অনেকেই আছেন, যাঁরা কোনো কিছুতেই মন বসাতে পারেন না। সারাক্ষণ অস্থিরতা কাজ করে। তাঁদের জন্য নিয়মিত দাবা খেলা উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। দাবা প্রশিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দাবা শুধু আমাদের মনকে শান্ত করে তা-ই নয়, মনঃসংযোগ বৃদ্ধি, মনকে প্রফুল্ল করা এবং মানুষের আইকিউ বাড়াতেও ভীষণ সাহায্য করে।
স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি
বয়স হলে মানুষ স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় ভোগে। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে ভোগে। তা থেকে বাঁচার একটি উপায় হচ্ছে নিয়মিত দাবা খেলা। যারা দাবা খেলে, তারা যারা দাবা খেলে না, তাদের চেয়ে বুদ্ধিমান হয়। ছোট থেকে দাবা খেললে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
বুদ্ধি ও সৃজনশীলতা বাড়ে
দাবা একটি কৌশলগত খেলা, যেখানে দ্রুত এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। দাবা খেলতে কোনো খরচা লাগে না, মাঠে দৌড়াতে হয় না। এখানে মগজ দিয়ে চিন্তা করে চাল চালতে হয়। প্রতিপক্ষের কৌশলকেও পরাস্ত করতে হয় চিন্তা করে। দাবা খেলতে গিয়ে অনেক সময় নতুন কৌশল তৈরি করতে হয়। এতে মগজের উভয় পাশে ব্যায়াম হয় এবং আমাদের বুদ্ধি ও সৃজনশীলতা বাড়ে।
হতাশা ও উদ্বেগ দূর করে
নিয়মিত দাবা খেলা আমাদের যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত ও দৃঢ় থাকার মানসিকতা তৈরি করে। এই খেলায় দরকার একাগ্র মনোযোগ। এ জন্য মস্তিষ্ক অহেতুক অন্যদিকে মনোযোগ দিতে পারে না। ফলে খেলার সময় হতাশা ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
আত্মবিশ্বাসী ও কৌশলী হতে শেখায়
দাবা খেলার সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নিয়ম মানার অভ্যাস গড়ে ওঠে। খেলায় জয়ী হলে যেমন নিজের ওপর আস্থা বৃদ্ধি পায়, তেমনি হারলেও শেখার সুযোগ থাকে। সামাজিক পরিমণ্ডল বৃদ্ধি পায়। সবার সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে। প্রতিপক্ষকে হারাতে হলে অনেক হিসাব-নিকাশ করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা ব্যক্তিগত জীবনে মানুষকে কৌশলী হতে সাহায্য করে।
চাকরি ও মেধা বিকাশ
দাবা খেলায় ভালো করলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জেতা সম্ভব। দেশি-বিদেশি দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গ্র্যান্ড মাস্টারসহ বিভিন্ন খেতাব জিতে নিজের ও দেশের জন্যও সম্মান বয়ে আনতে পারেন যে কেউ। এ ছাড়া খেলোয়াড় কোটায় চাকরি পাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
এতসব কারণেই হয়তো ইউরোপের দেশ আর্মেনিয়ায় ছয় বছরের ওপর সব শিশুকেই দাবা খেলা শেখানো হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষের ধারণা, ছোট থেকে দাবা খেললে একটা বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশের মধ্য দিয়ে বড় হবে শিশুরা, যা ভবিষ্যতে চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে কাজে দেবে।










