বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী ও রিয়েলিটি শো তারকা রাখি সাওয়ান্ত ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিয়ে এবং ধর্ম পরিবর্তনের কারণে বহুবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া রাখি পরে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর দ্বিতীয় বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে বর্তমানে তিনি কোন ধর্ম অনুসরণ করছেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানাননি।

রাখি সাওয়ান্তের আসল নাম নিরু ভেড়া। ১৯৭৮ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে একটি সাধারণ মারাঠি হিন্দু পরিবারে তার জন্ম। বাবার মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবার। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ব্যাকগ্রাউন্ড নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর সৎ বাবার পদবি সাওয়ান্ত গ্রহণ করেন। এরপর বলিউডে আইটেম গানের মাধ্যমে পরিচিতি পান এবং ‘ম্যায় হুঁ না’ ও ‘মাস্তি’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন।
২০০৯ সালের দিকে রাখি ও তার মা হিন্দু ধর্ম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল। তবে ধর্ম পরিবর্তনের পরও তিনি আগের মতোই বলিউড ও বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে কাজ চালিয়ে যান। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় তিনি খ্রিস্টান পরিচয়েই ছিলেন।
২০১৯ সালে রাখি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ভারতীয় রিতেশ সিংকে তিনি গোপনে বিয়ে করেছেন। দীর্ঘদিন এই বিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই রিতেশের অস্তিত্ব নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে ‘বিগ বস ১৫’-এ প্রথমবারের মতো রিতেশকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। তবে রিতেশের আগের বিয়ে নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ২০২২ সালের শুরুতে তাঁদের দাম্পত্যের ইতি ঘটে।
বিচ্ছেদের কিছুদিন পরই মহীশূরের বাসিন্দা আদিল খান দুররানির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান রাখি। আদিলকে বিয়ে করার আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ফাতিমা রাখেন। এ সময় তাকে বোরকা পরতেও দেখা যায়। ২০২২ সালের জুনে তাদের বিয়ে হলেও বিষয়টি কয়েক মাস গোপন রাখা হয়। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিকাহর ছবি প্রকাশ করে বিয়ের খবর জানান রাখি। যদিও শুরুতে আদিল এই বিয়ের কথা অস্বীকার করেছিলেন, পরে তিনি তা স্বীকার করেন।

তবে বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আদিল নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে রাখি জানতে পারেন তিনি পেশায় একজন চালক এবং মহীশূরের একটি বস্তিতে বসবাস করতেন। অভিযোগ, আদিল এসব তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাখি বলেন, ‘আদিল যদি শুরুতেই সত্যটা বলতেন, আমি তাকে মেনে নিতাম। কিন্তু এখন আর তা পারছি না।’

এরপর ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা থানায় আদিলের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা, প্রতারণা, পরকীয়া, অর্থ আত্মসাৎ ও তার অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেন রাখি। তিনি অভিযোগ করেন, আদিল তাকে মারধর করেছেন এবং তার অর্থ নিয়ে নিয়েছেন। একই দিন আদিলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে বন্ধু শারলিন চোপড়াকে নিয়ে আদিলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মহীশূরে গেলে রাখি আরো একটি বিষয় জানতে পারেন। তার দাবি, জন্মসূত্রে তিনি হিন্দু হওয়ায় আদিলের পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নিতে রাজি ছিল না।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে রাখি ও আদিলের দায়ের করা মামলাগুলো খারিজ করে দেয় বোম্বে হাইকোর্ট। এর মধ্য দিয়ে তাদের আইনি বিরোধেরও সমাপ্তি ঘটে।

২০২৬ সাল পর্যন্ত রাখি সাওয়ান্ত প্রকাশ্যে জানাননি, বর্তমানে তিনি কোন ধর্ম অনুসরণ করছেন। তিনি ইসলাম ধর্মেই আছেন, নাকি আবার খ্রিস্টধর্ম বা হিন্দুধর্মে ফিরে গেছেন—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাখি বলেন, ‘ভারতীয় ও পাকিস্তানিরা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারে না। আমি পাকিস্তানের মানুষকে ভালোবাসি, সেখানে আমার অনেক ভক্ত রয়েছে।’ তিনি আরো জানান, তার সম্ভাব্য পাত্র দোদি খান একজন অভিনেতা ও পুলিশ কর্মকর্তা।




/757979484_1085731567312452_5076861578208303284_n.jpg)
/b kona.jpg)
