ফেসবুকের পর এখন থেকে ইনস্টাগ্রামেরও ‘বেসিক’ মোড চালু করেছে মেটা। এ সেবার জন্য বাংলাদেশি পার্টনার টেলিনর লিংকস তথা গ্রামীণফোন। এর মাধ্যমে কোনো ডেটা প্যাক ছাড়াই ছবি, রিলস, স্টোরি দেখা যাবে, মেসেজিং করা যাবে। তবে অন্য ফিচার ব্যবহারের জন্য কিনতে হবে ডেটা প্যাক। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, ছবি বা ভিডিও পোস্টের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতেও ইনস্টাগ্রাম মেসেজিং ব্যবহার করছে তারা। ডেটা প্যাক ফুরিয়ে গেলেও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে এ সেবা চালু করা হয়েছে। তবে হাই রেজল্যুশনের ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা বা অন্য সেবার জন্য ডেটা প্যাক কিনতে হবে, চাইলে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপের মধ্য থেকেই সেটি কেনা যাবে।
একনজরে
চীনা র্যামের পারফরম্যান্স পরীক্ষা করছে অ্যাপল
ডেটা প্যাক ছাড়াও ব্যবহার করা যাবে ইনস্টাগ্রাম

বন্ধ হচ্ছে প্লে স্টেশন গেম ডিস্ক

২০২৮ সাল থেকে প্লে স্টেশনের জন্য গেম ডিস্ক তৈরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সনি। এর পর থেকে কেনা যাবে শুধু ডিজিটাল সংস্করণ, অর্থাৎ গেমের লাইসেন্স। এ বিষয়ে মাইক্রোসফট এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে গুঞ্জন উঠেছে এক্সবক্সও হাঁটবে একই পথে। নিনটেন্ডো আপাতত কার্ট্রিজে গেম বিক্রি অব্যাহত রাখবে, তবে সম্ভাবনা আছে সেটাও কিছুদিন পর বন্ধ করে দেওয়া হবে।
লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি
ফিজিক্যাল কপি কিনলেও গেম খেলার আগে সেটা আপডেট করতে হয়। তাই গেমারদের মধ্যে ডিস্ক কেনার প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে। মোট কনসোল গেম বিক্রির ৬০ থেকে ৮০ শতাংশই ডিজিটাল। গেমের ডিস্ক বা কার্ট্রিজ থেকে গেম কপি করে পাইরেসি করাও বেশ সহজ। অনেক সময় আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরুর আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ডিস্ক থেকে গেম কপি করে পাইরেসি সাইটে আপলোড করে। ২০২৩ সালে এ ধরনের পাইরেসির শিকার হয় দ্য লেজেন্ড অব জেলডা : টিয়ারস অব দ্য কিংডম। আনুষ্ঠানিক প্রকাশিত হওয়ার আগেই অন্তত ১০ লাখেরও বেশিবার গেমটির পাইরেটেড কপি ডাউনলোড করা হয়। অর্থাৎ ফিজিক্যাল ডিস্ক বিক্রি করা সব দিক থেকেই কনসোল নির্মাতাদের জন্য লোকসানের কারণ।
গেম সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন
ডিস্ক বা কার্ট্রিজের গেম কয়েক দশক পরেও খেলা যায়। এসব গেম বৈধভাবে কেনাবেচাও করা যায়, বন্ধুরা চাইলে গেম ধার করে খেলতেও পারে। গেম ডিস্ক ভাড়ার সেবাও রয়েছে। ডিজিটাল গেমে এ ধরনের সুবিধা নেই। ডিজিটাল লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নয়, তাই গেম ধার করা বা ভাড়া করা একপ্রকার অসম্ভব। এমনকি মৃত্যুর পর ওয়ারিশরাও গেমের ডিজিটাল লাইসেন্স ব্যবহার করতে পারবে না। ডিজিটাল গেমগুলো এক-দেড় দশক পর গেম বিক্রেতার সার্ভারে না-ও থাকতে পারে। প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক সময় নানাবিধ কারণে আপডেটের মাধ্যমে গেমের বিভিন্ন অংশ বদলানো হয়। ডিস্কের ডেটা আপডেট করা যায় না, তাই গেমের সব ফিচার থাকে অটুট। তাই গেম সংরক্ষণের জন্য ফিজিক্যাল সংস্করণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে অনেক গেমার।
ক্রেতাস্বার্থ রক্ষায় আইন করা জরুরি
প্লে স্টেশনের নতুন শর্তাবলী অনুযায়ী, কোনো গেমার টানা ৩৬ মাস লগইন না করলে প্লে স্টেশন অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের সব গেমও চিরতরে মুছে যাবে। জীবনের নানাবিধ চাপে কয়েক বছর গেমিং থেকে দূরে থাকা অস্বাভাবিক নয়, সে ক্ষেত্রে এভাবে গেমের লাইসেন্স বাতিল করা কতটা সমীচীন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গেমের লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নয়, এটাও সমস্যাজনক। বই, গান বা সিনেমার ক্যাসেট ও ডিস্কের মতো গেম সংগ্রহের মালিকানাও সন্তানরা কেন পাবে না, সেটি নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। অন্য শিল্পকর্মের মতো ভিডিও গেমের মালিকানা ও কেনাবেচা নিয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এখন সময়ের দাবি।
এই বিশ্বকাপ প্রযুক্তির বিশ্বকাপ
এবারের ফিফা বিশ্বকাপে খেলোয়াড়ের গতিবিধি, বলের গতি, পাসের নির্ভুলতা, এমনকি খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার তথ্য বিভিন্ন ধরনের সেন্সরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্যকে করা হচ্ছে বিশ্লেষণ। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে লিখেছেন ড. এম মেসবাহউদ্দিন সরকার

খেলার এ বছরের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরকে বলা যায় পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিরও প্রদর্শনী। খেলোয়াড়, রেফারি, কোচ থেকে শুরু করে দর্শকদেরও খেলা দেখার অভিজ্ঞতায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। দর্শক, আয়োজক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বাধুনিক সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি।
স্মার্ট বল ও ভিএআর
বিশ্বকাপে এবার ব্যবহৃত বলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU) সেন্সর। প্রতি সেকেন্ডে শত-শতবার বলের অবস্থান ও স্পর্শের তথ্য সংগ্রহ করে এটি। সেন্সরটি বলের সাইড প্যানেলে বসানো। বলটি তৈরি করেছে অ্যাডিডাস, এর মডেল ট্রায়োন্ডা প্রো। দাম প্রায় ১৭০ ডলার। এর পাশাপাশি স্টেডিয়ামে স্থাপিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা খেলোয়াড়দের শরীরের বিভিন্ন পয়েন্ট ট্র্যাক করে। এই তথ্যগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা বিশ্লেষণ করে মুহূর্তের মধ্যে অফসাইড নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। পুরো প্রযুক্তিকে বলা হয় ভিডিও অ্যাসিস্টেড রেফারি (ভিএআর)। এর পাশাপাশি গোললাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত করা হয় বল পুরোপুরি গোললাইন অতিক্রম করেছে কিনা। কোনো গোল হলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেফারির বিশেষ ঘড়িতে সংকেত পৌঁছে যায়। এর ফলে গোল নিয়ে বিতর্কের অবকাশ প্রায় থাকে না।
পারফরম্যান্স যাচাইয়ে প্রযুক্তি
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণেও ব্যবহৃত হচ্ছে প্রযুক্তি। মাঠজুড়ে স্থাপিত অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রতিটি খেলোয়াড়ের অবস্থান, দৌড়ের গতি, বল দখলের সময়, পাসের দূরত্ব, শটের শক্তি এবং মাঠে চলাচলের ধরন রেকর্ড করে। সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিগ ডেটা প্ল্যাটফর্মে বিশ্লেষণ করা হয় এবং কোচিং স্টাফদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে কোচরা খেলার মধ্যেই কৌশল পরিবর্তন, খেলোয়াড় বদল বা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ জার্সি বা ওয়্যারেবল ডিভাইসে বিশেষ জিপিএস ও বায়োমেট্রিক সেন্সর ব্যবহৃত হয়, যা হৃদস্পন্দন, ক্লান্তির মাত্রা ও শারীরিক চাপ পরিমাপ করে। এতে খেলোয়াড়দের ইনজুরি ঝুঁকি কমানো এবং সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা সম্ভব সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ সফটওয়্যার অতীতের ম্যাচের তথ্য পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য কৌশল ও ম্যাচ পরিস্থিতি সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিতে পারে।
দর্শকরাও বাদ যায়নি
দর্শক অভিজ্ঞতা উন্নত করার ক্ষেত্রেও বিশ্বকাপে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অভূতপূর্ব। স্টেডিয়ামে থাকা দর্শকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরিসংখ্যান, রিপ্লে, খেলোয়াড়দের তথ্য এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলের ভিডিও দেখতে পারে। টেলিভিশন সম্প্রচারে অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR), ভার্চুয়াল গ্রাফিকস এবং থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন ব্যবহার করে অফসাইড লাইন, বলের গতিপথ, খেলোয়াড়দের অবস্থান ও ম্যাচের বিশ্লেষণ অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। আবার ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকায় বিপুল পরিমাণ ডেটা দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার সহজ ও নিশ্চিত হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তায় জোর
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মাঠজুড়ে স্থাপিত সেন্সর, ক্যামেরা, ভিএআর (VAR), সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি এবং বলের ভেতরে থাকা স্মার্ট চিপ থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সার্ভারে এনক্রিপ্টেড পদ্ধতিতে পাঠানো হয়, যাতে হ্যাকাররা তথ্য পরিবর্তন বা চুরি করতে না পারে। উন্নত ফায়ারওয়াল, অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (Intrusion Detection System) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করে। ফলে সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। টিকেটিং সিস্টেম, দর্শকদের তথ্যভাণ্ডার, সম্প্রচার নেটওয়ার্ক এবং ম্যাচসংক্রান্ত ডেটা বেইসকে সাইবার হামলা থেকে রক্ষার জন্য মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ও ক্লাউড নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অস্বাভাবিক ডেটা প্রবাহ বা সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের পূর্বাভাসও পাওয়া যায়। ফলে বিশ্বকাপে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি শুধু ম্যাচ পরিচালনা, সম্প্রচার, ডেটা ব্যবস্থাপনা, খেলার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি করছে না, বরং বিশ্বকাপের বিশাল ডিজিটাল অবকাঠামোকে যেমন নিরাপদ রেখে তথ্যের গোপনীয়তা ও নির্ভরযোগ্যতাও বজায় রাখছে, তেমনি কোনো ধরনের হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত বিঘ্ন না ঘটে, সেটাও নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে এবারের বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতা ও উদ্ভাবনেরও এক অনন্য উদাহরণ।
লেখক : অধ্যাপক ও আইটি গবেষক
আইআইটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাইবার নিরাপত্তা সবার অধিকার
বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সাইবার অপরাধ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কাজে লাগিয়ে নিত্যনতুন ধরনের সাইবার হামলা উদ্ভাবনে তৎপর হ্যাকাররা। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ২৭-২৯ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’। এতে অংশ নেন পোলিশ সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘শ্যাডোসার্ভার ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান পিওতর কিওফস্কি। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আশিক উল বারাত

সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের মূল ঘাটতি কোথায়?
বাংলাদেশে আমি যা দেখেছি, তাতে সবচেয়ে বড় ঘাটতি সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব। সাইবার হামলা ঠেকাতে সবাই মিলে কমিউনিটি হিসেবে কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে মেধার কমতি নেই, তথ্য-উপাত্তের অভাব নেই, কিন্তু নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব রয়েছে। যতক্ষণ না জাতীয় স্তরে এই তথ্য আদান-প্রদান এবং সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হবে, ততক্ষণ বড় কোনো সাইবার প্রতিরক্ষা দেয়াল গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীনতার মানসিকতা পরিবর্তনের উপায় কী?
এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বেরই চিত্র। সাইবার নিরাপত্তাকে সব সময় হেলাফেলা করা হয়। এর কোনো সহজ সমাধান বা ‘ম্যাজিক বুলেট’ নেই। এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা এবং শিক্ষা। প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারক ও পরিচালনা পর্ষদকে বোঝাতে হবে যে সাইবার হামলার প্রভাবে কতটা ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশ এখন এ বিষয়ে কঠোর আইন করেছে। এসব আইনের আওতায় সাইবার নিরাপত্তায় গাফিলতির জন্য পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হয়। বাংলাদেশেও এমন জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাইবার হুমকির দৈনিক রিপোর্ট তৈরি করে শ্যাডোসার্ভার। বাংলাদেশের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি বা স্থানীয় আইএসপিগুলো (ISP) কিভাবে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে?
প্রথমত, এই ডেটা বোঝার জন্য দক্ষ জনবল লাগবে। দ্বিতীয়ত, প্রক্রিয়াটিকে যতটা সম্ভব স্বয়ংক্রিয় বা ‘অটোমেটেড’ করতে হবে। কারণ, হ্যাকাররা যখন আক্রমণ করে, তারা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিমিষেই লাখ লাখ ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ে ম্যালওয়্যার। এর মোকাবেলা যদি ম্যানুয়ালি করা হয়, তবে হেরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। সাইবার হামলার হুমকি নিয়ে নোটিফিকেশন পাওয়া মাত্রই যেন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়া দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এমন মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
শ্যাডোসার্ভার অলাভজনক সংস্থা কেন?
আমরা বিশ্বাস করি, বিনা খরচে সাইবার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। আমাদের খরচ মেটায় বিভিন্ন বড় বড় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান, যারা আমাদের অনুদান দেয়। যেহেতু আমরা অলাভজনক, তাই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে আমাদের ওপর মানুষের আস্থা অনেক বেশি। বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময় লেনদেনের সম্পর্ক ও বিশেষ মহলের স্বার্থ দেখার চাপ থাকে, যা আমাদের ক্ষেত্রে নেই। আমাদের হয়তো কোনো বাড়তি আয় নেই, কিন্তু সফলভাবে কোনো বড় হুমকি রুখে দেওয়ার তৃপ্তি অমূল্য।
বাংলাদেশ কি এআইচালিত হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে?
অবশ্যই, এআই-এর কারণে বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার গতি এবং সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এটি হ্যাকারদের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সাইবার হাইজিন রক্ষা করে চলে, তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর মধ্যে আছে নিয়মিত ডিভাইস প্যাচিং বা আপডেট করা, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনীয় সার্ভিস বন্ধ রাখা। সাইবার নিরাপত্তায় শতভাগ সুরক্ষিত বলে কিছু নেই। হ্যাক হলে আপনি কত দ্রুত তা সামাল দিতে পারছেন, সেটাই আসল।
গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো (CII) সুরক্ষায় আপনার পরামর্শ কী?
প্রথম পরামর্শ, নেটওয়ার্কে ঠিক কতগুলো ডিভাইস যুক্ত আছে তার তালিকা বা ম্যাপ তৈরি করা। এই ম্যাপের মধ্যকার কোনো ডিভাইসে সাইবার নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা বা এক্সপোজার আছে কি না তা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি (Continuous Monitoring) করতে হবে। হ্যাকাররা রিমোট কোড এক্সিকিউশনের মতো দুর্বলতা দিয়ে সবচেয়ে দ্রুত সিস্টেমে ঢুকে পড়ে, এটি রুখে দিতে পারলে অন্তত প্রাথমিক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এ ছাড়াও সাইবার নিরাপত্তা টিম গঠন করা ও যথাযথ ট্রেনিং জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হতে শিক্ষার্থীদের কোন দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া উচিত?
তাত্ত্বিক শিক্ষায় আটকে না থেকে তরুণদের ‘হ্যান্ডস-অন’ বা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। ইন্টারনেট যে মৌলিক প্রোটোকলগুলোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, সেগুলো আগে ভালোভাবে বুঝতে হবে। সাইবার সিকিউরিটি কমিউনিটিগুলোর উচিত বেশি বেশি হ্যাকাথন, সিটিএফ (Capture The Flag) প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। ইন্টারনেটের মৌলিক ভিত্তিটা জানা থাকলে যেকোনো নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ।
বাংলাদেশে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ঘটনা অনেক বেড়েছে। এটি মোকাবেলায় কী করণীয়?
এটি আসলে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন! অপরাধীরা এখন এআই দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠস্বর ক্লোন করেও প্রতারণা করছে। এর প্রধান সমাধান হলো ব্যাপক জনসচেতনতা। ইউএসএ-তে একটি ক্যাম্পেইন আছে, যার নাম ‘টেক নাইন’ (Take Nine)। অর্থাৎ, যেকোনো আর্থিক বা জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে অন্তত ৯ সেকেন্ড শান্ত হয়ে ভাবুন, সেটির ডোমেইন ভালো করে দেখে নিন। কারণ হ্যাকাররা সব সময় একটি কৃত্রিম তাড়াহুড়া বা ‘সেন্স অব আরজেন্সি’ তৈরি করে, যাতে আপনি প্যানিক বা আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাংকগুলোরও এখানে দায়িত্ব রয়েছে। যেমন—পোল্যান্ডে কোনো ব্যাংক থেকে ফোন দিলে গ্রাহকের অ্যাপে একটি নোটিফিকেশন যায়, যা দেখে গ্রাহক নিশ্চিত হতে পারে যে ফোনটি আসলেই ব্যাংক থেকে এসেছে নাকি কোনো প্রতারক করেছে। আসলে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রুখতে কমন সেন্সের বিকল্প নেই।
