• ই-পেপার

তাতার গল্প

  • ধ্রুব এষ

ফেউ

লেখা : ইমদাদুল হক মিলন, আঁকা : তানভীর মালেক

ফেউ

তোমাদের আঁকা

তোমাদের আঁকা
আদিব আরহাম, শ্রেণি : নার্সারি, রাজারবাগ আইডিয়াল স্কুল, ঢাকা

তোমাদের আঁকা

যায়নাব আক্তার নাবীলা, তৃতীয় শ্রেণি, মাদরাসাতুস সাহাবা (রা.), ঢাকা

প্রথমবার পৃথিবী দেখল লিলি

লেখা ও আঁকা : ফাঈকা নাঈমা হোসেন, দশম শ্রেণি, মির্জা আহমেদ ইস্পাহনী উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

প্রথমবার পৃথিবী দেখল লিলি

লন্ডনে বছরের সবচেয়ে বড় কার্নিভাল। চারদিকে হাজারো রঙিন আলো, আতশবাজিতে রাঙা আকাশ, মানুষের উচ্ছ্বাস আর আনন্দে মুখর পুরো শহর।

 সেই ভিড়ের মধ্যেই ছোট্ট লিলি মা-বাবার হাত শক্ত করে ধরে হাঁটছিল। চারপাশের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার কাছে নতুন। সে বারবার থেমে যাচ্ছিল, কখনো রঙিন বেলুনের দিকে, কখনো আলোয় সাজানো রাইডগুলোর দিকে, কখনো আবার আকাশজুড়ে ফুটে ওঠা আতশবাজির দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হচ্ছিল। আজ তার নবম জন্মদিন। মা-বাবা ভেবেছিলেন, কার্নিভালই হবে তার সবচেয়ে বড় উপহার। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, আসল উপহারটি অপেক্ষা করছিল অন্য কোথাও। কয়েক দিন আগেই লিলির চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জন্মান্ধ জীবনে আজই প্রথম সে পৃথিবীকে দেখতে পাচ্ছিল। তাই কার্নিভালের প্রতিটি আলো, প্রতিটি রং, প্রতিটি হাসি তার কাছে ছিল এক অন্য রকম অনুভূতি। হঠাৎ লিলি থেমে গেল। ধীরে ধীরে সে প্রথমে বাবার মুখের দিকে, তারপর মায়ের মুখের দিকে তাকাল। তার ছোট্ট চোখ দুটি বিস্ময়ে ভরে উঠল। কাঁপা গলায় সে শুধু বলল, ‘এত দিন...তোমাদের কণ্ঠস্বরই শুনে এসেছি। আজ প্রথমবার তোমাদের মুখ দেখলাম।’

‎মা আর বাবা আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। দুজনেই তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

‎লিলি মুচকি হেসে আকাশে ফুটে ওঠা রঙিন আতশবাজির দিকে তাকাল। অন্য জন্মদিনগুলোতে অনেকে তাকে বিভিন্ন উপহার দিয়েছে। কিন্তু আজ সবচেয়ে বড় উপহার ছিল এই পৃথিবী দেখতে পারা। আজ সে প্রথমবার পৃথিবী দেখেছে। ‎প্রথমবার রং দেখেছে। প্রথমবার নিজের মা-বাবার মুখ দেখেছে। ‎কার্নিভালের হাজারো আলো নিভে যাবে একদিন। কিন্তু সেই রাতের আলো লিলির জীবনে কোনো দিন নিভবে না।

 

 

 

রুপোর সিকি

মাহবুব লাভলু

রুপোর সিকি

বাড়ির পাশে সবুজ মাঠ

‎একটু দূরে দিঘির ঘাট।

‎রোদের ঝিলিক দিঘির জলে করছে ঝিকিমিকি

‎দিঘি তো নয়, ঠিক যেন এক বিশাল রুপোর সিকি।

‎মৃদু বাতাস ঢেউ খেলে যায়, শান্ত দিঘির জলে

‎শোল বোয়াল আর টেংরা পুঁটি একত্রে সব চলে।

‎উঁচু-নিচু নেই ভেদাভেদ দিঘির পারটায়

‎মায়ের সাথে হাঁসছানারা আনন্দে সাঁতরায়।

‎একদিন এক কুমিরছানা চড়ে হাতির পিঠে

‎বলল শোনো, এটা ছিল আমার দাদার ভিটে।

‎আমি হলাম এই দিঘিটার একক মহারাজা

‎অবাধ্য কেউ হলেই পাবে কঠিনতম সাজা।

 

‎রাজ্যজুড়ে শুরু তখন আতঙ্ক আর ভয়

‎কার ভাগ্যে কখন আবার কী জানি কী হয়!

‎ঠুনকো একটু অজুহাতেই দিঘির রাজা আবার

‎ইচ্ছামতো ঘাড় মটকে খেয়ে করে সাবাড়।

‎শীতের পাখি করতে শিকার, এক শিকারি লোক

‎হঠাৎ দিঘির কুমিরটাতে পড়ল তাহার চোখ।

‎হাতের বন্দুক চাপল টিগার ঘট ঘটা ঘট ঘটাং

‎এক নিমেষেই দিঘির রাজা উল্টে চিতপটাং।

‎নাচছে সবাই খুশির দোলায় আনন্দ উল্লাস

‎মিলেমিশে করল শুরু আবার বসবাস।

 

তাতার গল্প | কালের কণ্ঠ