• ই-পেপার

মানববন্ধনে আইনজীবীরা

আন্দোলনে গুলি চালিয়ে সরকার ফৌজদারি অপরাধ করেছে

পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খান

অনলাইন ডেস্ক
পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খান

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান খান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে এমরান খান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত হই। আমার ব্যক্তিগত কারণে উক্ত পদ হতে আজ পদত্যাগ করলাম।’

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমরান খান বলেন, ‘ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার ব্যক্তিগত ল চেম্বারের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এখন আমি ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসে সময় দিতে চাই। এ কারণে পদত্যাগ করেছি।’

মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

প্রি-কেস মেডিয়েশন বা ‘মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম’ নতুন মামলা করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ‘আশাব্যঞ্জক ফল’ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এই কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় অগ্রগতি হবে।’

আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে দেশের ১০ জেলায় ‘মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম’ উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচারব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা করার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।’

উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইলে নতুন করে এই কার্যক্রম চালু হলো। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ -এর ২১খ ধারা অনুসারে এখন থেকে এই জেলাগুলোতে নির্দিষ্ট ৭টি আইনের আওতায় আদালতে মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে গড়ে ৬২.০২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।’ আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।’

এই কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে না দেখে জনসেবামূলক চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানসহ বিভিন্ন জেলার লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।

‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক

অনলাইন ডেস্ক
‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক
সংগৃহীত ছবি

র‍্যাবের ও ডিজিএফআইয়ের বন্দিশালা তথা আয়নাঘর পরিদর্শনে যাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারক। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডিজিএফআইয়ের জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) ও র‍্যাবের টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলের বন্দিশালা পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও বিচারকেরা। সে সময় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) ও ডিফেন্সের লোকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লোকজন উপস্থিত থাকতে পারেন।

পরে এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ​আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশে অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন আয়নাঘরে রাখা হতো, যা জেআইসি বা টিএফআই সেল হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে র‍্যাব-১ এ টিএফআই সেল, কচুক্ষেতে ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরে জেআইসি ও ডিবি কার্যালয়ে কয়েকটি আয়নাঘরের সন্ধান রয়েছে।

মামলার স্বার্থে এসব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি আবেদন করেছি। আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ সম্মতি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি জানান, যেকোনো সময় দিন-তারিখ দেবেন ট্রাইব্যুনাল। পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে তারা নোটিশ করতে পারেন। এরপরই যৌথভাবে পরিদর্শন কার্যটি সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেআইসি ও টিএফআই সেলে গুম করার ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের বিচার চলছে।

মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আগামী ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মিলিটারি পুলিশের অধীনে রয়েছেন মোজাফফর হোসেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকায় আমরা তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু চাই। শুনানি শেষে তাকে ২৩ জুলাই হাজির করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।’

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গত ২০ জুলাই মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর (অব.) মোজাফফরের সহযোগীদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচারটা নিশ্চিত করা হবে।

প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যার পর প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রপ্তার করা হয়। পরদিন ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

আন্দোলনে গুলি চালিয়ে সরকার ফৌজদারি অপরাধ করেছে | কালের কণ্ঠ