• ই-পেপার

ভাইভা অভিজ্ঞতা

কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব বাড়ার কারণ কী?

  • তেজগাঁও কলেজের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে পড়াশোনা করেছেন রিফাত মাহমুদ। তিনি ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে ১৩তম মেধাস্থানে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

প্রশাসন, কাস্টমসের পর এবার পররাষ্ট্র ক্যাডার

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক করেছেন মো. মেহেদী হাসান। তিনি ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর আগে তিনি ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন এবং ৪৬তম বিসিএসে কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাঁর চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন আব্দুন নূর নাহিদ

প্রশাসন, কাস্টমসের পর এবার পররাষ্ট্র ক্যাডার
মো. মেহেদী হাসান

বিসিএস নিয়ে স্বপ্নের শুরুটা কিভাবে?

—ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় থেকেই সেনাবাহিনীতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আইএসএসবিতে প্রথমবার স্ক্রিন্ড আউট হই। দ্বিতীয়বার সুযোগ থাকলেও আর অংশগ্রহণ করিনি। সেদিনই মাকে কথা দিয়েছিলাম, ভবিষ্যতে বিসিএস দিয়ে রাষ্ট্রদূত হব! সেই থেকে বিসিএসের স্বপ্ন। বিসিএসে প্রতিবার পছন্দক্রমে ‘পররাষ্ট্র ক্যাডার’ রেখেছি। প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম। অবশেষে সফল হলাম।

 

শিক্ষাজীবনের অর্জন?

—এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০, রাজশাহী বোর্ড। জেএসসি, এসএসসিতে বৃত্তি পেয়েছি। জাতীয় সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় (২০১৫) বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হই। এ ছাড়া বিটিভিতে আয়োজিত জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় (২০২২) রানার্স আপ হয়েছি।

 

বিসিএসের মূল প্রস্তুতি কখন থেকে শুরু করেছেন?

—মূল প্রস্তুতি শুরু করেছি স্নাতক শেষ করার পর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকে প্রচুর টিউশনি করাতাম। জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে অংশ নিতাম। এসবের ফলে প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে যায়। আন্ত ক্যাডেট কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেলিভিশন পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিয়েছি। তাই সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি পর্বও আগেভাগে হয়ে গেছে।

 

প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল ও রুটিন কেমন ছিল?

—প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির সময় বিগত বছরের প্রশ্ন আগে সমাধান করেছি। এরপর প্রতিটি বিষয়ের এক সেট বই সংগ্রহ করেছি। বইগুলো বারবার পড়ে রিভিশন দিয়েছি। প্রতিটি বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক থাকে, যেখান থেকে প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। সেগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছি। অনলাইন বা অ্যাপে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষা দিতাম। এর ফলে নেগেটিভ মার্কিং ক্রমে কমে আসে। সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়ে যায়। নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নোট করে রেখে দিতাম। ডেটাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, যেমন—অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, বিভিন্ন সংস্থা ও তাদের সম্মেলন, পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের চুক্তি, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিষয়গুলো বারবার দেখতাম। প্রতিটি বিষয়ের টপিকভিত্তিক প্ল্যান করতাম। প্রতিদিনের পড়ার রুটিনে তিন-চারটি বিষয় রাখতাম। পরীক্ষার আগে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য বারবার রিভিশন দিয়েছি। আমি একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রিলিমিনারির যে তথ্যগুলো লিখিত পরীক্ষায় কাজে লাগে, সেগুলোর জন্য আলাদা নোট খাতা করেছিলাম। ডেটা, কোটেশন ইত্যাদির পেছনে না ছুটে ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগী ছিলাম। বাসায় বসে প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং অনুশীলন করেছি। রিডিং হ্যাবিট বাড়ানোর জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়েছি, ট্রান্সলেশন অনুশীলনের জন্য পত্রিকার সম্পাদকীয় অংশটুকুতে জোর দিয়েছিলাম। রচনার জন্য কিছু ডেটা, পয়েন্ট খাতায় নোট করে রেখেছি এবং এ ক্ষেত্রে আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভালোভাবে করেছি। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে কনসেপচুয়াল পার্ট ও সমসাময়িক ঘটনাবলিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। বাংলার জন্য সাহিত্য ও ব্যাকরণের ৬০ নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে নম্বর তোলা সহজ এবং সহজেই পার্থক্য তৈরি হয়। গণিত ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মূলত নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই এবং সিলেবাস অনুযায়ী এইচএসসি সিলেবাসের কিছু টপিক পড়েছি। ইংরেজি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রচুর রিডিং হ্যাবিট ও ভোকাবুলারি বাড়াতে হবে। কারণ ১০০ মার্কসের আনসিন প্যাসেজ আসে। রচনা ও ট্রান্সলেশন প্রতিদিন কিছু না কিছু প্র্যাকটিস করতে হবে। মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ এ বিষয়টি পার্থক্য করে দেয়। মানসিক দক্ষতার পেছনে আমরা সময় কম দিই। কিন্তু বিষয়টিতে ৫০ নম্বর বরাদ্দ। তাই নিয়মিত মানসিক দক্ষতা অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। আমার মতে, লিখিত প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হচ্ছে অফলাইন মডেল টেস্ট। এর ফলে খাতার প্রেজেন্টেশনের মান বৃদ্ধি, সময়মতো লেখা শেষ করা, প্রশ্নের মান অনুযায়ী উত্তর দেওয়াসহ বহুমুখী দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। আমি সব সময় ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।

 

ভাইভায় প্রস্তুতি কেমন ছিল?

—ভাইভার জন্য আলাদাভাবে খুব বেশি প্রস্তুতি নিইনি। অবশ্য বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করার কারণে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। তবে যে জিনিসগুলো একেবারে না পড়লেই নয়, সেগুলো দেখে গিয়েছিলাম; যেমন—জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমান চাকরি সংক্রান্ত, ক্যাডার চয়েসের প্রথম তিন ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত, পঠিত বিষয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ টপিক, সমসাময়িক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহ, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রীয় পলিসি, বাজেট, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং নিজ সম্পর্কে বেশ কিছু অ্যানালিটিক্যাল প্রশ্ন।

 

কোন বিষয়গুলো অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন?

—ক্যাডেট কলেজে পড়ার ফলে ইংরেজিতে বেশ ভালো দক্ষতা লাভ করার সুযোগ হয়েছে এবং বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, বিজ্ঞান—এই তিনটি বিষয়ে আমি ইংরেজি ভার্সনে উত্তর দিয়েছি। প্রকৌশল বিদ্যার ছাত্র হিসেবে গণিত ও বিজ্ঞানের প্রস্তুতিতেও খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এ ছাড়া নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও সহশিক্ষামূলক অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বেশ কিছু জিনিসের ব্যাপারে জানাশোনা ছিল। নিয়মিত টিউশনি করানোর ফলে বিষয়গুলোর চর্চা ছিল। এগুলোই অন্যদের চেয়ে আমাকে এগিয়ে রেখেছে বলে আমি মনে করি।

 

নিয়োগপ্রক্রিয়া, দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা

নিরাপত্তাকর্মীর চাহিদা বাড়ছে

বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজার সিকিউরিটি ফোর্সেস কম্পানিতে বর্তমানে চাকরি করছেন ১০ লক্ষাধিক নিরাপত্তাকর্মী। তাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক, এটিএম বুথ, কনস্ট্রাকশন সাইট, অ্যাপার্টমেন্ট, আন্তর্জাতিক সংস্থা, দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। এই খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, দায়দায়িত্ব, পদোন্নতি, বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধাসহ বিস্তারিত জানাচ্ছেন ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শক রবিউল আলম লুইপা

নিরাপত্তাকর্মীর চাহিদা বাড়ছে
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

সিকিউরিটি কম্পানি বা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট পোশাক পরে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা। এই খাতে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন হিসেবে জনবল নেওয়া হয়। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে নিরাপত্তাকর্মীর চাহিদা বাড়ছে। সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরাও এই পেশায় আসছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি নিরাপত্তাসেবা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. রাইহান সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, দেশীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ইপিজেড, দূতাবাস, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ করে শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি নিরাপত্তাসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ ও আইনসম্মত সব সুযোগ-সুবিধা দেয়। তাই প্রার্থীদের উচিত ডিআইএফই লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও স্বনামধন্য নিরাপত্তাসেবা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে এই খাতে কর্মজীবন শুরু করা, যাতে তাঁরা নিরাপদ কর্মপরিবেশের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত সুবিধা অর্জন করতে পারেন।’

 

প্রতিষ্ঠান নির্বাচন

সিকিউরিটি কম্পানিভেদে নিয়োগপ্রক্রিয়ার ধাপ, আবেদন যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের ধরন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন ভিন্ন। নিরাপত্তাকর্মীদের বেতনও দেওয়া হয় নিয়োগকারী কম্পানি থেকেই, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নয়। তাই প্রার্থীদের উচিত যাচাই-বাছাই করে মানসম্মত সিকিউরিটি সার্ভিস কম্পানি নির্বাচনের চেষ্টা করা। উল্লেখ্য, সিকিউরিটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ প্রফেশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএসপিএ) কাজ করছে।

 

নিয়োগপ্রক্রিয়া

সিকিউরিটি কম্পানিগুলো সাধারণত সারা বছরই চাহিদা অনুযায়ী কম-বেশি জনবল নিয়োগ দেয়। জাতীয় দৈনিক, অনলাইন জব পোর্টাল এবং কম্পানির নিজস্ব ফেসবুক পেজে নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সিকিউরিটি সার্ভিস কম্পানিগুলোতে সাধারণত সিকিউরিটি গার্ড, সুপারভাইজার ও সিকিউরিটি অফিসার পদে নিরাপত্তা জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়ার ধাপগুলো প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হয়।

 

আবেদনের যোগ্যতা

সিকিউরিটি সংস্থায় গার্ড পদের জন্য পড়াশোনার চেয়ে শারীরিক সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বেশির ভাগ নিরাপত্তা সংস্থা অষ্টম শ্রেণি বা জেএসসি নির্ধারণ করে। তবে স্বনামধন্য সংস্থাগুলো এসএসসি বা এইচএসসি পাস প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়। শারীরিক যোগ্যতা হিসেবে পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা প্রতিষ্ঠানভেদে ৫ ফুট থেকে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং নারী প্রার্থীদের ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি হতে হয়। সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি বা পুলিশ বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সিকিউরিটি গার্ড পদের জন্য বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হয়। অভিজ্ঞ বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য। অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, চারিত্রিক সনদ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ইতিবাচক থাকতে হবে। দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর কাছে না গিয়ে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের অফিসে যোগাযোগ করলেই নিয়োগসংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

 

বাছাই পরীক্ষা

বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ধাপ—

♦ প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা (উচ্চতা, ওজন ও দৃষ্টিশক্তি)

♦ মৌখিক পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান, আচরণ ও বুদ্ধিমত্তা)

♦ স্বাস্থ্য পরীক্ষা (রক্তের গ্রুপ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ)

♦ পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদান।

 

প্রথম সারির বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষার আগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব নিরাপত্তাকর্মীর বাধ্যতামূলক পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশন করার ব্যবস্থা করা হয়। কোনো কোনো সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত নিয়োগের আগে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা জামানত রাখে।

 

প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণের ধরন ও পদ্ধতি প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন। প্রথম সারির মানসম্মত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের খরচে নিরাপত্তাকর্মীদের ১৪ থেকে ২৮ দিন বিনা খরচায় থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিছুসংখ্যক সিকিউরিটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান অন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ১৪ দিন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়। আবার কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ ছাড়াই কর্মী নিয়োগ ও পদায়ন করে। প্রশিক্ষণকালে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ডিউটি করার শারীরিক সক্ষমতা, স্যালুট ও প্রটোকল, যেমন—টেলিফোন আচরণ, দর্শনার্থীদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ, গেট পাস চেক করা এবং রেজিস্টার খাতা মেইনটেইন করার নিয়ম, অগ্নিনির্বাপণ প্রক্রিয়া ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ, চুরি-ডাকাতি বা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যেমন—আধুনিক মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং ইত্যাদি বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

কাজের দায়িত্ব ও কর্মঘণ্টা

একজন সিকিউরিটি গার্ডকে ৮ ঘণ্টা বা ১২ ঘণ্টার শিফটে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হয়। শিফট ডিউটির মাধ্যমে সপ্তাহে ৭ দিনই ডিউটি করতে হয়। তবে শারীরিক অসুস্থতা ও বিশেষ প্রয়োজনে ছুটির ব্যবস্থা আছে। মানসম্মত সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানগুলো সাপ্তাহিক বন্ধ ও উৎসব পালনের জন্য এক বছরে ৩৫ থেকে ১০৫ দিন পর্যন্ত ছুটি দেয়। সিকিউরিটি গার্ড হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার প্রথম ডিফেন্স লাইন। তাঁদের সততা, দায়িত্বশীলতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপরই প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নিরাপত্তা নির্ভর করে। একজন গার্ডের প্রধান দায়িত্বসমূহ হলো—সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল, সিসিটিভি ও আর্চওয়ে মনিটরিং, প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, পরিচয় যাচাই, দর্শনার্থী বা বহিরাগত ব্যক্তিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নাম, মোবাইল ফোন নম্বর এবং আগমনের কারণ রেজিস্টার খাতায় এন্ট্রি করা, প্রতিষ্ঠানে আসা মালপত্র, যানবাহন ও কুরিয়ারের বিবরণ লিপিবদ্ধ করা, গেট পাস চেক, ব্যাংক বা এটিএম বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া চুরি-ডাকাতির চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক অ্যালার্ম বাজানো এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অবহিত করা, নিয়মিত অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার পরীক্ষা করা এবং আগুন লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করা এবং ভবনের লোকজনকে নিরাপদে বের হতে সাহায্য করাও তাঁদের কাজ। নিজের শিফট শেষে পরবর্তী শিফটের সিকিউরিটি গার্ডের কাছে সমস্ত দায়িত্ব, চাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা বুঝিয়ে দিয়ে ডিউটি ত্যাগ করতে হয়। সাধারণত একজন সুপারভাইজারের অধীনে ৫ থেকে ১০ জন সিকিউরিটি গার্ড এবং একজন সিকিউরিটি অফিসারের অধীনে ৪০-৫০ জন সিকিউরিটি গার্ড ও চার-পাঁচজন সুপারভাইজার কর্মরত থাকেন।

 

বেতন-ভাতা, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা

গার্ড, সুপারভাইজার ও সিকিউরিটি অফিসারদের বেতন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। প্রথম সারির মানসম্মত সিকিউরিটি সার্ভিস কম্পানিতে গার্ড পদে ১১ হাজার টাকা, সুপারভাইজার পদে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার এবং সিকিউরিটি অফিসার পদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, দৈনিক ওভারটাইম ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে মাসিক বেতন নিয়মিত বৃদ্ধি হয়। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিকিউরিটি গার্ড থেকে পদোন্নতি পেয়ে সুপারভাইজার এবং সুপারভাইজার থেকে পদোন্নতি পেয়ে সিকিউরিটি অফিসার হওয়ার সুযোগ আছে। তবে বিভিন্ন বাহিনীর নিচের গ্রেডের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সরাসরি সুপারভাইজার ও অপেক্ষাকৃত ওপরের গ্রেডের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সরাসরি সিকিউরিটি অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম সারির নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম ও আবাসন বা ব্যারাক সুবিধা দেয়। কর্মকালে ওভারটাইম সুবিধা, লিভ ইনক্যাশমেন্ট, উৎসব বোনাস, ইনসেনটিভস, স্পেশাল বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটির সুবিধা দেয় প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো। খেয়াল রাখতে হবে, নিরাপত্তাকর্মী শুধু একটি চাকরি নয়; একজন নিরাপত্তাকর্মীর সামান্যতম অসতর্কতায় বড় ধরনের আর্থিক বা জানমালের ক্ষতি হতে পারে। তাই ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সততার মানসিকতা থাকলেই এ পেশায় আসা উচিত।

 

অনার্স পরীক্ষা শেষ, কী করবেন?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ক্যারিয়ারের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই চূড়ান্ত সময়। অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, কোন দিকে যাবেন—সরকারি চাকরি, করপোরেট সেক্টর, নাকি অন্য কিছু। ক্যারিয়ারের নানা দিক এবং সম্ভাব্য খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিসিএস কর্মকর্তা ও ক্যারিয়ার পরামর্শক রবিউল আলম লুইপা

অনার্স পরীক্ষা শেষ, কী করবেন?

অনার্স শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা একাডেমিক দিক থেকে চাপমুক্ত থাকেন। কিন্তু একই সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়েও দুশ্চিন্তা পোহাতে হয়। কোনো শিক্ষার্থী মাস্টার্স করার পরিকল্পনা করুন বা না করুন, বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নামতে হবে এখনই।

 

সরকারি চাকরি

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত হলো সরকারি চাকরি। এর কারণ চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা।

বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) : চাকরির বাজারে এখন সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্ষেত্র এটি। আপনি সাধারণ (জেনারেল) এবং কারিগরি/পেশাগত (টেকনিক্যাল) ক্যাডারে পরীক্ষা দিতে পারবেন। চার বছরের অনার্স ডিগ্রি থাকলেই আপনি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য যোগ্য। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বিসিএস পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা—এই তিন স্তরে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা বাছাই করা হয়। বিসিএস লক্ষ্য হলে এখন থেকেই বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ধরে বিষয়ভিত্তিক (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) প্রস্তুতি শুরু করুন।

ব্যাংক সেক্টর : বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে প্রতিবছর প্রচুর জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক ও অফিসার (সাধারণ) এবং অন্যান্য ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার, অফিসার (সাধারণ) ও অফিসার (ক্যাশ)—এই তিন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) মাধ্যমে ব্যাংকের পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এখানেও প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়।

অন্যান্য সরকারি চাকরি : পিএসসির অধীনে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে (সাবরেজিস্ট্রার, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, কর পরিদর্শক প্রভৃতি) জনবল নেওয়া হয়। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতি নিতে পারেন।

 

বেসরকারি চাকরি

বেসরকারি খাতে অনেক ক্ষেত্রে মেধা ও পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হয়। আপনি যদি করপোরেট সংস্কৃতি পছন্দ করেন এবং দ্রুত ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে চান, তাহলে এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।

মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি (এমএনসি) : ইউনিলিভার, নেসলে, বা ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর মতো বড় মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিগুলোতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি (এমটি) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড যদি বিবিএ (অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ফিন্যান্স) হয়ে থাকে, তাহলে বিভিন্ন কম্পানির সেলস, মার্কেটিং, মানবসম্পদ (এইচআর) বা অ্যাকাউন্টস বিভাগে কাজ করতে পারেন। অন্যদিকে মানবিক বা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের দক্ষতা অনুযায়ী কাস্টমার রিলেশন, অ্যাডমিন বা অপারেশনস বিভাগে যোগ দিতে পারেন।

টেলিকমিউনিকেশন ও ই-কমার্স : বহুজাতিক মোবাইল অপারেটর কিংবা দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ও লজিস্টিকস কম্পানিগুলোতে মার্কেটিং, সেলস, কাস্টমার কেয়ার ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে।

এনজিও সেক্টর : ব্র‌্যাক, আইসিডিডিআরবি কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিওতে (যেমন—ইউএনডিপি, ইউএসএইড) ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে; বিশেষ করে যাঁরা সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি বা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী, তাঁদের জন্য এই খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এর জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করার মানসিকতা এবং ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

বেসরকারি ব্যাংক : সরকারি ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংক ক্যারিয়ারও একজন চাকরিপ্রার্থীর সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করে দিতে পারে। এখানে চাকরির নিরাপত্তা অন্য যেকোনো বেসরকারি খাতের চেয়ে বেশি এবং বড় অঙ্কের আর্থিক   সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

 

শিক্ষকতা

শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এই পেশায়  উপস্থাপনাশৈলী চমৎকার হতে হবে। ইংরেজি বলার দক্ষতা (স্পোকেন ইংলিশ) এই পেশায় আপনাকে এগিয়ে রাখবে। দ্রুত প্রমোশন ও নিজেকে এগিয়ে রাখতে বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ও এমএড (মাস্টার্স অব এডুকেশন) ডিগ্রি দারুণ কাজে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় : একাডেমিক ফল ভালো থাকলে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সম্ভব। তবে প্রথাগত সীমাবদ্ধতার জন্য বাংলাদেশে এখনো ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়/জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রবণতা নেই বললেই চলে।

সরকারি কলেজ : বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেলে আপনি সরাসরি গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি কলেজে যোগ দিতে পারবেন। লক্ষ্য সরকারি কলেজ বা সরকারি মাদরাসা হলে আপনাকে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে হবে।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় : পিএসসির নন-ক্যাডার (দশম গ্রেড) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে আপনি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ পাবেন। এর জন্যও আপনাকে সরকারি চাকরির প্রস্তুতিই নিতে হবে।

বেসরকারি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয় : বর্তমানে দেশের সব বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগের একমাত্র মাধ্যম হলো এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ)। প্রতিবছর এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হয়। প্রথমে আপনাকে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি ভালো স্কোর বা মেরিট পজিশন অর্জন করতে হবে। পরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে শূন্য পদে আবেদনের মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : গ্রাম মফস্বলের চাকরিপ্রার্থীদের কাছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এখনো বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বড় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর জোর প্রস্তুতি নিন।

বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজ : নটর ডেম, ভিকারুননিসা, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম/ভার্সন স্কুলে শিক্ষকতা করতে চাইলে সনদের চেয়ে আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

আইটি ও ডিজিটাল স্কিলস

বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির। আপনার অনার্সের বিষয় যা-ই হোক, আইটি বা ডিজিটাল কোনো স্কিল জানা থাকলে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। এই ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আপনি ঘরে বসে উপার্জনও করতে পারবেন। আপনার আগ্রহ থাকলে আপনি অনার্স পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের মাঝখানের সময়টাতে একটি নির্দিষ্ট স্কিল পুরোপুরি আয়ত্ত করে ফেলুন। ইউটিউব বা স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিন বা ছয় মাসের কোর্স করতে পারেন। কাজ শেখার পর আপওয়ার্ক, ফাইভার কিংবা ফ্রিল্যান্সারের মতো প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করা যায়। এ ছাড়া রিমোট জবেরও সুযোগ আছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং : বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং কনটেন্ট রাইটিংয়েরও বেশ চাহিদা আছে। দিন দিন এই সেক্টরে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়বে।

গ্রাফিক ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং : ক্রিয়েটিভ কাজের প্রতি ঝোঁক থাকলে এটি হতে পারে আপনার আয়ের প্রধান উৎস। আপনি ফ্রিল্যান্স বা কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডেটা এন্ট্রি : কোডিং বা ডেটা অ্যানালিসিসের কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (ফাইভার, আপওয়ার্ক) অথবা দেশি আইটি ফার্মে যোগ দিতে পারেন। এখানে অর্থ উপার্জনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

 

উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপ

অনার্স পরীক্ষা শেষ, কী করবেন?আপনি যদি অন্যের অধীনে চাকরি করতে না চান এবং নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে উদ্যোক্তা হওয়া আপনার জন্য চমৎকার বিকল্প। চাকরি খোঁজার চেয়ে চাকরিদাতা হওয়া অনেক বেশি গৌরবের। তরুণদের মধ্যে এখন উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা দারুণভাবে বাড়ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এখন বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি তহবিল থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ই-কমার্স ও এফ-কমার্স : স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো অনলাইন বিজনেস। ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য, পোশাক, গ্যাজেট, হস্তশিল্প বা অর্গানিক ফুডের ব্যবসা শুরু করা যায়।

কৃষি ও ডেইরি ফার্মিং : গ্রামীণ বা মফস্বল এলাকায় থাকলে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মৎস্য চাষ, ডেইরি ফার্ম বা ছাদকৃষি/নার্সারিকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া যেতে পারে।

শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান : একাডেমিক বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সম্পর্কিত প্রস্তুতি সহায়ক প্রতিষ্ঠান, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, ভাষাশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ যেকোনো শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান নিয়েও ভাবতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

স্টার্টআপ : সমাজের কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান নিয়ে কোনো সেবামূলক বা প্রযুক্তিগত স্টার্টআপ শুরু করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন একটি ইউনিক আইডিয়া ও কঠোর পরিশ্রম।

 

উচ্চশিক্ষা ও প্রফেশনাল ডিগ্রি

পরীক্ষা শেষ মানেই পড়াশোনার শেষ নয়। যাঁরা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চান বা বিদেশে স্থায়ী হতে চান, তাঁদের জন্য উচ্চশিক্ষা শুরু হতে পারে নতুন পরিকল্পনা। আর প্রফেশনাল ডিগ্রি আপনার একাডেমিক ডিগ্রিতে যোগ করবে নতুন মাত্রা।

মাস্টার্স ও উচ্চতর ডিগ্রি : আপনি আপনার নিজ কলেজ বা কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করতে পারেন। এ ছাড়া প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকার জন্য ইভনিং এমবিএ বা বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সও করা যেতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশের অন্য কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল/পিএইচডিও সম্পন্ন করতে পারেন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা : অনেকে মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া অসম্ভব, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আইইএলটিএস কিংবা টোফেলে ভালো স্কোর তুলতে পারলে এবং সিজিপিএ ভালো থাকলে বিদেশে স্কলারশিপসহ মাস্টার্সের সুযোগ পাবেন।

প্রফেশনাল ডিগ্রি : বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সাধারণ ডিগ্রির পাশাপাশি একটি প্রফেশনাল ডিগ্রি আপনাকে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রাখবে। আপনি যদি ব্যবসায় প্রশাসন/ হিসাববিজ্ঞান/ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তাহলে নিরীক্ষা ও হিসাব পেশায় সিএ (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি), উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সেক্টরে সিএমএ (কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট), কম্পানির আইন ও প্রশাসনিক দিক দেখভালের জন্য সিএস (চার্টার্ড সেক্রেটারি) ও এমবিএ (প্রফেশনাল) প্রভৃতি ডিগ্রি নিয়ে ভাবতে পারেন। যেকোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী কম্পানির মানবসম্পদ বিভাগে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পিএইচডিএইচআরএম (পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট), লজিস্টিকস এবং সাপ্লাই চেইন বিভাগের জন্য পিএইচডি ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ওকালতি বা আইন পরামর্শক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ল (এলএলবি), আইটি সেক্টরের জন্য ডেটা সায়েন্স, নেটওয়ার্ক, সাইবার সিকিউরিটি সার্টিফিকেশনস বা সিসিএনএ, সিইএইচের মতো প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন নিতে পারেন।

১৪৬০ মিটার রিডার নেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

মিটার রিডার-কাম-ম্যাসেঞ্জার পদে পুনর্নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। এই পদে এক হাজার ৪৬০ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন

চাকরি আছে ডেস্ক
১৪৬০ মিটার রিডার নেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ মিটার রিডার-কাম-ম্যাসেঞ্জার। এই পদের কর্মীরা বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত, গ্রাহকসেবা এবং অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।

 

আবেদনের যোগ্যতা

      প্রার্থীকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

      ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

      প্রার্থীর অবশ্যই যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করার দক্ষতা থাকতে হবে এবং হাতের লেখা সুন্দর হতে হবে।

      প্রার্থীকে অবশ্যই সৎ, বিশ্বস্ত, উত্তম চরিত্রের এবং সুন্দর ও সুঠাম দেহের অধিকারীসহ ভালো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হতে হবে।

      গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে মিটার রিডিং গ্রহণ এবং বিল বিতরণের মানসিকতা থাকতে হবে এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) লক্ষ্য ও কর্মসূচি সম্পর্কে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে।

♦      পবিসের বেতন কাঠামো অনুযায়ী ১৪,৭০০ টাকা বেতন। এ ছাড়া চুক্তির নিয়মানুযায়ী অন্যান্য ভাতা দেওয়া হবে।

♦      বাইসাইকেল চালনায় পারদর্শী হতে হবে এবং নিজস্ব বাইসাইকেল থাকতে হবে।

♦      চূড়ান্তভাবে নিয়োগের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রার্থীকে যোগদানের সময় নিরাপত্তা জামানত হিসেবে পবিসের ক্যাশ শাখায় ১০,০০০ টাকা জমা দিতে হবে।

 

মিটার রিডার-কাম-ম্যাসেঞ্জারের দায়িত্ব

মিটার রিডার-কাম-ম্যাসেঞ্জার মূলত মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—

♦      নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে বিদ্যুৎ মিটারের সঠিক রিডিং সংগ্রহ করা।

♦      মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও জমা দেওয়া।

♦      গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিল পৌঁছে দেওয়া এবং বিলসংক্রান্ত তথ্য প্রদান।

♦ মিটার বিকল, অস্বাভাবিক ব্যবহার বা বিদ্যুৎ চুরির সন্দেহজনক বিষয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

♦ অফিসের প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র, নোটিশ ও সরকারি কাগজপত্র নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া।

♦ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকসেবা ও মাঠ পর্যায়ের অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।

♦ নতুন সংযোগ, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বা পুনঃসংযোগের কাজে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করা।

 

নিয়োগ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ টপিকস

বাংলা : ব্যাকরণ, শুদ্ধ বানান, সমার্থক-বিপরীতার্থক শব্দ, বাগধারা ও সাহিত্য।

ইংরেজি : Vocabulary, Grammar, Tense, Voice, Narration, Synonym, Antonym, Sentence Correction.

গণিত : শতকরা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত, সুদ, গড়, বয়স, সময় ও কাজ, সরল সমীকরণ ও সাধারণ জ্যামিতি।

সাধারণ জ্ঞান : বাংলাদেশের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় দিবস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, সাম্প্রতিক ঘটনা ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি।

আইসিটি : কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা, ইন্টারনেট, এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল ও ডিজিটাল সেবা।