পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নয়াদিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি করার এক সপ্তাহের মাথায় এবার দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দলের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি সূচিতে জানানো হয়, ১১ জুন থেকে ২০ জুনের মধ্যে দেশের সাতটি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে হায়দরাবাদেও একটি সমাবেশ রয়েছে। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন সকাল ১০টা থেকে হায়দরাবাদের ধরনা চকে এই বিক্ষোভ শুরু হবে।
সূচি প্রকাশের সময় ককরোচ জনতা পার্টি তাদের সমর্থকদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দলটি বলেছে, ‘সিজেপির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেশজুড়ে চলছে। আমরা যখন আপনার শহরে আসব, তখন আমাদের সঙ্গে যোগ দিন।’
ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেন অভিজিৎ দিপকে। চলতি বছরের ১৬ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে দল গঠনের পেছনে রয়েছে একটি বিতর্কিত মন্তব্য। দলটি প্রতিষ্ঠার আগের দিন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ১৫ মে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কিছু আন্দোলনকারী ও চাকরিপ্রার্থী বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ এবং ‘সমাজের পরজীবী’ বলে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন অংশে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকেই মন্তব্যটিকে অপমানজনক ও সংবেদনশীলতাহীন বলে আখ্যা দেন। এর পর দিনই অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের ঘোষণা দেন।
দল গঠনের কয়েক সপ্তাহ পর ৬ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করে সিজেপি। সেখানে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন এবং পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। দলটির দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে হওয়া অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
প্রথম কর্মসূচির পর এবার দেশের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। এর মাধ্যমে পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় দলটি।




