প্রতিটি হুংকারে আমরা সংঘবদ্ধ হব, দেশের জন্য এক কাতারে দাঁড়াব।
মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

প্রতিটি হুংকারে আমরা সংঘবদ্ধ হব, দেশের জন্য এক কাতারে দাঁড়াব।
মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেটে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপি সরকার ও দলীয় পর্যায়ে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক পর্যায়ে সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বানভাসি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর এই ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গত শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহবান জানানো হয়।
দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার তৎপরতা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গত কয়েক দিন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালি, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, পতেঙ্গাসহ বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পক্ষ থেকেও বন্যাকবলিত অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা তীব্র বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিভিন্ন অঞ্চলে পানিবন্দিদের পাশে ছুটে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। বন্যার্তদের উদ্ধার ও তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। চিকিৎসাসেবায় গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) সব সময় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে। সেই ধারবাহিকতায় সারা দেশে টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়া পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে এই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশনায় ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ অব্যাহত আছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলামান আছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ছাত্রদল, যুবদলের নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই এসে ত্রাণ দিয়ে গেছেন। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি নেমে যাচ্ছে। তবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
জানা যায়, পুনর্বাসন পরিকল্পনায় বন্যার্তদের সহায়তায় শুধু খাবার ও ত্রাণ বিতরণের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায় বিএনপি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণ, বাসস্থান পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান বন্যার্তদের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি ও তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বন্যার্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী বলেন, দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী। সব অঙ্গ সংগঠন, মূল দলের নেতাকর্মীরা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বিশেষ করে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ যেসব এলাকায় দুর্গত মানুষের জন্য খাবার স্যালাইনসহ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন বন্যাকবলিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এবং আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
জানতে চাইলে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদল বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার্ত মানুষের মাঝে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণসামগ্রী কাজে অংশ নিচ্ছে। কেন্দ্র থেকে আমি নিজে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে এসেছি। এই মুহূর্তে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব চট্টগ্রামের বন্যার্ত এলাকায় অবস্থান করছেন এবং ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে।’
যুবদল দেশের বন্যাকবলিত ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে পানিবন্দি মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল টিম গঠন করেছেন।
দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ বেশ কয়েকটি দুর্গত এলাকায় শুকনা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় দুর্গত মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসানকে সমন্বয়ক করে একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যুবদলের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি নিজে বন্যাদুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আমাদের সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী তৎপর আছেন।’

টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও
যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না পেছানোয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এহছানুল হক মিলন এই ঘোষণা দেন। গত সোমবার পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্রের পরীক্ষা হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংসদ অধিবেশনে দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলতে চাইনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, আমি সিম্পলি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
এর আগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, পরীক্ষা পেছানোর দাবি উপেক্ষা এবং পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয় তুলে ধরে সরকারের ব্যাখ্যা জানতে চান সংসদ সদস্যরা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুকূলে থাকায় পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পূর্বাভাস সঠিক না হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহবান জানাই।’
গতকাল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। অথচ সরকার এক বা দুই দিনের জন্যও পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়নি। পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ কী, সেটি তিনি জানতে চান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সারা দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। তবে দেশের অন্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পরীক্ষার আগের দিন বিকেল পর্যন্ত ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই বিকেল ৫টার দিকে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমের পরীক্ষাগুলো নিয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। যেসব পরীক্ষাকেন্দ্র বন্যার পানি বা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব সমস্যা সমাধান করা কঠিন নয়। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রয়েছে, তাই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে কোথাও কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। জরিপ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে পুনঃপরীক্ষার (রি-এক্সাম) ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এরই মধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। যেসব শিক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তাদের জন্য শুকনা পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পরে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর প্রথম বক্তব্যে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও পরের বক্তব্যে তিনি গত সোমবারের পদার্থবিজ্ঞানসহ তিনটি পরীক্ষাই পুনরায় নেওয়ার কথা বলেছেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব তিনিই দিয়েছিলেন। সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকার এই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চায়। সে জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধির আওতায় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি উত্থাপন করেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের প্রশ্নে সবাই এক। সে সময় যে ‘ইস্পাতকঠিন’ ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা ধরে রাখতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব যেন কেউ এককভাবে দাবি না করেন এবং কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী যেন এই আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি সবার আগে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানান।
আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ দাবিতে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল। পরে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে ফিরলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো হবে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সরকার সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তিনি তাঁদের আলোচনায় ফিরে আসার আহবান জানান।
জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘ক’ শ্রেণির আহতদের পাঁচ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির আহতদের তিন লাখ টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির আহতদের এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতাও চালু করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের প্রয়োজন হলে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জুলাই ঘোষণাপত্র। সেই ঘোষণাপত্রের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সংসদে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনায় এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের বিষয়টি যথাযথভাবে উঠে আসেনি।
তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদে শহীদ পরিবারের সুরক্ষা, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।