• ই-পেপার

সাতক্ষীরার আ. লীগ নেতা নজরুল কারাগারে, রিমান্ড শুনানি বুধবার

জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলায় সিরাজগঞ্জের সাবেক এমপি তানভীর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলায় সিরাজগঞ্জের সাবেক এমপি তানভীর গ্রেপ্তার
তানভীর ইমাম। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর গুলশানে ভ্যানচালক আব্দুল জব্বারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর ইমামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়। শুনানিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, তানভীর ইমামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জব্বার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিদের গুলির নির্দেশ প্রদান ও আর্থিক সহায়তা করার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তানভীর ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১৪ জুলাই তাকে গুলশান থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেন। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলশানের শাহাজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলন করছিল বৈষম্যবিরোধীরা। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী জব্বার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনকে আসামি করা হয়।

আদালতপাড়ায় আটক ৪ জন ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালতপাড়ায় আটক ৪ জন ৩ দিনের রিমান্ডে
ছবি: কালের কণ্ঠ

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত পাড়ায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইবনে খালিদ হোসেন তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে এ সংক্রান্ত শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন— মোস্তাকিম হোসেন (৫১), নূর আলম (৩৫), রুহুল আমিন (২৯) ও আনোয়ার হোসেন (৪৮)।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের দিন ধার্য ছিল। ওই শুনানি উপলক্ষে জুনাইদ আহমেদ পলকসহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যান্টিন গেট এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কতিপয় সদস্য ও সমর্থক সমবেত হয়। তারা জুনায়েদ আহমেদ পলককে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।

সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন হাতেনাতে ওই চারজনকে আটক করা হয় এবং বাকি ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা সদস্য পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আটকদের কোতোয়ালি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং অর্থ জোগানদাতা ও চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করতে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক : ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক : ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ হাইকোর্টের
সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ টুথপেস্টে  ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

মঙ্গলবার রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টির তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

তদন্ত কমিটিতে বুয়েটের একজন, সায়েন্স ল্যাবরেটরির একজন ও বিএসটিআই’র একজন বিশেষজ্ঞকে রাখতে বলা হয়েছে। আদালতে আজ রিটের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন নিজেই শুনানি করেন। 

পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। তাদের গবেষণায় ২৬টি নমুনায়, অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট খারিজ

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করে রিট খারিজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ এই রিট করেন।

রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আইনটিকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিট বিবাদী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের এখতিয়ার দিয়ে ১৯৭৩ সালের এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

এর মূল উদ্দেশ্য বা রেশিও লেগিস ছিল মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু পরবর্তীতে সম্পাদিত শিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে সমস্ত যুদ্ধবন্দীদের নিঃশর্ত প্রত্যাবাসন ঘটে।
ফলে এই আইনের অধীনে বিচারের সম্ভাবনা তখনই শেষ হয়ে যায়।

রিটে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে অকার্যকর আইনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনরুজ্জীবিত করা হয় এবং তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাদের টার্গেট করে ‘বিচারিক হত্যা’র মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলে এটি ব্যবহার করা হয়।

আবেদনকারীর মতে, এ আইনের প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) এবং ৩৫ অনুচ্ছেদের (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ) স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাছাড়া সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা কেবল হাইকোর্ট বিভাগেই আসন গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনা সংবিধান পরিপন্থি। কিন্তু তা করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিটে।