ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। তবে নির্বাচনকালীন এই সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আইনমন্ত্রী গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ যে স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম, সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল। যে সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল। যে সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া আনা হয়েছিল। যেগুলো নিয়ে আমরা বলেছিলাম, এটা আল্ট্রা ভাইরাস টু দ্য কনস্টিটিউশন। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনে মিস্টার বদিউল আলম মজুমদারসহ যাঁরা এই মামলা করেছিলেন এবং ইন্টারভেনার হিসেবে যাঁরা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তখন আমাদের ইন্সট্রাকশন ছিল যে এই সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের মানুষের জীবনে বোঝা হয়ে আছে। গণতন্ত্রের পথে অন্তরায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিকল্প কিছু নাই, তখন আমরা সাবমিশন দিয়েছিলাম—সেই লাইনে আমরা বলেছিলাম, সংবিধানের সেভেন ক সেভেন খ রাষ্ট্রদ্রোহিতা এটা দিয়ে অ্যাবিউজ করা হবে। এটা ফ্যাসিজমকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটা নীলনকশা।’
তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ একই কথা বলে দিয়েছেন যে এটা পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। আর হাইকোর্ট যেগুলো অবৈধ ডিক্লেয়ার করছেন সেগুলো বহাল রেখেছেন। সুতরাং হাইকোর্টের রায় বহাল আছে। আর বাকি যেগুলো আছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আমরা পার্লামেন্টের সামনে প্লেস করব এবং সেই অনুসারে করব এবং সেখানে আমাদের এই সংশোধনীগুলো আনতে আমাদের মুখ্য বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই চার্টার। জুলাই সনদকে সামনে রেখে আমরা এই সংশোধনীগুলোকে কিভাবে মানুষের কল্যাণে যুগোপযোগী, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য উপযোগী সেটা আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে এবং পাবলিক কনসালটেশনের মধ্য দিয়ে তা সংসদে বিল আনব—এই আশ্বাস দিতে পারি। আর যেগুলো অবৈধ ডিক্লেয়ার হয়েছে সেগুলো সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।’
গণভোটের যে রায় হয়েছে, সেটা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রায়টা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেব।’
প্রক্রিয়াটা কিভাবে কত দিন লাগবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রায় পাওয়ার পরে আমাদের সংবিধান সংশোধন একটা কমিটি হবে, সেই কমিটির আইনি প্রক্রিয়ায় যেভাবে আসে সেভাবে আসবে। এর জন্য টাইম ফ্রেম বলা যায় না।’
সংবিধানে কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, হবে ইনশাআল্লাহ এটা আমাদের রাজনৈতিক নির্বাচনী জাতীয় কমিটমেন্ট।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’ আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কিভাবে? ৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই কনসেপ্ট থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গিয়েছি। ৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল এনেছিল। এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।

প্রতিবছর বর্ষায় চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা অব্যাহত আছে। এসব ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। গত ১৯ বছরে পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপুল মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন।
২০২৩ সালে জেলা প্রশাসন প্রণীত তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ২৬টি পাহাড়ে ছয় হাজার ৫৫৮টি পরিবারের বসবাস ছিল। এরপর আর এই তালিকা হালনাগাদ হয়নি। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, বর্তমানে চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা আরো বেশি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার সঙ্গে জড়িত। স্বল্প আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় বাসা পাওয়ায় ঝুঁকির কথা জেনেও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের চশমা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। একই দিন সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ী গ্রামে আশরাফুল ইসলাম তানভীর (১০ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার রহমাননগর আবাসিক এলাকায় পাহাড়ধসে দেয়াল ভেঙে চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নে পাহাড়ধসে দুজনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে পটিয়ায় পাহাড়ধসে একজন এবং ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর ও আকবর শাহ থানার বেলতলী এলাকায় তিনজন মারা যান। এ ছাড়া ২০২২ সালে চারজন, ২০১৯ সালে একজন, ২০১৮ সালে চারজন, ২০১৫ সালে পাঁচজন, ২০১৩ সালে দুজন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১১ সালে বাটালি হিলে ১৭ জন এবং ২০০৮ সালে মতিঝরনায় ১২ জন পাহাড়ধসে মারা যান।
২০০৭ সালের ১১ জুন লেডিস ক্লাব, কুসুমবাগ, কাছিয়াঘোনা, মতিঝরনা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হন। চলতি বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত গত ১৯ বছরে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ২১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০০৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের পর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পাহাড় রক্ষায় ৩৬টি সুপারিশ করেছিল। এসব সুপারিশের মধ্যে ছিল পাহাড়ে ব্যাপক বনায়ন, পাহাড়ের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন হাউজিং প্রকল্প নিষিদ্ধ করা, পাহাড়ের ঢালে গাইডওয়াল ও ড্রেন নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশের বসতি উচ্ছেদ, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পাহাড়ি বালু উত্তোলন বন্ধ করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ।
তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নেতারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন তো পাহাড়ই নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোও মানুষ দখল করে ফেলেছে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির গাফিলতি ছিল। পরিবেশ ও পাহাড় রক্ষায় যেসব আইন রয়েছে, সেগুলো যদি সরকারি সংস্থাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করত, তাহলে পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা থাকার কথা না। জনপ্রতিনিধিরা ইতিবাচক ভূমিকা নিলে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করলে পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে দেওয়া কঠিন কিছু নয়।’
চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার ফয়’স লেকসংলগ্ন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল এলাকা, জঙ্গল সলিমপুর, লালখান বাজার, ষোলশহর স্টেশনসংলগ্ন পাহাড়, বিজয়নগর, আকবর শাহ থানার বেলতলী ঘোনা, বার্মা কলোনি, বায়েজিদ লিংক রোড, ফিরোজ শাহ কলোনি, মতিঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে। মূলত স্বল্প আয়ের মানুষ এসব এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। এসব পাহাড়ে বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধাও রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাহাড় রক্ষায় কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। ২০০৭ সালের দুর্ঘটনার পর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি যে ৩৬টি সুপারিশ করেছিল, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে পাহাড়ে অবৈধ বসতি থাকত না। পাহাড়গুলো চট্টগ্রামের নান্দনিক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠত। পাহাড় সংরক্ষণের জন্য কোনো ধরনের বরাদ্দ নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সরকারি আমলা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পাহাড় কাটার সঙ্গে যুক্ত। আমরা পরিবেশবাদী সংগঠন হিসেবে প্রতিনিয়ত পাহাড় কাটা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। এ জন্য সভা, সমাবেশ, মিছিল, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি।’
২০২৩ সালে জেলা প্রশাসন প্রণীত তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ২৬টি পাহাড়ে ছয় হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করত। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের মালিকানাধীন ১৬টি পাহাড়ে ছয় হাজার ১৭৫টি পরিবারের বসবাস ছিল। ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ছিল ৩৮৩টি। এরপর আর ওই তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।
চট্টগ্রাম নগরীর বাটালি হিলের পাদদেশে একটি টিনশেড ঘরে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন রহিমা আক্তার। স্বামী দিনমজুর। রহিমা বলেন, ‘পাহাড়ধসের ভয় তো সব সময়ই থাকে। কিন্তু এখানে বাসাভাড়া কম হওয়ায় পরিবার নিয়ে এখানেই থাকি।’
চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাঁরা পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাঁদের সরিয়ে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা ভূমিহীন হলে সরকারের খাসজমি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সময় পাহাড়ে বসবাসকারীরাও সেখান থেকে যেতে চান না। নগরীতে সরকারি খাসজমি নেই, উপজেলার দিকে রয়েছে। কিন্তু তাঁরা সেখানে যেতে আগ্রহী নন। এ বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি বছর পাহাড় কাটা বন্ধে ৪৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।’

এক দল যেন নিখুঁত ছন্দে চলা যন্ত্র, অন্য দল আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত। টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত স্পেনের পরীক্ষা নেবে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটতে থাকা বেলজিয়াম। নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলা স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের আক্রমণাত্মক শক্তির এই লড়াই ভীষণ উপভোগ্য হওয়ারই কথা। লস অ্যাঞ্জেলেসের এই লড়াই নিয়ে তাই আলোচনাও এখন তুঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে এসেছে বেলজিয়াম। তবে ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াইয়ে নয়, মাঠের বাইরের নাটকীয়তায়ও ছিল আলোচনায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়া মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের শাস্তি স্থগিত করা হয়। সেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পর মাঠের খেলায় এর জবাব দেয় রুডি গার্সিয়ার দল। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ এমন এক দল, যারা এবারের আসরে এখনো কোনো ম্যাচ হারেনি, এমনকি গোলও হজম করেনি। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি দুই বছর আগে শুধু ইউরোপসেরার মুকুটই জেতেনি, এখন প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার এক নতুন পরিচয়ও তৈরি করেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হারের পর স্পেনকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন লা ফুয়েন্তে। একসময় স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোচ ছিলেন তিনি। তাই বর্তমান দলের অনেক খেলোয়াড়কে তিনি ছোটবেলা থেকেই চেনেন। এর প্রভাব দেখা যায় মাঠেও—স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে দারুণ বোঝাপড়া, শৃঙ্খলা ও সমন্বয়। ফলে দলটি হয়ে উঠেছে আরো শক্তিশালী।
এই বিশ্বকাপে স্পেনের যাত্রা শুরু হয় অবশ্য হতাশা দিয়ে। কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করলেও সৌদি আরব এবং উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়। শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়াকে অনায়াসে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকেও বিদায় করে দেয় স্পেন। লা ফুয়েন্তের স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো একক তারকা নয়, বরং দলের গভীরতা। ইউরো ২০২২-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ১৫ গোল করেছিল স্পেন, যেখানে ১০ জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোলের দেখা পেয়েছিলেন। এক আসরে একটি দলের এত বেশিসংখ্যক গোলদাতা ইউরোর ইতিহাসেই বিরল। লা ফুয়েন্তের দর্শনও পরিষ্কার—জয় আসে পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তাঁর মতে, ‘এটা (দর্শন) পুরো দলের ব্যাপার। আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করেই মাঠে নামতে হবে।’ এদিকে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালও ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন। এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির পর পুরোপুরি সেরা রূপে না ফিরলেও, তাঁর সামান্য ঝলকই প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।
অন্যদিকে স্পেনকে থামানোর লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে নামতে হবে মিডফিল্ডার আমাদু ওনানাকে ছাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর চোটে ছিটকে গেছেন তিনি। ওনানার অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেলজিয়াম দেখিয়েছে চাপের মুহূর্তেও তারা ঘুরে দাঁড়াতে জানে। সিয়াটলে হওয়া সেই ম্যাচে অভিজ্ঞ তারকাদের বেঞ্চে বসিয়ে রেখে শুরু করেছিল বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইন, জেরেমি ডোকু, রোমেলু লুকাকুর জায়গা হয়নি সেরা একাদশে। এমনকি মাঝমাঠের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডি ব্রুইনকে মাঠেই নামাননি বেলজিয়াম কোচ। সব মিলিয়ে গ্রুপ পর্বের বিবর্ণতা, নক আউট পর্বের শুরুর এলোমেলোভাব বেলজিয়াম কাটিয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে। কৌশল বদলের খেলায় এখন পর্যন্ত জয়ী কোচ রুডি গার্সিয়া। এবার তাদের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা—স্পেনের নিখুঁত ছন্দে চলা ফুটবলযন্ত্রকে থামানো।