• ই-পেপার

১৪৬০ মিটার রিডার নেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

  • মিটার রিডার-কাম-ম্যাসেঞ্জার পদে পুনর্নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। এই পদে এক হাজার ৪৬০ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন

অনার্স পরীক্ষা শেষ, কী করবেন?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ক্যারিয়ারের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই চূড়ান্ত সময়। অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, কোন দিকে যাবেন—সরকারি চাকরি, করপোরেট সেক্টর, নাকি অন্য কিছু। ক্যারিয়ারের নানা দিক এবং সম্ভাব্য খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন বিসিএস কর্মকর্তা ও ক্যারিয়ার পরামর্শক রবিউল আলম লুইপা

অনার্স পরীক্ষা শেষ, কী করবেন?

অনার্স শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা একাডেমিক দিক থেকে চাপমুক্ত থাকেন। কিন্তু একই সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়েও দুশ্চিন্তা পোহাতে হয়। কোনো শিক্ষার্থী মাস্টার্স করার পরিকল্পনা করুন বা না করুন, বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নামতে হবে এখনই।

 

সরকারি চাকরি

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত হলো সরকারি চাকরি। এর কারণ চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা।

বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) : চাকরির বাজারে এখন সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্ষেত্র এটি। আপনি সাধারণ (জেনারেল) এবং কারিগরি/পেশাগত (টেকনিক্যাল) ক্যাডারে পরীক্ষা দিতে পারবেন। চার বছরের অনার্স ডিগ্রি থাকলেই আপনি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য যোগ্য। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বিসিএস পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা—এই তিন স্তরে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা বাছাই করা হয়। বিসিএস লক্ষ্য হলে এখন থেকেই বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ধরে বিষয়ভিত্তিক (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) প্রস্তুতি শুরু করুন।

ব্যাংক সেক্টর : বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে প্রতিবছর প্রচুর জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক ও অফিসার (সাধারণ) এবং অন্যান্য ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার, অফিসার (সাধারণ) ও অফিসার (ক্যাশ)—এই তিন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) মাধ্যমে ব্যাংকের পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এখানেও প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়।

অন্যান্য সরকারি চাকরি : পিএসসির অধীনে বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে (সাবরেজিস্ট্রার, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, কর পরিদর্শক প্রভৃতি) জনবল নেওয়া হয়। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতি নিতে পারেন।

 

বেসরকারি চাকরি

বেসরকারি খাতে অনেক ক্ষেত্রে মেধা ও পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হয়। আপনি যদি করপোরেট সংস্কৃতি পছন্দ করেন এবং দ্রুত ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে চান, তাহলে এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে।

মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি (এমএনসি) : ইউনিলিভার, নেসলে, বা ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর মতো বড় মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিগুলোতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি (এমটি) হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড যদি বিবিএ (অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ফিন্যান্স) হয়ে থাকে, তাহলে বিভিন্ন কম্পানির সেলস, মার্কেটিং, মানবসম্পদ (এইচআর) বা অ্যাকাউন্টস বিভাগে কাজ করতে পারেন। অন্যদিকে মানবিক বা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের দক্ষতা অনুযায়ী কাস্টমার রিলেশন, অ্যাডমিন বা অপারেশনস বিভাগে যোগ দিতে পারেন।

টেলিকমিউনিকেশন ও ই-কমার্স : বহুজাতিক মোবাইল অপারেটর কিংবা দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ও লজিস্টিকস কম্পানিগুলোতে মার্কেটিং, সেলস, কাস্টমার কেয়ার ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে।

এনজিও সেক্টর : ব্র‌্যাক, আইসিডিডিআরবি কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিওতে (যেমন—ইউএনডিপি, ইউএসএইড) ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে; বিশেষ করে যাঁরা সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি বা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী, তাঁদের জন্য এই খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এর জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করার মানসিকতা এবং ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

বেসরকারি ব্যাংক : সরকারি ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংক ক্যারিয়ারও একজন চাকরিপ্রার্থীর সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করে দিতে পারে। এখানে চাকরির নিরাপত্তা অন্য যেকোনো বেসরকারি খাতের চেয়ে বেশি এবং বড় অঙ্কের আর্থিক   সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

 

শিক্ষকতা

শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এই পেশায়  উপস্থাপনাশৈলী চমৎকার হতে হবে। ইংরেজি বলার দক্ষতা (স্পোকেন ইংলিশ) এই পেশায় আপনাকে এগিয়ে রাখবে। দ্রুত প্রমোশন ও নিজেকে এগিয়ে রাখতে বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ও এমএড (মাস্টার্স অব এডুকেশন) ডিগ্রি দারুণ কাজে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় : একাডেমিক ফল ভালো থাকলে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সম্ভব। তবে প্রথাগত সীমাবদ্ধতার জন্য বাংলাদেশে এখনো ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়/জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রবণতা নেই বললেই চলে।

সরকারি কলেজ : বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেলে আপনি সরাসরি গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি কলেজে যোগ দিতে পারবেন। লক্ষ্য সরকারি কলেজ বা সরকারি মাদরাসা হলে আপনাকে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে হবে।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় : পিএসসির নন-ক্যাডার (দশম গ্রেড) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে আপনি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ পাবেন। এর জন্যও আপনাকে সরকারি চাকরির প্রস্তুতিই নিতে হবে।

বেসরকারি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয় : বর্তমানে দেশের সব বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগের একমাত্র মাধ্যম হলো এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ)। প্রতিবছর এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হয়। প্রথমে আপনাকে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি ভালো স্কোর বা মেরিট পজিশন অর্জন করতে হবে। পরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে শূন্য পদে আবেদনের মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : গ্রাম মফস্বলের চাকরিপ্রার্থীদের কাছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এখনো বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বড় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর জোর প্রস্তুতি নিন।

বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজ : নটর ডেম, ভিকারুননিসা, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম/ভার্সন স্কুলে শিক্ষকতা করতে চাইলে সনদের চেয়ে আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

আইটি ও ডিজিটাল স্কিলস

বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির। আপনার অনার্সের বিষয় যা-ই হোক, আইটি বা ডিজিটাল কোনো স্কিল জানা থাকলে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। এই ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আপনি ঘরে বসে উপার্জনও করতে পারবেন। আপনার আগ্রহ থাকলে আপনি অনার্স পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের মাঝখানের সময়টাতে একটি নির্দিষ্ট স্কিল পুরোপুরি আয়ত্ত করে ফেলুন। ইউটিউব বা স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিন বা ছয় মাসের কোর্স করতে পারেন। কাজ শেখার পর আপওয়ার্ক, ফাইভার কিংবা ফ্রিল্যান্সারের মতো প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করা যায়। এ ছাড়া রিমোট জবেরও সুযোগ আছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং : বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং কনটেন্ট রাইটিংয়েরও বেশ চাহিদা আছে। দিন দিন এই সেক্টরে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়বে।

গ্রাফিক ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং : ক্রিয়েটিভ কাজের প্রতি ঝোঁক থাকলে এটি হতে পারে আপনার আয়ের প্রধান উৎস। আপনি ফ্রিল্যান্স বা কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডেটা এন্ট্রি : কোডিং বা ডেটা অ্যানালিসিসের কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস (ফাইভার, আপওয়ার্ক) অথবা দেশি আইটি ফার্মে যোগ দিতে পারেন। এখানে অর্থ উপার্জনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

 

উদ্যোক্তা বা স্টার্টআপ

অনার্স পরীক্ষা শেষ, কী করবেন?আপনি যদি অন্যের অধীনে চাকরি করতে না চান এবং নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে উদ্যোক্তা হওয়া আপনার জন্য চমৎকার বিকল্প। চাকরি খোঁজার চেয়ে চাকরিদাতা হওয়া অনেক বেশি গৌরবের। তরুণদের মধ্যে এখন উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা দারুণভাবে বাড়ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এখন বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি তহবিল থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ই-কমার্স ও এফ-কমার্স : স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো অনলাইন বিজনেস। ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য, পোশাক, গ্যাজেট, হস্তশিল্প বা অর্গানিক ফুডের ব্যবসা শুরু করা যায়।

কৃষি ও ডেইরি ফার্মিং : গ্রামীণ বা মফস্বল এলাকায় থাকলে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মৎস্য চাষ, ডেইরি ফার্ম বা ছাদকৃষি/নার্সারিকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া যেতে পারে।

শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান : একাডেমিক বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সম্পর্কিত প্রস্তুতি সহায়ক প্রতিষ্ঠান, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, ভাষাশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ যেকোনো শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান নিয়েও ভাবতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

স্টার্টআপ : সমাজের কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান নিয়ে কোনো সেবামূলক বা প্রযুক্তিগত স্টার্টআপ শুরু করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন একটি ইউনিক আইডিয়া ও কঠোর পরিশ্রম।

 

উচ্চশিক্ষা ও প্রফেশনাল ডিগ্রি

পরীক্ষা শেষ মানেই পড়াশোনার শেষ নয়। যাঁরা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চান বা বিদেশে স্থায়ী হতে চান, তাঁদের জন্য উচ্চশিক্ষা শুরু হতে পারে নতুন পরিকল্পনা। আর প্রফেশনাল ডিগ্রি আপনার একাডেমিক ডিগ্রিতে যোগ করবে নতুন মাত্রা।

মাস্টার্স ও উচ্চতর ডিগ্রি : আপনি আপনার নিজ কলেজ বা কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করতে পারেন। এ ছাড়া প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকার জন্য ইভনিং এমবিএ বা বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সও করা যেতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশের অন্য কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল/পিএইচডিও সম্পন্ন করতে পারেন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা : অনেকে মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়া অসম্ভব, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আইইএলটিএস কিংবা টোফেলে ভালো স্কোর তুলতে পারলে এবং সিজিপিএ ভালো থাকলে বিদেশে স্কলারশিপসহ মাস্টার্সের সুযোগ পাবেন।

প্রফেশনাল ডিগ্রি : বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সাধারণ ডিগ্রির পাশাপাশি একটি প্রফেশনাল ডিগ্রি আপনাকে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রাখবে। আপনি যদি ব্যবসায় প্রশাসন/ হিসাববিজ্ঞান/ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তাহলে নিরীক্ষা ও হিসাব পেশায় সিএ (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি), উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সেক্টরে সিএমএ (কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট), কম্পানির আইন ও প্রশাসনিক দিক দেখভালের জন্য সিএস (চার্টার্ড সেক্রেটারি) ও এমবিএ (প্রফেশনাল) প্রভৃতি ডিগ্রি নিয়ে ভাবতে পারেন। যেকোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী কম্পানির মানবসম্পদ বিভাগে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পিএইচডিএইচআরএম (পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট), লজিস্টিকস এবং সাপ্লাই চেইন বিভাগের জন্য পিএইচডি ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ওকালতি বা আইন পরামর্শক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ল (এলএলবি), আইটি সেক্টরের জন্য ডেটা সায়েন্স, নেটওয়ার্ক, সাইবার সিকিউরিটি সার্টিফিকেশনস বা সিসিএনএ, সিইএইচের মতো প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন নিতে পারেন।

ভাইভা অভিজ্ঞতা

প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন নাছরিন জাহান বৃষ্টি। তিনি ৪৭তম বিসিএসে ট্যাক্স ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
নাছরিন জাহান বৃষ্টি

ভাইভা হয়েছিল ১৫ জুন ২০২৬। ক্যাডার পছন্দক্রমের প্রথম দিকেই ছিল অ্যাডমিন, ট্যাক্স ও কাস্টমস। দরজা খুলে অনুমতি নিয়ে সালাম দিয়ে ভাইভা রুমে প্রবেশ করেছি। টেবিলের কাছে গিয়ে ফরম জমা দিতেই স্যার চেয়ারে গিয়ে বসতে বললেন। চেয়ারে বসে সবার দিকে আই কন্টাক্ট করে ধন্যবাদ জানালাম।

চেয়ারম্যান : নাছরিন জাহান, কেমন আছেন?

—(হাসিমুখে) আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি স্যার। আপনারা কেমন আছেন?

চেয়ারম্যান : জি, আমরাও ভালো আছি। আপনি কি নার্ভাস?

—না, স্যার।

চেয়ারম্যান : এখন আমরা আপনার সঙ্গে ১৫ মিনিটের মতো গল্প করব। আপনি অনুমতি দিলেই আমরা শুরু করব। এতে আপনার যদি ২০ মিনিট সময়ও লাগে আপনি নিতে পারেন।

—জি স্যার, আমি প্রস্তুত।

চেয়ারম্যান : নাছরিন, আপনার পড়াশোনা কিসে? কোথায় পড়েছেন?

—স্যার, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছি।

চেয়ারম্যান : (কাগজপত্র দেখতে দেখতে) বাহ্! আপনার সব রেজাল্ট তো অনেক ভালো। বর্তমানে কিসে আছেন?

—স্যার, বর্তমানে আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে অফিসার (জেনারেল) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।

চেয়ারম্যান : বেশ ভালো। শিক্ষকদের আমরা যেন কী বলি?

—মানুষ গড়ার কারিগর, স্যার।

চেয়ারম্যান : ঠিক, আমি মনে করি এই কারিগরদের কিছু গুণ থাকতে হয়। আপনি আপনার দৃষ্টিতে একজন শিক্ষকের পাঁচটি গুণ গুরুত্ব বিবেচনায় ক্রমান্বয়ে বলুন।

—ধন্যবাদ, স্যার। একজন শিক্ষকের অনেক গুণ থাকতে পারে। আমি যদি গুরুত্ব্ব বিবেচনায় বলি, তাহলে বলব—একজন শিক্ষকের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা, যোগাযোগ দক্ষতা, ধৈর্য ও সহনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ, সততা—এই গুণগুলো থাকতে হবে।

চেয়ারম্যান : বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যদি যুক্ত করি, তাহলে আপনি সময়ানুবর্তিতা আর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান—কোনটাকে আগে রাখবেন? কেন আগে রাখবেন, যুক্তি দিন।
—স্যার, আমি সময়ানুবর্তিতাকে আগে রাখব। কারণ একজন শিক্ষক বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যতই ধারণ করুন, তিনি যদি নিজের কর্মস্থল কিংবা ক্লাসে যথাসময়ে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সেই জ্ঞান কাজে লাগানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

চেয়ারম্যান : গুড। আপনাদের মনোবিজ্ঞানের এখন কোন সংজ্ঞাটি প্রচলিত?

—স্যার, মনোবিজ্ঞানের ধারণা প্রথমে ছিল ‘সায়েন্স অব স্পিরিট’, পরে ‘সায়েন্স অব সোল’। তারপর এটি ‘সায়েন্স অব মাইন্ড’ এবং বর্তমানে মনোবিজ্ঞান হলো মানুষের আচরণ এবং আচরণের পেছনে জড়িত মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন।

চেয়ারম্যান : অনেক কঠিন বিষয়! আচ্ছা, আপনার প্রথম পছন্দ কী?

—বিসিএস প্রশাসন, স্যার।

চেয়ারম্যান : শাসন ও প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য বলতে পারবেন?

—জি স্যার। শাসন হচ্ছে নীতি নির্ধারণ আর প্রশাসন হলো সেই নীতির বাস্তবায়ন। যেখানে উভয়েরই লক্ষ্য জনকল্যাণ।

চেয়ারম্যান : What do you mean by public administration and private administration? Could you explain these simply?

-Yes sir. Public administration means management of public affairs for public wellbeing. On the otherhand private administration means the management of private organisation for achieving profit.

চেয়ারম্যান : এসডিজি কী?

—এসডিজি হলো সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত গৃহীত বৈশ্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম।

চেয়ারম্যান : কয়টি গোলস? শিক্ষা সম্পর্কিত কোনটি?

—মোট ১৭টি গোল, স্যার। এসডিজি-৪-এ গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার কথা আছে।

এক্সটার্নাল-১ : আপনার বিষয়ের কাউন্সেলিং জিনিসটা কী এবং এটির আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না বলতে পারবেন?

—জি স্যার। যে প্রক্রিয়ায় একজন কাউন্সেলর এবং একজন ক্লায়েন্টের মধ্যে র‍্যাপো বিল্ডআপের মাধ্যমে অসংগতিপূর্ণ (ক্লায়েন্টের) বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর কারণ অনুসন্ধান করে অসংগতি দূর করতে কাউন্সেলর প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন ক্লায়েন্টকে। এটাই কাউন্সেলিং। কাউন্সেলিং ব্যক্তির মানসিক সমস্যা যেমন—হতাশা ও উদ্বেগ কমাতে এবং আচরণ সংশোধনে সহায়ক।

এক্সটার্নাল-১ : আচ্ছা, ধরে নিলাম বাংলাদেশে সাইকোলজির সূচনা ২০ বছর আগে। আরো কমও হতে পারে। তাহলে তখন কি মানসিক সমস্যা ছিল না? থাকলে আমরা কাউন্সেলিংয়ে কেন আগ্রহী না?

—মানসিক সমস্যা ছিল, স্যার। আমরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন ছিলাম না বলেই কাউন্সেলিংয়ে আগ্রহী ছিলাম না।

এক্সটার্নাল-২ : আপনি তো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আছেন। বলুন তো, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা কেন বিশ্বে পিছিয়ে আছে।

—স্যার, গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থার অভাবেই বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বে পিছিয়ে।

এক্সটার্নাল-২ : তাহলে এই ব্যবস্থার অগ্রগতিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

—প্রথমত, যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং তার সফল বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব দেশ প্রাথমিক শিক্ষায় বিশ্বে এগিয়ে, তাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে। এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

এক্সটার্নাল-২ : প্রাথমিকে বর্তমানে কী কী সমস্যা আছে বলে আপনি মনে করেন?

—স্যার, বেশ কিছু সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো শিক্ষকসংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকির অভাব...(স্যার থামিয়ে দিলেন)

এক্সটার্নাল-২ : এ ব্যাপারে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? কী করণীয়?

—স্যার, প্রথমত স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং নীতি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে আরো কঠোরতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ করে শিশুর সামগ্রিক বিষয় অবহিত করতে হবে।

এক্সটার্নাল-২ : আপনার ক্লাসে কি সব শিক্ষার্থী সমানভাবে পড়া রেডি করতে পারে? এ ক্ষেত্রে আপনি কী করেন?

—না স্যার। এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত কিছু টুলস ব্যবহার করে আমরা বেইসলাইন সার্ভে করে সবল ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থী শনাক্ত করি। দুর্বলদের এক্সট্রা সময় দেওয়ার মাধ্যমে অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করি।

চেয়ারম্যান : নাছরিন, আপনার ভাইভা শেষ। আপনার কাগজপত্র নিয়ে যান।

(চেয়ার থেকে উঠে এক্সটার্নাল স্যারের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে হাসিমুখে তিনজনের সঙ্গে আই কন্টাক্ট রেখে সালাম দিলাম। চেয়ারম্যান স্যার ‘বেস্ট অব লাক’ বলে বিদায় দিলেন।)

 

 

বিসিএস ক্যাডার পদে নির্ধারিত শর্ত মেনে মনোনয়ন

বিসিএস ক্যাডার পদে নির্ধারিত শর্ত মেনে মনোনয়ন

৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডারে ২০১ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট এক হাজার ৫২১ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই বিসিএসে মোট ক্যাডার পদ ছিল তিন হাজার ৪৮৭টি। যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় অবশিষ্ট দুই হাজার ১৬৭টি পদে কাউকে সুপারিশ করা হয়নি। ক্যাডার পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন।

 

ক্যাডার পদে মনোনয়নের শর্ত

*      প্রার্থীর আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত সনদ, তথ্য, ডকুমেন্টস ইত্যাদি ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং আবেদনপত্রে প্রার্থীর অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কমিশন কর্তৃক প্রার্থীকে এই শর্তে সাময়িকভাবে মনোনয়ন প্রদান করা হলো যে নিয়োগের পূর্বে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রার্থীর সংযুক্ত সনদ, ডকুমেন্টস বা কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইপূর্বক নিশ্চিত হয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেবে।

*      সাময়িকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে কোনো প্রার্থী আবেদনপত্রে জ্ঞাতসারে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন বা টেম্পারিং বা কোনো জাল সার্টিফিকেট জমা বা বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত সার্টিফিকেটের কোনো অংশ বা প্রবেশপত্র টেম্পারিং বা প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করলে বা কোনো গুরুতর অসম্পূর্ণতা (Substantive incompletion) ধরা পড়লে বিজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে। তা ছাড়া বর্ণিত অপরাধে জড়িত প্রার্থীকে ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করা হতে পারে। এমনকি প্রার্থীকে চাকরিতে নিয়োগের পরও এমন কোনো তথ্য প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা ছাড়াও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

*      বিসিএস ক্যাডার পদে মনোনীত প্রার্থীদের বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ঘোষণা ও যথাযথ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্ত যাচাইয়ের পর সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হবে। নন-ক্যাডার পদে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক সম্পন্ন করতে হবে।

*      লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেও ক্যাডারের শূন্য পদের স্বল্পতার কারণে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁদের মধ্য থেকে মেধা ও সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগ যোগ্যতা, সরকারের সর্বশেষ কোটা পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধান অনুসারে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অধিযাচন বা চাহিদা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক নবম, দশম ও ১২তম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

*      প্রার্থীর আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রদত্ত তথ্য, ডকুমেন্টস, সনদ ইত্যাদি এবং আবেদনপত্রে প্রার্থীর প্রদত্ত অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে প্রার্থীদের মনোনীত করবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। নিয়োগের আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অন্যান্য ডকুমেন্টসের সত্যতা যাচাই, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রার্থীর উচ্চতা, বুকের মাপ ও ওজন সম্পর্কিত তথ্য এবং প্রাক-নিয়োগ জীবনবৃত্তান্ত যথাযথ এজেন্সি কর্তৃক যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হয়ে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রদান করা হবে।

*      প্রকাশিত মনোনয়নে কোনো ভুল-ত্রুটি পাওয়া গেলে তা পরিবর্তন বা সংশোধন করা হবে।

  তথ্যসূত্র : সরকারি কর্ম কমিশন

ভাইভা অভিজ্ঞতা : ৪৬তম বিসিএস

ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের একটা উদাহরণ দিন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন মো. নাবিল তাহমিদ। তিনি কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের একটা উদাহরণ দিন
মো. নাবিল তাহমিদ

ভাইভা হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি ২০২৬। ভাইভা রুমে ছিলাম ১৫ মিনিটের মতো। দরজা খুলেই বললাম, স্যার, আসতে পারি। চেয়ারম্যান স্যার আসুন বলে বসতে বললেন। আমি ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বসলাম।

 

চেয়ারম্যান : আপনি সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে মাস্টার্স করেছেন?

জি, স্যার।

এর আগে কাউকে এই সাবজেক্টের পাইনি। গুড। আচ্ছা মিস্টার নাবিল তাহমিদ, একজন মানুষকে কি তার পার্সোনালিটি ও এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস দিয়ে যাচাই করা পসিবল?

জি স্যার, পসিবল।

তাহলে বলুন, আপনি পড়াশোনার বাইরে কী করেছেন ক্যাম্পাসে?

স্যার, আমি পড়াশোনার বাইরে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিতে সদস্য হিসেবে ছিলাম। আমি সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছি।

সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আপনার ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের একটা উদাহরণ দিন।

স্যার, ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিভিন্ন আন্দোলনের সামনে থেকে কাজ করতে হয়। সেখানে নানা রকম ক্রাইসিস ম্যানেজ করতে হয়।

না, সুনির্দিষ্ট একটি ঘটনা বলুন।

(আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন প্রোগ্রামের একটি ঘটনা উল্লেখ করলাম।)

কখনো সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হননি?

জি স্যার, হয়েছি।

সে রকম একটা ঘটনা বলুন।

(অন্য ক্যাম্পাস থেকে মাস্টার্স করতে আসা ছাত্রদের আবাসন সমস্যার একটা ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বলি।)

আচ্ছা সাংবাদিকতা বাদে আর কী করেছেন?

স্যার, সাংবাদিকতা ছাড়াও আমি ছোটগল্প, কবিতা ও গান লিখেছি।

কী ধরনের বিষয় নিয়ে লিখতেন?

মূলত প্রকৃতি, জীবন আর প্রেম বিষয়ে লিখতাম। (প্রেম শব্দটা বলা ঠিক হলো কি না, তাই একটা হাসি দিলাম। চেয়ারম্যান স্যার বুঝতে পেরে বললেন, ঠিক আছে, এটা স্বাভাবিক। সমস্যা নেই।)
আচ্ছা, এমন একটা কাজ বলুন, যেটা ক্যাম্পাসে আর কেউ করেনি কিন্তু আপনি শুরু করেছেন।

স্যার, আমি কৃষিবিষয়ক একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিলাম, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষিশিক্ষাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

সেটা বন্ধ করে দিলেন কেন?

চাকরির প্রিপারেশন নিতে গিয়ে আর কন্টিনিউ করা সম্ভব হয়নি।

আপনার কিসে দুর্বলতা?

স্যার, আমার দুর্বলতা কথোপকথনে। (আমি যেসব দুর্বলতা বলব বলে ভেবে রেখেছিলাম সেগুলো বলা হয়নি। স্যার শুরুতে একটা ব্রিফিং দিয়ে বলেছিলেন, আপনি যা, তা-ই বলবেন। মিথ্যা কিছু বলার দরকার নেই। এ জন্য বানিয়ে না বলে যেটা সত্যি সেটাই বলেছি।)

What do you do to overcome this?

Sir, I am trying my best to improve this problem.

এখন তো অনেক অনলাইন কোর্স আছে। এগুলো করবেন।

জি স্যার, আমি করব।

 

এক্সটার্নাল-১ : আপনি তো সিড সায়েন্সে পড়েছেন। কয়েকটি সিড বর্ন ডিজিজের (বীজবাহিত রোগ) নাম বলুন তো।

Loose smut, Fusurium ছত্রাকের মাধ্যমে এই ধরনের রোগ হয়। (এটা ছাড়া আর কোনো রোগের নাম মনে আসেনি। তাই স্যরি বললাম।)

Why do we need to import seeds?

Sir, Mainly BADC produces and distributes seeds in our country. But it is not sufficient. Our farmers are not well educated to produce seeds. And that’s why many private companies import seeds to meet the demand.

কিছু সিড কম্পানির নাম বলুন।

(আমি তিনটি সিড কম্পানির নাম বললাম। অন্যগুলো মাথায় আসেনি।)

Why will we recruit you as an Administration Officer?

Sir, I have leadership skills, as I was the president in BAU Journalists’ Association. I have good communication skills and computer literacy. So, I think, I have the ability to be a BCS Administration Officer.

 

এক্সটার্নাল-২ : আপনার প্রথম চয়েস পরেই ট্যাক্সেশন ও কাস্টমস রয়েছে (যদিও কাস্টমস চয়েসে ছিল না)। এগুলো তো সাধারণত অবৈধ সুযোগের জন্য মানুষ পছন্দ করে। আপনি কেন আসতে চান?

স্যার, প্রশাসন ক্যাডারের মাধ্যমে আমি সরাসরি জনসেবায় কাজ করতে পারব। আর ট্যাক্সেশন ও কাস্টমসের মাধ্যমে আমি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার সুযোগ পাব। আর স্যার, অবৈধ সুযোগ গ্রহণের কোনো উদ্দেশ্যই আমার নেই।

আপনি ব্যালান্স অব পেমেন্টব্যালান্স অব ট্রেড-এর পার্থক্য বলুন।

(ব্যালান্স অব ট্রেড সম্পর্কে ধারণা থাকলেও ব্যালান্স অব পেমেন্ট সম্পর্কে ধারণা ছিল না। আর পার্থক্যও জানা ছিল না। তাই স্যরি বলি।)

এটা আপনার চয়েস লিস্টে আছে। এটা তো আপনার জানা উচিত ছিল।

স্যরি, স্যার। এটা আমার জানা উচিত ছিল, কিন্তু এই মুহূর্তে পারছি না।

আচ্ছা, আপনি ট্যারিফ আর ট্যাক্স সম্পর্কে বলতে পারবেন?

জি স্যার, ট্যারিফ হলো দেশের বাইরে থেকে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক। আর ট্যাক্স হলো দেশে উৎপাদিত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক।

তাহলে ভ্যাট কী? ট্যাক্স নাকি ট্যারিফ?

স্যার, ভ্যাট হলো ট্যাক্স।

আপনি নিশ্চিত?

জি স্যার।

ট্যাক্স কত প্রকার ও কী কী?

স্যার, ট্যাক্স দুই প্রকারপ্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর।

তাহলে ভ্যাট কোন ধরনের কর?

পরোক্ষ কর।

(এই প্রশ্নের পর চেয়ারম্যান স্যার বললেন, ছেড়ে দিন। এক্সটার্নাল-২ স্যারের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে বেরিয়ে এলাম।)

 

বিসিএস ভাইভা প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ

পিএসসিতে আমার তিনবার ভাইভা দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। তিনটি ভাইভাতেই সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। এর মধ্যে দুইবার নন-ক্যাডার (সহকারী তথ্য কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা) ও সর্বশেষ কৃষি ক্যাডার। তিনটি ভাইভার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, ভাইভায় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব যাচাই করা হয়। ভাইভায় ভালো করার জন্য নিজেকে জানাটা জরুরি। নিজের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাটা জানতে পারলেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও ভাইভায় যাচাই করা হয়। কারণ একজন বিসিএস কর্মকর্তাকে তাঁর অধীন এলাকায় বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। প্রার্থীর পাঠ্যক্রমবহির্ভূত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজও মূল্যায়ন করা হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর বিশ্নেষণধর্মী আলোচনা ভাইভার অন্যতম অংশ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ঘটনা, কারণ ও বিশ্লেষণ করার দক্ষতা প্রার্থীকে অনেক এগিয়ে রাখে। মোটকথা, যেকোনো বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকাটা জরুরি।