• ই-পেপার

স্মার্টফোনে চলে জেমা এআই

স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে ১১ শতাংশ

স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে ১১ শতাংশ

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গত বছরের তুলনায় স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৩ সালের পর গত ১৩ বছরে কখনোই এতটা কমেনি স্মার্টফোন বিক্রি। র‌্যাম ও স্টোরেজ চিপের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ ঘাটতিকেই দুষছেন বিশেষজ্ঞরা। বছরের বাকি দুই প্রান্তিকেও স্মার্টফোন বিক্রি কমা অব্যাহত থাকবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, স্মার্টফোন বিক্রিতে স্যামসাং তাদের আধিপত্য ধরে রেখেছে, বিক্রি বেড়েছে অ্যাপলেরও। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের ২৪ শতাংশ দখল করেছে স্যামসাং, ২০ শতাংশ অ্যাপল, ১২ শতাংশ শাওমি, ১১ শতাংশ অপো, ৮ শতাংশ ভিভো ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের বিক্রি মিলে বাদবাকি ২৬ শতাংশ। সব কটি ব্র্যান্ডের মাঝারি মূল্যে মডেলগুলোর বিক্রি কমেছে। র‌্যাম ও স্টোরেজের চড়া মূল্যের প্রভাবে মাঝারি বাজেটের ফোনগুলোতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল হার্ডওয়্যার ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে নির্মাতারা, ফলে ক্রেতারা বাজেট বাড়িয়ে পুরনো ফ্ল্যাগশিপ কেনায় আগ্রহী হচ্ছে। মাঝারি বাজেটের মডেল উৎপাদনই কমিয়ে দিয়েছে শাওমি। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্মার্টফোন বাজারে ধস নামতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

টেকবিশ্ব ডেস্ক 

 

 

টুকরো খবর

প্রথম এআই ফোন আনল চীন

প্রথম এআই ফোন আনল চীন
স্টেপএক্স নিও এআই স্মার্টফোন

১৩ জুলাই সাংহাইয়ে বিশ্বের প্রথম এআই স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্টেপফান। প্রতিষ্ঠানটি বেশ নতুন হলেও এর পেছনে আছে বিখ্যাত গেম নির্মাতা ও প্রকাশক টেনসেন্ট হোল্ডিংস। ফোনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্টেপএক্স নিও’। এতে ব্যবহৃত হয়েছে স্টেপফানের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘স্টেপ এওএস’। এতে অ্যাপের বদলে জোর দেওয়া হয়েছে এজেন্টিক এআই ব্যবহারের প্রতি। এতে থাকছে স্টেপফানের নিজস্ব এআই এজেন্ট ‘আমু’। ফোনে শত শত অ্যাপ ইনস্টল করা বা ব্রাউজারে হাজারো ট্যাব খুলে কাজ করার বদলে ব্যবহারকারীরা কী প্রয়োজন সেটি আমুকে জানালেই চলবে। বিভিন্ন ওয়েবসেবা কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করবে আমু, বাড়তি কোনো ইনপুট লাগবে না। আলিপে, ট্রপ ডটকম, ডিডি চিউশিং (রাইড শেয়ারিং সেবা) এবং মেইটুয়ান (ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস সুপার অ্যাপ) সরাসরি কাজে লাগাতে পারে আমু, কোনো বাড়তি এপিআই সেটআপের প্রয়োজন নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়া, স্ট্রিমিং বা ক্যামেরার মতো অ্যাপগুলো বাদ পড়ছে না। ব্যবহারকারীদের জীবন সহজ করার জন্যই ফোনটি তৈরি করা হয়েছে—এমনটাই দাবি স্টেপফানের।

 

একনজরে টিপসই

একনজরে টিপসই

মূল প্রতিষ্ঠান: ইনোভেস টেকনোলজিস লিমিটেড, ব্র্যান্ড নাম টিপসই

প্রতিষ্ঠাতা: আসিফ আমিনুর রশীদ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এবং মো. মনিরুল আলম (সিইও)

সহপ্রতিষ্ঠাতা: মিনহাজ খান, মুস্তাক আহমেদ, মো. ইকরাম শিমুল এবং খালিদ মুসা সাগর

প্রতিষ্ঠাকাল: ২০১৬ সালে টিপসই ডিভাইসের যাত্রা শুরু হয় এবং ২০১৭ সালে কম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়

কম্পানি প্রোফাইল: এটি একটি এআইচালিত বৈশ্বিক কর্মী ব্যবস্থাপনা (Workforce Management) প্ল্যাটফর্ম, যা হার্ডওয়্যার এবং ক্লাউড সফটওয়্যারের সমন্বিত সলিউশন প্রদান করে

বিনিয়োগ: প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ লাখ থেকে আট লাখ মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে

বিনিয়োগকারী: প্রধান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অ্যাকসেলারেটিং এশিয়া এবং সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক অরবিট স্টার্টআপস

গ্রাহক ও ব্যবহারকারী: বর্তমানে এক হাজার ২০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠান এবং দুই লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে

বৈশ্বিক উপস্থিতি: বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১ থেকে ১৫টি দেশে (যেমন—সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, মরিশাস এবং সম্প্রতি ব্রাজিল ও মেক্সিকো) টিপসইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে

উল্লেখযোগ্য গ্রাহক: তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর, ব্র্যাক এনজিও, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনিলিভার, অ্যাপেক্স, ওয়ালটন, কোকা-কোলা, রেডিয়েন্ট ফার্মা এবং বাংলাদেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রবৃদ্ধি: ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন গুণ রেভিনিউ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে

 

 

 

 

ইন্টারনেটে মানুষের চেয়ে বট বেশি

১ জুলাই ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রকাশিত নেটওয়ার্ক ট্রাফিক রিপোর্ট অনুযায়ী এখন ওয়েব ট্রাফিকের অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের বট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইন্টারনেট ট্রাফিকে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। লিখেছেন সাদিয়া আফরিন হীরা

ইন্টারনেটে মানুষের চেয়ে বট বেশি

এত দিন ওয়েব নির্মাতাদের দুই ধরনের ওয়েব ভিজিটর নিয়ে ভাবতে হতো—মানুষ এবং বট। মানুষের জন্যই ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করা হতো, বট ট্রাফিক যতটা সম্ভব কমানোই ছিল সাইট ডিজাইনের লক্ষ্য। ওয়েব ট্রাফিকের বেশির ভাগই ছিল মানুষ। এখন ওয়েব ট্রাফিকের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। এজেন্টিক এআই প্রযুক্তির প্রভাবে এখন ইন্টারনেটে মানুষের চেয়ে বট বেশি। তবে এগুলো গতানুগতিক তথ্য সংগ্রহকারী ‘ক্রলার’ বট বা স্প্যামার স্ক্রিপ্ট নয়, বরং ব্যবহারকারীদের সাহায্যকারী ‘এআই এজেন্ট’।

 

তৃতীয় ধরনের ওয়েব ভিজিটর

যেকোনো স্বয়ংক্রিয় বা ‘যান্ত্রিক’ ভিজিটরকেই বট ধরা হয়ে থাকে। ওয়েবমাস্টারদের জন্য বট ট্রাফিক বড় মাথাব্যথার কারণ, কেননা এগুলো লাভজনক ট্রাফিক জেনারেট করে না। তবে জেনারেটিভ এআই বটের ধরন বদলে দিয়েছে। ব্যবহারকারীর সাহায্যকারী হিসেবে তাদের পক্ষে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছে এআই এজেন্ট, ই-কমার্স থেকে পণ্য ও সেবা অর্ডার করছে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও করছে কমেন্ট বা মেসেজ চালাচালি। ইমপারভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এআই এজেন্টকে আর ‘বট’ বলা উচিত নয়। বরং মানুষ ও বটের পাশাপাশি আরো এক ধরনের ব্যবহারকারী হিসেবে এআই এজেন্টকে আখ্যায়িত করা উচিত। এজেন্টগুলো মানুষ ট্রাফিকের স্থান নিয়ে নিয়েছে বলা যায়। তাই ওয়েবসাইট ডিজাইনে এখন থেকে মানুষ ও বটের পাশাপাশি এজেন্টিক এআইয়ের জন্যও ডিজাইন করা জরুরি।

 

পুরনো ব্যবস্থা এখন অকার্যকর

দীর্ঘদিন পর্যন্ত মানুষ ও বট আলাদা করার প্রচলিত উপায় ছিল ক্যাপচা পূরণ। কিন্তু আধুনিক এআইচালিত বটের অনেকটিই এসব পরীক্ষা সফলভাবে অতিক্রম করতে পারে। ফলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যবহারকারীর পুরো সেশন বিশ্লেষণের দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে আছে ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রিকারসর (Precursor) প্রযুক্তি। ওয়েবসাইটে প্রবেশ থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত ব্যবহারকারীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তবেই মানুষ না বট সেটি মূল্যায়ন করে এটি। মাউস ব্যবহারের ধরন, স্ক্রল করার গতি, এক পাতায় কত সময় অবস্থান করা হচ্ছে বা টাইপ করার ছন্দ বিশ্লেষণ করে মানুষ ও স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করা হয়।

 

সব বট ক্ষতিকর নয়

বট ডিটেকশন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি, কেননা সব বট ওয়েবসাইটের জন্য ক্ষতিকর নয়। সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলার, বিভিন্ন গবেষণা ও স্বয়ংক্রিয় সেবার বৈধ বটগুলোকে কাজ করতে না দিলে বরং ওয়েবসাইটের ট্রাফিক আরো কমে যাবে। ঠেকাতে হবে কপিরাইট করা কনটেন্ট চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, অ্যাকাউন্ট দখল, স্প্যাম কিংবা স্বয়ংক্রিয় আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত ক্ষতিকর বট। ইমপারভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বট আক্রমণের ২৭ শতাংশই পরিচালিত হয়েছে সরাসরি এপিআইয়ের মাধ্যমে। অর্থাৎ ওয়েবসাইটের দৃশ্যমান অংশ এড়িয়ে অনেক আক্রমণ এখন সরাসরি ব্যাকএন্ড সিস্টেমকে লক্ষ্যবস্তু করছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

সামনে কী অপেক্ষা করছে

ওয়েব বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে মানুষ ও মেশিনের সহাবস্থানকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো বেশি আচরণনির্ভর হবে, প্রকাশকদের কনটেন্ট ব্যবহারের নিয়ম বদলাবে এবং এআই এজেন্টের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি হবে। একই সঙ্গে ওয়েবসাইট পরিচালকদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে, কোন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর স্বার্থে কাজ করছে, আর কোনটি তথ্য সংগ্রহ, প্রতারণা বা আক্রমণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। একসময় ইন্টারনেটকে মানুষের নেটওয়ার্ক বলা হতো। এখন সেটি ধীরে ধীরে মানুষ ও মেশিন উভয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি অবকাঠামোয় রূপ নিচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের নতুন প্রতিযোগিতা আর শুধু দ্রুততর সেবা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই দুই ধরনের ব্যবহারকারীকে নির্ভুলভাবে আলাদা করাও হয়ে উঠছে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

স্মার্টফোনে চলে জেমা এআই | কালের কণ্ঠ