যায়।

ব্যানকবার্ন গ্লোবাল ফরেক্সের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মার্ক চ্যান্ডলারও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি থেকে সরে এসে শান্তির সম্ভাবনার কথা বলায় বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নিতে শুরু করেছেন। ফলে তারা শেয়ার ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কিনছেন এবং ডলার বিক্রি করছেন।


ডলারের দুর্বলতার কারণে ইউরো, পাউন্ড ও অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মতো অন্যান্য প্রধান মুদ্রার দাম বেড়েছে।

ইউরোর মূল্য ০ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৫৮২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও দিনের শুরুতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর পর ইউরো কিছুটা দুর্বল হয়েছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলার লক্ষ্যেই সুদের হার বাড়ানো হয়।

ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪১৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দাম ০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৭০৪৮ ডলারে ওঠে।

অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের মূল্য ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৯ দশমিক ৭৩ ইয়েনে পৌঁছায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই হার এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে জাপান সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করে। এর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দিন শেষে সূচকটি ২ দশমিক ৫ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও কমেছে। ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ৮ দশমিক ৭ বেসিস পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৪৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে শেয়ারবাজারে গেলে বন্ডের চাহিদা ও মুনাফার হারে পরিবর্তন দেখা যায়।

ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ২০৯ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে। 

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বে প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাজারের ধারণা, সেখানে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হবে। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ অর্থনীতিবিদও মনে করছেন, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে আর্থিক বাজারের অনেক ব্যবসায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ধরে বিনিয়োগ কৌশল সাজাচ্ছেন।

এদিকে আগামী সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ১৫ ও ১৬ জুনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানা গেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেও গভীরভাবে নজর রাখছেন।

ইউরোপে ৪ বছরে তাপপ্রবাহে দুই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপে ৪ বছরে তাপপ্রবাহে দুই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু
ছবি : রয়টার্স

গত চার বছরে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই তাপপ্রবাহ দিন দিন আরো মারাত্মক জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্লিনে হালনাগাদকৃত ‘তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা নির্দেশিকা’ প্রকাশের অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. হান্স ক্লুগে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের একটি সমন্বিত, শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু কমাতে নতুন নির্দেশিকায় সরকারগুলোর জন্য কিছু প্রমাণ-ভিত্তিক পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে— তাপপ্রবাহের আগে থেকেই মানুষকে সচেতন করতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের আশ্রয়ের জন্য শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন, শহর অঞ্চলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নগর সবুজায়ন উদ্যোগ বা গাছপালা বাড়ানো এবং বৃদ্ধ ও অসুস্থদের মতো সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণদের সহায়তা নিশ্চিত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরো জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পানি পান করা বা সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার মতো ব্যক্তিগত সচেতনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই বিশাল পদ্ধতিগত সংকট মোকাবিলায় শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের বড় উদ্যোগ। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান টেনে ডক্টর হান্স ক্লুগে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য তাপজনিত মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনা।’

বর্তমানে বিশ্বের অন্য যেকোনো মহাদেশের চেয়ে ইউরোপ দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে বয়স্ক মানুষ এবং আগে থেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

সূত্র : গালফ নিউজ

‘বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা যুদ্ধাপরাধ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা যুদ্ধাপরাধ’
আদিত্য শর্মা ও পালাউ পতাকাবাহী জাহাজ এমটি সেত্তেবেলোয়

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে আচ্ছন্ন রাজেশ শর্মা। গত বুধবার ওমান উপকূলে পালাউ পতাকাবাহী জাহাজ এমটি সেত্তেবেলোয় মার্কিন হামলায় নিহত তিন নাবিকের একজন ছিলেন তার ছেলে আদিত্য শর্মা। মাত্র ২৩ বছর বয়সী আদিত্য প্রশিক্ষণার্থী ডেক ক্যাডেট ছিলেন। আদিত্যের অকাল মৃত্যুর জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন রাজেশ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপ রাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ এনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি দাবি জানান।

মাত্র চারদিনের ব্যবধানে ভারতীয় নাবিকদের পরিচালিত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনায় ওমান উপকূলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও উত্তাপ এনেছে।

গত সোমবার ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি মারিভেক্সে মার্কিন হামলার পর রাজেশ শর্মা তার ছেলে আদিত্যকে ফোন করেন। আদিত্য জানায়, আক্রান্ত জাহাজ থেকে তারা কিছুটা দূরে আছে এবং নিরাপদে আছে। সেটা ছিল সন্তানের সাথে তার শেষ কথা। বুধবার আদিত্য তার বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায়, আমরা ভালো আছি। তার এক ঘণ্টার মধ্যে আদিত্যের জাহাজ  সেত্তেবেলো হামলার শিকার হয়। ২৪ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। হারিয়ে যাওয়া তিন নাবিকের মধ্যে একজন ছিলেন আদিত্য। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার সেত্তেবেলোয় হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লীতে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিক্সকে তলব করে এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এই হামলাগুলোকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে  গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানায়। 

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক মিডিয়া ব্রিফিঙে বলেন, “আমরা আমাদের নাবিক সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। যখন ‘এমটি সেত্তেবেলো’ জাহাজে এই সুনির্দিষ্ট হামলাটি ঘটেছিল, তখনই আমরা মার্কিন পক্ষের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি।” 

কিন্তু সে নিন্দা ও প্রতিবাদে কাজ হয়নি। জয়সওয়াল যখন ব্রিফ করছেন, তখন ওমান উপকূলে হামলা হয় গিনি বিসাউয়ের পতাকাহী এমটি জলবীরে। এ জাহাজটিও মূলত ভারতীয় নাবিকরা পরিচালনা করেন। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার- মাত্র চারদিনের মধ্যে তিনটি জাহাজে হামলা এবং তিন নাবিকের প্রাণহানীর ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের পরিবারে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। 

নিহত নাবিক আদিত্য শর্মার বাবা রাজেশ শমা নিছক সন্তান হারানোর শোকে আবেগাপ্লুত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেননি। নিজের অভিযোগের পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি, ‘ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ করা অবশ্যই একটি যুদ্ধাপরাধ।’ 

ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কার্গো জাহাজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার অনেক উপায় আছে—আপনারা সেখানে সামরিক বাহিনী পাঠাতে পারতেন, নাবিকদের গ্রেপ্তার করতে পারতেন। কিন্তু প্রাণঘাতী মারাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করার কোনো অধিকার আপনাদের নেই।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর অস্বীকার করেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-সেন্টকম এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বারবার মার্কিন নির্দেশনা উপেক্ষা করা এবং ইরান থেকে তেল পরিবহনের কারণেই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার তরেছে এমটি সেত্তেবেলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তারা ভারতের তিন নাবিকের মৃত্যুর জন্য মার্কিন বাহিনীকেই দায়ী করেছেন। সেত্তেবেলোর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রাণহানির ঘটনায় জবাবদিহিতা এবং একটি স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ উপেক্ষা করেছে এবং ইরানের তেল পরিবহন করছিল— এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার আগে জাহাজের সাথে কোনো কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। ইরানের সাথে যোগাযোগ বা ইরানি তেল পরিবহনের অভিয়োগও সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে সেত্তেবেলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

কে সত্য বলছেন, তা নিয়ে হয়তো অনেক চাপানউতোর হবে। বিনা অপরাধে তিন বেসামরিক নাবিকের মৃত্যুর আসল সত্যটা হয়তো কখনোই জানা যাবে না। সত্য যাই হোক, একমাত্র সন্তান হারানোর শোক হয়তো কখনোই ভুলতে পারবেন না রাজেশ শর্মা।