দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেটে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপি সরকার ও দলীয় পর্যায়ে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক পর্যায়ে সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বানভাসি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর এই ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গত শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহবান জানানো হয়।
দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার তৎপরতা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গত কয়েক দিন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালি, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, পতেঙ্গাসহ বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পক্ষ থেকেও বন্যাকবলিত অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা তীব্র বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিভিন্ন অঞ্চলে পানিবন্দিদের পাশে ছুটে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। বন্যার্তদের উদ্ধার ও তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। চিকিৎসাসেবায় গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) সব সময় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে। সেই ধারবাহিকতায় সারা দেশে টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়া পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে এই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশনায় ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ অব্যাহত আছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলামান আছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ছাত্রদল, যুবদলের নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই এসে ত্রাণ দিয়ে গেছেন। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি নেমে যাচ্ছে। তবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
জানা যায়, পুনর্বাসন পরিকল্পনায় বন্যার্তদের সহায়তায় শুধু খাবার ও ত্রাণ বিতরণের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায় বিএনপি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণ, বাসস্থান পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান বন্যার্তদের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি ও তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বন্যার্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।’
স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী বলেন, দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী। সব অঙ্গ সংগঠন, মূল দলের নেতাকর্মীরা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বিশেষ করে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ যেসব এলাকায় দুর্গত মানুষের জন্য খাবার স্যালাইনসহ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন বন্যাকবলিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এবং আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
জানতে চাইলে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদল বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার্ত মানুষের মাঝে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণসামগ্রী কাজে অংশ নিচ্ছে। কেন্দ্র থেকে আমি নিজে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে এসেছি। এই মুহূর্তে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব চট্টগ্রামের বন্যার্ত এলাকায় অবস্থান করছেন এবং ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে।’
যুবদল দেশের বন্যাকবলিত ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে পানিবন্দি মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল টিম গঠন করেছেন।
দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ বেশ কয়েকটি দুর্গত এলাকায় শুকনা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় দুর্গত মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসানকে সমন্বয়ক করে একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যুবদলের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি নিজে বন্যাদুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আমাদের সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী তৎপর আছেন।’




