ফিটনেস ফ্রিক হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে ভারতীয় অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিংয়ের। যত কাজই থাকুক, নিজের ফিটনেসের বেলায় কোনো ছাড় দেন না ‘দে দে পেয়ার দে’ অভিনেত্রী। কিছুদিন আগে ব্যায়ামের ভুলের জন্য বড় খেসারত দিতে হয়েছে রাকুলকে। এ জন্য টানা ৪০ দিন শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। সেফটি বেল্ট না পরেই ৮০ কেজি ওজনের ডেডলিফট করতে গিয়ে কোমরে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন। ওয়ার্ক আউটের সময় করা এই একটিমাত্র ভুলের কারণে তাঁর স্লিপড ডিস্ক হয়ে যায়। এর জেরে টানা কয়েক দিন তীব্র শারীরিক কষ্ট আর মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। ব্যায়ামের সময় এমন কিছু ভুলের খেসারত দিতে হতে পারে আপনাকেও। এ জন্য আগে থেকে এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
অনিরাপদ জামা-জুতা
জিম হোক বা পার্কে হাঁটা কিংবা দৌড়ানো। এর জন্য জুতসই এক জোড়া জুতা অবশ্যই থাকা চাই। কেননা সারা শরীরের ভর পা তথা জুতার ওপরই পড়ে। ভালো মানের এবং সঠিক মাপের জুতা না পরে হাঁটলে বা দৌড়ালে পা ব্যথা, ফোসকার মতো জটিলতা হতে পারে। প্রতি ছয় থেকে ৯ মাস পর কিংবা ৫০০ মাইল দৌড়ানোর পর জুতা বদলে নিন। এমন পোশাক পরুন, যা আরামদায়ক, ব্রিদেবল এবং দ্রুত ঘাম শুষে নেয়। জিমে বড়মাপের পোশাক পরিহার করুন।
স্ট্রেচিং না করা
জিমে পা রেখেই দ্রুত ব্যায়াম শুরু করলেন। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। শরীরচর্চায় কখনোই দ্রুত কিছু হয় না। তাই স্ট্রেচিং না করে ব্যায়াম শুরু করবেন না। হুট করে ব্যায়াম শুরু করলে শরীরের মাংসপেশিতে টানসহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ব্যায়ামের শুরুতে যেমন ওয়ার্ম আপ করা জরুরি, তেমনি ব্যায়াম শেষেও কুলডাউন করতে ভুলবেন না।
দ্রুত ফল আশা করা
ব্যায়ামের ক্ষেত্রে দ্রুত কোনো পরিবর্তন আশা করবেন না। অনেকেই আছেন, হঠাত্ মোটিভেটেড হয়ে প্রথম দিন থেকেই তেড়েফুড়ে ব্যায়াম শুরু করেন। এরপর শরীর ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। একই সঙ্গে কাউকে দেখে কিংবা তাড়াহুড়া করে ব্যায়ামের ধরন পরিবর্তন করবেন না। কিছুদিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করেন। এমনটি করাও অনুচিত। ব্যায়ামের ভালো ফল আসতে সময় লাগে। সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে নিয়মিত লেগে থাকুন।
বিশ্রাম না নেওয়া
জিম করতে গিয়ে ঠিকঠাক বিশ্রাম না নেওয়াও ব্যায়ামের বড় ভুল। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাংসপেশি ব্যায়ামের কারণে সক্রিয় থাকে। মাংসপেশিতে পরিবর্তন আনতে একেকটি ব্যায়ামের পরে বিশ্রাম দরকার। মাংসপেশির উন্নয়নের জন্য ব্যায়ামের পরে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে।
শো অফ করা
টানা জিমে গেলে তার সুফল আপনি পাবেনই। একটি কমিউনিটিও গড়ে উঠবে আপনার। এর মধ্যে অনেক ধরনের বডি বিল্ডার বা সুঠাম দেহের মানুষও খুঁজে পাবেন। তাদের সঙ্গে পাল্লা দেবেন না। নিজের সক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারী ওজন তুলতে যাওয়া উচিত নয়। ধীরে শুরু করুন। প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। রিলস তৈরির জন্য বা শো অফ দেখাতে গিয়ে সেফটি গিয়ার ছাড়া জিম করাও উচিত নয়।
প্রশিক্ষকের পরামর্শ না মানা
জিমে গিয়ে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়মিত মেনে চলুন। আপনার শারীরিক কোনো অসুস্থতা বা ওষুধ সেবন করার তথ্য আগেই প্রশিক্ষককে জানিয়ে রাখুন। অন্য কারো জিম করা দেখে তাকে অনুসরণ করতে যাবেন না। হঠাত্ এক দিন মাত্রাতিরিক্ত বা দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম করবেন না। এতে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন। যেসব জিম করার আগে সেফটি বেল্ট পরতে হয়, সেটি যথাযথভাবে মেনে চলুন।
অনিয়মিত ডায়েট
প্রতিদিন ব্যায়াম করছেন, কিন্তু শরীরের পুষ্টিতে কোনো নজর নেই, তাহলেও ব্যায়াম করে খুব একটা লাভ হবে না। শুধু ব্যায়াম করে মাংসপেশির উন্নয়ন সম্ভব নয়, প্রয়োজন পুষ্টিরও সমন্বয়। পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সঠিক ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিন। খালি পেটে ব্যায়াম করা উচিত নয়। ব্যায়ামের আগে পানি, কলা ও ফলের সালাদ বা ওয়ার্ক আউট মিল খাওয়া উচিত। ব্যায়ামের আগে ভারী খাবার পরিহার করতে হবে।










