বিসিএস নিয়ে স্বপ্নের শুরুটা কিভাবে?
—ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় থেকেই সেনাবাহিনীতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আইএসএসবিতে প্রথমবার স্ক্রিন্ড আউট হই। দ্বিতীয়বার সুযোগ থাকলেও আর অংশগ্রহণ করিনি। সেদিনই মাকে কথা দিয়েছিলাম, ভবিষ্যতে বিসিএস দিয়ে রাষ্ট্রদূত হব! সেই থেকে বিসিএসের স্বপ্ন। বিসিএসে প্রতিবার পছন্দক্রমে ‘পররাষ্ট্র ক্যাডার’ রেখেছি। প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম। অবশেষে সফল হলাম।
শিক্ষাজীবনের অর্জন?
—এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০, রাজশাহী বোর্ড। জেএসসি, এসএসসিতে বৃত্তি পেয়েছি। জাতীয় সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় (২০১৫) বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হই। এ ছাড়া বিটিভিতে আয়োজিত জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় (২০২২) রানার্স আপ হয়েছি।
বিসিএসের মূল প্রস্তুতি কখন থেকে শুরু করেছেন?
—মূল প্রস্তুতি শুরু করেছি স্নাতক শেষ করার পর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকে প্রচুর টিউশনি করাতাম। জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে অংশ নিতাম। এসবের ফলে প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে যায়। আন্ত ক্যাডেট কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেলিভিশন পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিয়েছি। তাই সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি পর্বও আগেভাগে হয়ে গেছে।
প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল ও রুটিন কেমন ছিল?
—প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির সময় বিগত বছরের প্রশ্ন আগে সমাধান করেছি। এরপর প্রতিটি বিষয়ের এক সেট বই সংগ্রহ করেছি। বইগুলো বারবার পড়ে রিভিশন দিয়েছি। প্রতিটি বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক থাকে, যেখান থেকে প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। সেগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছি। অনলাইন বা অ্যাপে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষা দিতাম। এর ফলে নেগেটিভ মার্কিং ক্রমে কমে আসে। সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়ে যায়। নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নোট করে রেখে দিতাম। ডেটাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, যেমন—অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, বিভিন্ন সংস্থা ও তাদের সম্মেলন, পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের চুক্তি, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিষয়গুলো বারবার দেখতাম। প্রতিটি বিষয়ের টপিকভিত্তিক প্ল্যান করতাম। প্রতিদিনের পড়ার রুটিনে তিন-চারটি বিষয় রাখতাম। পরীক্ষার আগে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য বারবার রিভিশন দিয়েছি। আমি একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রিলিমিনারির যে তথ্যগুলো লিখিত পরীক্ষায় কাজে লাগে, সেগুলোর জন্য আলাদা নোট খাতা করেছিলাম। ডেটা, কোটেশন ইত্যাদির পেছনে না ছুটে ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগী ছিলাম। বাসায় বসে প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং অনুশীলন করেছি। রিডিং হ্যাবিট বাড়ানোর জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়েছি, ট্রান্সলেশন অনুশীলনের জন্য পত্রিকার সম্পাদকীয় অংশটুকুতে জোর দিয়েছিলাম। রচনার জন্য কিছু ডেটা, পয়েন্ট খাতায় নোট করে রেখেছি এবং এ ক্ষেত্রে আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভালোভাবে করেছি। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে কনসেপচুয়াল পার্ট ও সমসাময়িক ঘটনাবলিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। বাংলার জন্য সাহিত্য ও ব্যাকরণের ৬০ নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে নম্বর তোলা সহজ এবং সহজেই পার্থক্য তৈরি হয়। গণিত ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মূলত নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই এবং সিলেবাস অনুযায়ী এইচএসসি সিলেবাসের কিছু টপিক পড়েছি। ইংরেজি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রচুর রিডিং হ্যাবিট ও ভোকাবুলারি বাড়াতে হবে। কারণ ১০০ মার্কসের আনসিন প্যাসেজ আসে। রচনা ও ট্রান্সলেশন প্রতিদিন কিছু না কিছু প্র্যাকটিস করতে হবে। মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ এ বিষয়টি পার্থক্য করে দেয়। মানসিক দক্ষতার পেছনে আমরা সময় কম দিই। কিন্তু বিষয়টিতে ৫০ নম্বর বরাদ্দ। তাই নিয়মিত মানসিক দক্ষতা অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। আমার মতে, লিখিত প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হচ্ছে অফলাইন মডেল টেস্ট। এর ফলে খাতার প্রেজেন্টেশনের মান বৃদ্ধি, সময়মতো লেখা শেষ করা, প্রশ্নের মান অনুযায়ী উত্তর দেওয়াসহ বহুমুখী দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। আমি সব সময় ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।
ভাইভায় প্রস্তুতি কেমন ছিল?
—ভাইভার জন্য আলাদাভাবে খুব বেশি প্রস্তুতি নিইনি। অবশ্য বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করার কারণে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তবে যে জিনিসগুলো একেবারে না পড়লেই নয়, সেগুলো দেখে গিয়েছিলাম; যেমন—জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমান চাকরি সংক্রান্ত, ক্যাডার চয়েসের প্রথম তিন ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত, পঠিত বিষয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ টপিক, সমসাময়িক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহ, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রীয় পলিসি, বাজেট, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং নিজ সম্পর্কে বেশ কিছু অ্যানালিটিক্যাল প্রশ্ন।
কোন বিষয়গুলো অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন?
—ক্যাডেট কলেজে পড়ার ফলে ইংরেজিতে বেশ ভালো দক্ষতা লাভ করার সুযোগ হয়েছে এবং বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, বিজ্ঞান—এই তিনটি বিষয়ে আমি ইংরেজি ভার্সনে উত্তর দিয়েছি। প্রকৌশল বিদ্যার ছাত্র হিসেবে গণিত ও বিজ্ঞানের প্রস্তুতিতেও খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এ ছাড়া নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও সহশিক্ষামূলক অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বেশ কিছু জিনিসের ব্যাপারে জানাশোনা ছিল। নিয়মিত টিউশনি করানোর ফলে বিষয়গুলোর চর্চা ছিল। এগুলোই অন্যদের চেয়ে আমাকে এগিয়ে রেখেছে বলে আমি মনে করি।




আপনি যদি অন্যের অধীনে চাকরি করতে না চান এবং নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে উদ্যোক্তা হওয়া আপনার জন্য চমৎকার বিকল্প। চাকরি খোঁজার চেয়ে চাকরিদাতা হওয়া অনেক বেশি গৌরবের। তরুণদের মধ্যে এখন উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা দারুণভাবে বাড়ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এখন বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি তহবিল থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।