সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনি সরাসরি আত্মসমর্পণের সুযোগ পাবেন না। তবে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে বা ফেরত আনা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হবে।
গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। দুই বছর ধরে তিনি সেখানেই আছেন। তাঁর সরকারের অনেক মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতারাও প্রতিবেশী দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে নিজেরাই জানিয়েছেন।
এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় তাঁর সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীও ভারতে আছেন।
গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার দেন শেখ হাসিনা। রয়টার্সের বরাত দিয়ে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে। ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হবেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণের আহবান জানান।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সরকার ভারত সরকারের কাছে তাঁকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো নিজে নিজে তাঁর আসার কোনো সুযোগ নেই। হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন) আওতায় তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হ্যান্ডওভার করা হবে, অথবা তাঁকে পুশ ব্যাক করা হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।’ নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও মনে করেন আমিনুল ইসলাম।
দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার জামিনের কোনো সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন হয়েছে, এমন নজির নেই। যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাঁকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে সংগত কারণেই তিনি প্রথমে কারাগারে যাবেন। এরপর তিনি আপিল করতে পারবেন কি না, সে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।’ এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার বিধান তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেকশন ২১-এর (৩) উপধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের পর আর কোনো আপিল হবে না। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। আর যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হওয়ার তা হবে।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর।