• ই-পেপার

ফেনী সীমান্তে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্যসহ মিনি ট্রাক জব্দ

চট্টগ্রাম–সন্দ্বীপ রুট

২৭ দিনের ১৭ দিনই নৌযান চলাচল বন্ধ

সাগরে ফের ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত  যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপবাসী

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
২৭ দিনের ১৭ দিনই নৌযান চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রাম–সন্দ্বীপ নৌরুটের কুমিরা প্রান্ত। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। এর জেরে সন্দ্বীপ চ্যানেলে টানা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের নৌযান চলাচল। ফলে চট্টগ্রাম–সন্দ্বীপ রুটে বিআইডাব্লিউটিসি পরিচালিত যাত্রীবাহী কোনো নৌযান চলছে না। 

এদিকে ফেরি, জাহাজ, স্পিডবোটসহ যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামে আটকা পড়েছে জরুরি রোগী ও পর্যটকসহ অনেক যাত্রী। এছাড়া পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত শতাধিক যানবাহনও আটকা পড়েড়েছ। ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর গত শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে এ অচলাবস্থা চলছে।

দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, চলতি জুলাই মাসজুড়েই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। এর আগে গত ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন এবং তারও আগে ২ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ৯ দিন নৌচলাচল বন্ধ ছিল। অর্থাৎ আজ ২৭ জুলাই পর্যন্ত ১৭ দিন সন্দ্বীপ চ্যানেলে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাসের দ্বীপ সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। ফলে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাসিন্দাদের। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের জীবন বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ বা অননুমোদিত কাঠের ট্রলারে চ্যানেল পার হতে বাধ্য হন যাত্রীরা। 

গত ১৯ জুলাই উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে চলমান কাঠের ট্রলার থেকে চ্যানেলে পড়ে যান দুইজন যাত্রী। ভাগ্যক্রমে তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অতীতে পারাপার সংকটে প্রসবজনিত কারণসহ বিভিন্ন রোগে চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে সন্দ্বীপবাসীর আন্দোলনের মুখে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত পর্যন্ত সদরঘাট–সন্দ্বীপ ও কুমিরা–গুপ্তছড়া রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

নিরাপদ যাত্রী আন্দোলনের সংগঠক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলেই বিআইডাব্লিউটিসি নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কিন্তু জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ তখন ঝুঁকি নিয়ে কাঠের ট্রলারে চ্যানেল পার হতে বাধ্য হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বাড়ে।’ 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডাব্লিউটিসি) সূত্র বলছে, বর্ষা মৌসুমে এমনিতেই সাগর উত্তাল থাকে। এর সঙ্গে লঘুচাপ বা নিম্নচাপের প্রভাবে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলে পরিস্থিতি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিআইডাব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম  আশিকুজ্জামান বলেন, ‘৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের সময় ফেরি বা জাহাজ চলাচলের অনুমোদন নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।’ 

এদিকে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

সাভারে ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার অভিযোগ

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

সাভারে মোবাইলের চার্জার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় বাবা মহিন মিয়াকে (৩৮) হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে জিসানের (১৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে ইতিমধ্যে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ছাগিপাড়া মহল্লায় এঘটনা ঘটে। নিহত সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ছাগিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি পেশায় দুধ ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে। 

থানা পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ছাগিপাড়া এলাকায় দুধ ব্যবসায়ী মহিন তার ছেলের কক্ষে প্রবেশ করে মোবাইলের চার্জার খুঁজছিল। এসময় ছেলে জিসান তার কক্ষে মোবাইলের চার্জার নেই বলে জানালে মোবাইলের চার্জার না পেয়ে মহিন তার স্ত্রী ও ছেলেকে বকা দেন। জবাবে ছেলে জিসান উত্তেজিত হয়ে কথা বললে মহিন তাকে মারধরের জন্য হাতে টেস্টার নেন। পরে তাদের হাতাহাতির এক পর্যায়ে হঠাৎ জিসান তার বাবা মহিনের অণ্ডকোষে চেপে ধরলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এসময় প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মহিনকে মৃত ঘোষণা করে।

সাভার মডেল থানার এসআই মো. ফাইজুর খান জানান, খবর পেয়ে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ছেলে অণ্ডকোষ চেপে ধরে হত্যা করেছে জানার পর ঘাতক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু ১১ আগস্ট

রাঙামাটি সংবাদদাতা
কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু ১১ আগস্ট
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর আগামী ১১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ শুরু হতে যাচ্ছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কাপ্তাই হ্রদ হতে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত কমিটির সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ রয়েছে। প্রতি বছর কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি, মজুদ ও ভারসাম্য রক্ষার লক্ষে সকল প্রকার মৎস্য সম্পদের আহরণের ওপর তিন মাস নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাছ আহরণ বন্ধের সময়সীমা থাকলেও হ্রদের পানি এবং মৎস্যসম্পদ প্রজননের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত হ্রদে মৎস্য আহরণ বন্ধের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তা, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ১০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়ে বলেন, ভারি বষণ ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত কাপ্তাই হ্রদেও পানি বাড়লেও মাছের গঠন বৃদ্ধি পায়নি। এছাড়া এখনো কাপ্তাই হ্রদের পানির রং ঘোলা রয়েছে যা মাছ আহরণের ক্ষেত্রে বড় বাধা। এ সময় জেলেরা মাছ ধরার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকুলতার মুখোমুখি হন। তাই কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু বিকাশ, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদের পরিবেশ রক্ষায়ও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটির ব্যবস্থাপক ফয়েজ আল করিম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট রাঙামাটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হায়দার হোসেনসহ মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রাজু আহম্মেদ (৩২) নামের এক গরুর খামারিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজু প্রায় তিন মাস আগে সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে রাজুর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। রবিবার রাতে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে রাজু ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে বাড়ি ফিরে আসেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

অভিযুক্ত শাহাদাত বলেন, আমি তিন দিন থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে আছি। আমার বাবা বয়ষ্ক মানুষ। আধিপত্য বিস্তারের জন্য আমাদের নিয়ে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে।  আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।

শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহত রাজু বিএনপির কর্মী ছিলেন। তবে পদধারী কোনো নেতা নন।

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এটি রাজনৈতিক, পারিবারিক নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।