• ই-পেপার

বসনে বরিষা

  • c বিল-ঝিল থেকে পদ্ম, শালুক, শাপলা কুড়ানোর সময়ও এই ঋতু। তাই বর্ষার পোশাকেও বারবার ঘুরেফিরে আসে এসব মোটিফ। বর্ষার বসনে সাধারণত নীল রঙ প্রাধান্য পায়, ইদানীং অবশ্য অন্য রংও মেখে দিচ্ছেন ডিজাইনাররা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

লামার গভীর অরণ্যে

অপূর্ব সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক এক লীলাভূমি বান্দরবানের লামা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এখানকার মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে সূর্যাস্ত দেখতে স্বর্গের মতো মনে হয়। স্থানটি ঘুরে এসে লিখেছেন আবু আফজাল সালেহ

লামার গভীর অরণ্যে
লামার মাতামুহুরী ঘাট থেকে সুখিয়া পাহাড়। ছবি : লেখক

চোখ-জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা রোমাঞ্চকর অনুভূতির জন্য বান্দরবানের লামা উপজেলা পর্যটনে বেশ এগিয়ে। হাতে মেঘ ছুঁয়ে দেখা কিংবা পাহাড়ি সৌন্দর্যে বুঁদ হতে চাইলে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে যান অনেকেই। মিরিঞ্জা, মারাইংছা হিল, সুখিয়া ভ্যালি, রিভার হিল, বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহার, নুনারঝিরি, আইম্যারা ঝিরি, নকশাঝিরিসহ অসংখ্য ঝরনা, মাতামুহুরী নদী ও লামা খালে নৌকাভ্রমণ, দুখিয়া-সুখিয়াসহ অসংখ্য পাহাড় ট্রেকিং, লামা খাল, মাস্টারপাড়া সুড়ঙ্গসহ দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে লামা উপজেলায়।

সেদিন মে মাসের ২০ তারিখ। লামার সৌন্দর্যের টানে কক্সবাজারগামী বাসে উঠে ভোরে চকোরিয়ায় পৌঁছলাম। একক ভ্রমণ। এ জন্য অবশ্য নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। সেসবে এরই মধ্যে আমি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। একটি হোটেলে নাশতা সেরে নিলাম। পাহাড়ের সৌন্দর্য যেন ভালোভাবে উপভোগ করতে পারি এ জন্য ধীরগতির লোকাল বাসে উঠলাম। লামা পর্যন্ত বাসভাড়া ৭০ টাকা রাখল। মাতামুহুরী বাস সার্ভিসে চড়েছি। বাস ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। পাহাড়ের খাঁজে সবুজের সমারোহ আর আঁকাবাঁকা রাস্তা সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। লামা পর্যন্ত রোমাঞ্চকর যাত্রা বেশ উপভোগ্য লাগল।

লামার গভীর অরণ্যে
লামার মাতামুহুরী ঘাট থেকে সুখিয়া পাহাড়। ছবি : লেখক

বান্দরবানকে বলা হয় বাংলাদেশের দার্জিলিং। এখানে এলে নাকি ভারতের অন্যতম পর্যটন স্পট দার্জিলিংয়ের ফিল পাওয়া যায়! আদতেও যেন তাই। বান্দরবানের গভীর অরণ্য কিংবা পাহাড়গুলোর বেশির ভাগই থানচি, আলীকদম কিংবা লামা উপজেলার অন্তর্গত। লামা ও আলীকদম উপজেলার ঝরনাগুলোর পথ যেমন দুর্গম, তেমনি রোমাঞ্চকর। মাতামুহুরী নদীর সৌন্দর্যও কম নয়। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে। কী সুন্দর তার পথ! চারপাশে পাহাড় আর নির্জন অরণ্য। সবুজের সমাহার। লামার পথে কিছুদূর যেতেই মিরিঞ্জা ভ্যালি। চকোরিয়ার কাছাকাছি এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য মিরিঞ্জা ভ্যালিতে পর্যটক বেশি আসে। এখানে থাকা ও খাওয়ার জন্য কটেজ কিংবা জুমঘর পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক ভোরে মিরিঞ্জা ভ্যালির সৌন্দর্য উপভোগ করে চকোরিয়া, মহেশখালী কিংবা কক্সবাজারে চলে যায়। কক্সবাজারগামী পর্যটকের সংখ্যাই বেশি।

ঘণ্টাখানেক সবুজ পাহাড়ি পথ পেরিয়ে লামা বাস টার্মিনালে পৌঁছলাম। লামা শহরে নেমে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের উত্পাদিত তরিতরকারি ও পণ্য বিক্রি করছে। শহরের পাশেই মাতামুহুরী নদীর খেয়াঘাট। ওপারে সুউচ্চ সব পাহাড়, অরণ্য। শহর পেরিয়েই চকোরিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন। এর পরেই একটি ব্রিজ। এটি পেরিয়েই সুখিয়া পাহাড়। এই পাহাড় ট্রেকিং করতে হবে। সঙ্গে পানি নেওয়া দরকার। এক দোকান থেকে পানির বোতল কিনে চলতে শুরু করলাম। মাটির আঁকাবাঁকা ভঙ্গুর পথ। চলতে কষ্ট হচ্ছে। পিচ রাস্তা থেকে পাহাড়ের সরু পথে উঠতে রোমাঞ্চকরই লাগল। কিছুদূর যেতেই মাতামুহুরী ভ্যালি। এখান থেকে নদীর দৃশ্য আরো চমত্কার দেখা যায়। এই ভ্যালিতেও জুমঘর আছে। স্থানীয় আপ্যায়নে এখানে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। পাশেই আই লাভ লামা লেখা ফটোস্টেজ। সবাই এখানে এসে ছবি তোলে। আমিও তুললাম। এরপর আবার পাহাড়ি পথে ট্রেকিং। মাঝপথে একটি চায়ের দোকান সামনে পড়ল। সেখানে বসে চা খেয়ে খানিকটা চাঙ্গা হলাম। এখান থেকেও মাতামুহুরী নদী দেখা যায়। নদী নারীর মতো বয়ে যাচ্ছে। চারপাশের অরণ্যের বেশির ভাগই সেগুনগাছ। পোকামাকড় আর পাখির ডাক নির্জনতাকে যেন আরো মোহময় করে তুলেছে। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো হালকা ঝড়। আরেকটু পর ঝুম বৃষ্টি নামল। পাহাড়ের অরণ্যে বৃষ্টিবিলাস যে কী অপূর্ব ও উপভোগ্যময়, তা লিখে প্রকাশ করা কঠিন। আবার চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। চুমুকে চুমুকে গভীর পাহাড়ের দৃশ্য দেখছি। একটু দূরে নদী। সবুজ অরণ্য বৃষ্টিতে ভিজে আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে। নয়নাভিরাম দৃশ্য! অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল পাহাড়ি বৃষ্টি দেখার। লামার পাহাড়ে আজ সে আশা পূর্ণতা পেল। এখানে ভিড় নেই বললেই চলে। প্রচণ্ড গরম বলে পর্যটকের সংখ্যা এখন কম। এর ওপর সরকারি ছুটির দিন। এটিও পর্যটক কম হওয়ার আরেক কারণ। দুর্গম পথও পর্যটকের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পাহাড়ে গরম নেই। উপভোগ্য আবহাওয়া।

বৃষ্টির পর দুর্গম পথ আরো পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে যায়। একটু অপেক্ষা করে ভয় ও রোমাঞ্চ নিয়েই উঠতে শুরু করলাম পাহাড়ের শীর্ষস্থান সুখিয়া ভ্যালির দিকে। উঁচু-নিচু ও ভঙ্গুর পথ। চলতে চলতে আবার একটি চায়ের দোকান পেলাম। এরপর রিভার ভিউ রিসোর্ট। এখান থেকে মাতামুহুরী নদী দেখতে আরো সুন্দর লাগে। কিছু কটেজ আছে, বসার ব্যবস্থাও আছে। কটেজের ব্যালকনি থেকে মন ভরে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নদী, পাহাড়, সবুজ আর নীলাকাশ মিলেমিশে একাকার। আরো কিছুক্ষণ পাহাড় ট্রেকিং শেষে পৌঁছলাম সুখিয়া ভ্যালি পাহাড়ে। চমত্কার স্পট। প্রকৃতি যেন আরো মোহনীয়।

প্রকৃতপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য লামা। ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা জনপদটিকে আরো বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। চকোরিয়া টু লামা/আলীকদম যেন প্রাকৃতিক শোভাময় স্বর্গের রাস্তা। চকোরিয়া থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরের মিরিঞ্জা ভ্যালি হচ্ছে মেঘের রাজ্য। লামা যেতে চোখে পড়বে এই স্বর্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে সূর্যাস্ত দেখতে স্বর্গের মতো লাগে। এখানে লুকোচুরি খেলা করে মেঘ, পাহাড় আর অরণ্য। সমগ্র লামায়ই চলে এই খেলা। মিরিঞ্জাপাড়ায় যেন সাজেকের অনুভূতি ধরা দেয়। লামা শহরের খেয়াঘাট থেকেও মাতামুহুরী নদী যেন উপভোগ্য এক সপট। ভরা যৌবনে আরো লাস্যময়ী হয়ে ওঠে নদী ও পাহাড় ঘেরা লামা। লামাপাড়া, মারমাপাড়া, মাতামুহুরী নদী, সুখিয়া ভ্যালি, মিরিঞ্জা ভ্যালি, বিভিন্ন ঝরনা লামাকে যেন স্বর্গে পরিণত করেছে। লামা টু মানিকপুর মাতামুহুরী নদী ভ্রমণ আপনার জীবনেও হতে পারে অন্যতম স্মৃতি। পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সর্পিল নদীপথের চারদিকেই সৌন্দর্যে মোড়ানো সবুজ, পাহাড় আর জলস্রোত। দুই পাশে পাহাড়, মাঝখানে নদী। পাগল করা এমন সব দৃশ্যের মুখোমুখি হতে আপনিও একদিন যেতে পারেন লামায়।

কিভাবে যাবেন

কক্সবাজারগামী বাসে চকোরিয়ায় যাওয়া যায়। বাসস্টেশন থেকে লামার বাসভাড়া ৭০ টাকা। জিপও পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে শ্যামলী ও হানিফ বাস আলীকদম হয়ে লামা যায়। ভাড়া নন-এসি এক হাজার ১০০ টাকা। লামার খেয়াঘাট থেকে দরদাম করে এক হাজার টাকার কাছাকাছি মানিকপুর বোট ভাড়া পাওয়া যায়। লামা পার্বত্য এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট রয়েছে। চেকপোস্ট ও আবাসিক হোটেলে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দেওয়া লাগতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

খোঁজখবর

খোঁজখবর

বিশ্বরঙে মূল্যছাড়

কেনাকাটায় বর্ষাকালীন মূল্যছাড় দিচ্ছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ। পাওয়া যাবে শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শার্ট, স্কার্ট, স্টিচ, আনস্টিচসহ পোশাক, গয়না ও অ্যাকসেসরিজ। শিশুদের পোশাকেও রয়েছে বিশেষ মূল্যছাড়। সব ধরনের শাড়িতে পাওয়া যাবে ২০ শতাংশ ছাড়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্টিচ পোশাকে পাওয়া যাবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। স্টক থাকা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শোরুম ও অনলাইনে উপভোগ করা যাবে এই মূল্যছাড়।

খোঁজখবর

ধানমণ্ডিতে ব্লুচিজ

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নতুন আউটলেট উদ্বোধন করেছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ব্লুচিজ। ২৭ জুন গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠান হয়। ব্লুচিজের প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের বিশ্বাস, নতুন আউটলেটটি এখানকার ক্রেতাদের কেনাকাটা আরো আরামদায়ক করবে। এ লক্ষ্যেই এখানে আমাদের নতুন যাত্রা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যান্ডটির সহপ্রতিষ্ঠাতা সিমিন জামান ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী। পাঞ্জাবি, ডিজাইনার ড্রেস, ওয়েস্টার্ন টপস, শার্ট, নারীদের প্যান্ট, টি-শার্ট, ডেনিম, ওয়েস্টকোট, পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল ও ফরমাল পোশাক পাওয়া যাবে এখানে। ঠিকানা : গাউসিয়া টুইন পিক, হাউস-৪২ ও ৪৩ (নতুন), ৭৪২ ও ৭৪৩ (পুরনো), সাতমসজিদ রোড, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

 

 

খাবার প্লেটে নেমে আসুক রংধনু

আদরের সোনামণির খাদ্যতালিকায় রংধনু রঙের; যেমন—লাল, হলুদ, সবুজ, কমলা, বেগুনি, সাদার মতো ফল ও শাক-সবজি রাখা গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন পুষ্টিবিদ লিনা আকতার

খাবার প্লেটে নেমে আসুক রংধনু
শিশুর প্লেটে রংধনুর রং আনার চেষ্টা করুন। এতে খাবার সুন্দর দেখায়। শিশুরা খেতে উৎসাহ পায়। ছবি : সংগৃহীত

শিশুরা বড়দের মতো পর্যাপ্ত শাক-সবজি খেতে চায় না। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের খাবারের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে রঙিন শাক-সবজি ও ফল তাদের পাতে বেশি রাখা জরুরি। শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরির পেছনে মা-বাবার ভূমিকাই মুখ্য। এ জন্য ছোটবেলা থেকে অভ্যাস করুন। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে খেতে বসুন। এতে ওরা খাবার খেতে উত্সাহিত হবে। মা-বাবা যদি বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ করেন, তাহলে শিশুরাও সেই খাবার খেতে উত্সাহ দেখাবে।

শিশুর প্লেটে রংধনুর রং আনার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন রঙের খাবার দিয়ে প্লেট সাজিয়ে দিন। এতে খাবার সুন্দর দেখায়। শিশুরা খেতে উত্সাহী হয়। এতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি পাবে। পাশাপাশি স্বাদ ও গন্ধ সম্পর্কে জানতে পারবে। একই খাবার বারবার দেবেন না। এতে একঘেয়েমি লাগতে পারে। সোনামণির খাবারের প্লেটে সৃজনশীলতা বাড়ান।

শিশুদের প্রথম কয়েকবার নতুন খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন। শিশুরা অনেক খাবার একসঙ্গে খেতে চায় না। এ জন্য বিভিন্ন খাবার সংমিশ্রণ করে খাওয়ান। তাহলে সহজে পুষ্টি পাবে। যেমনখিচুড়ি, পাঁচমিশালি ডাল, মিক্সড সবজি, মিক্সড সালাদ, মিক্সড ফল ইত্যাদি। স্বাদ ও আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন রঙের খাবারের সঙ্গে ভেষজ মসলা সংমিশ্রণ করতে পারেন। খেতে না চাইলে হাল ছাড়বেন না। বারবার বিভিন্ন উপায়ে মিশ্র খাবারে অভ্যস্ত করান। বাজার থেকে অপরিচিত ফল ও সবজি কিনে শিশুকে দেখতে ও স্পর্শ করতে দিন। মৌসুমি ফল ও শাক-সবজি খেতে উৎসাহিত করুন।

খাবার প্লেটে নেমে আসুক রংধনু

কোন রঙের খাবারে কী পুষ্টি

বিভিন্ন রঙের ফল ও শাক-সবজি খাবারের প্লেটকে যেমন দৃষ্টিনন্দন করে, তেমনি শিশুরা নিজ থেকে খেতে উত্সাহ পায়। প্রতিদিন আপনার শিশুকে একটি ভিটামিন এ ও একটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বা শাক-সবজি খাওয়ান। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে আম, মিষ্টি আলু, গাজর ইত্যাদি। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে কমলা, মাল্টা, লেবু, জাম্বুরা, মরিচ, আমলকী, আমড়া ইত্যাদি।

লাল বা গোলাপি রঙের ফল ও সবজিতে লাইকোপেন, এলাজিক এসিড, কোয়েরসেটিন ও হেস্পেরিডিনসের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা হূদরোগ ও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া লাল ও গোলাপি ফল এবং শাক-সবজি রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। টিউমারের বৃদ্ধি কমাতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এ জন্য লাল আপেল, লাল বাঁধাকপি, লাল মরিচ, চেরি, ডালিম, টমেটো, তরমুজ, লাল আঙুর, গোলাপি জাম্বুরা ও স্ট্রবেরি খেতে দিন শিশুকে।

কমলা ও হলুদ ফল, শাক-সবজি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। যেমন-গাজর, মিষ্টি আলু, কুমড়া ইত্যাদি। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার ক্যান্সার, হূদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। চোখ ও ত্বক সুস্থ রাখে। কমলালেবুর মতো হলুদ সাইট্রাস ফলে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কমলা ও হলুদ রঙের শাক-সবজি ও ফলের মধ্যে রয়েছে লেবু, আম, ভুট্টা, পেঁপে, পিচ, নাশপাতি, এপ্রিকটস, গাজর ইত্যাদি।

সবুজ শাক-সবজি ও ফল ক্লোরোফিল ছাড়াও ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি ও কে-এর উত্স। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধে উপকার করে থাকে। শাক-সবজি ও ফল ফাইবারসমৃদ্ধ, যা পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। শরীরের দূষিত রক্ত পরিষ্কার করে। বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়। সবুজ শাক-সবজি ও ফলে লুটেইনসমৃদ্ধ ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যা চোখ সুস্থ রাখে। এ জন্য শিশুর পাতে পালংশাক, পাটশাক, পুঁইশাক, শসা, ব্রকোলি, লেটুস, ধনেপাতা, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি রাখুন।

বেগুনি ও নীল রঙের শাক-সবজি ও ফলে বিভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড, ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। এ ছাড়া ক্যান্সার, হূদরোগের ঝুঁকি কমানোসহ বিভিন্ন উপকার করে থাকে। এসব ফল ও সবজির মধ্যে রয়েছে জাম, বেগুনি বাঁধাকপি, ব্লুবেরি, বেগুনি আঙুর, কিশমিশ, ডুমুর, বেগুন ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি ব্লুবেরি খেলে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্ক ভালো থাকে।

ফুলকপি, পেঁয়াজ, আলু, রসুন, কলার মতো সাদা ফলের পুষ্টিগুণ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এসব উপকার পেতে ছোট থেকেই রঙিন খাবার দিয়ে সাজিয়ে দিন আপনার সোনামণির খাবারের প্লেট।

 

 

 

 

 

 

অবাধ্য চুল বশে আনার কৌশল

প্রেমিকার অবাধ্য চুল নিয়ে কত শত কবিতা-গান-ছড়া। তবে সামনে থাকা অবাধ্য ছোট চুল বশে রাখতে নারীদের বেশ ঝামেলাই পোহাতে হয়। অবাধ্য চুল বশে আনার পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন মেহরীমা ইতি

অবাধ্য চুল বশে আনার কৌশল

সামনের ছোট চুল প্রায়ই উড়ে এসে জুড়ে বসে মুখে। সব সময় ঠিক যেন কথা শুনতে চায় না সামনের ছোট চুলগুলো। তবে খানিকটা পরিচর্যায়ই বশে আনা যায় অবাধ্য ছোট চুল।

জুতসই বাঁধন

চুল বাঁধার ঢঙে ভিন্নতা আনতে পারেন। সামনের ছোট চুল যখন কথা শুনবেই না, তখন তাকে বেঁধে ফেলাই ভালো! কপাল থেকে মাথার তালু পর্যন্ত সুন্দর একটি স্কার্ফ বেঁধে নিন। ব্যস, হয়ে গেল ক্ষণস্থায়ী সমাধান। এলোমেলো চুল সামলাতে স্কার্ফটিকে ভাঁজ করে ব্যান্ডেনার মতো করে চুলের সামনের দিকে বেঁধে নিতে পারেন। এখন মেয়েদের কাছে স্কার্ফ বেশ জনপ্রিয়। এতে একই সঙ্গে ছোট চুলগুলোও যেমন সামলে রাখা যাবে, তেমনি ফ্যাশনও হবে। স্কার্ফ দিয়ে পুরো মাথার চুল ঢেকে রাখতে না চাইলে ফিতা দিয়ে টেনে বেঁধেও নিতে পারেন। দুটির কোনোটিতে যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না হয়, আছে উপায়। সামনের চুলগুলো পেঁচিয়ে টুইস্ট করে নিন। এবার ডান বা বাম যেকোনো একদিকে বেণি করে আরেক পাশে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিতে পারেন। চাইলে ছোট চুলের সমন্বয়ে ঝুঁটি বেঁধে নিতে পারেন।

কাটের ঢংয়ে বদল

অবাধ্য ছোট চুল নিয়ে খুব বেশি ঝামেলা হলে কাটের ঢংয়েও পরিবর্তন আনতে পারেন। মুখের সঙ্গে মানানসই এমন কোনো চুলের কাট বেছে নিন। সামনের চুলগুলো ব্যাংস করে কেটে নিলেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

এ ক্ষেত্রে ভালো বিউটি পার্লারে গিয়ে হেয়ার স্টাইলিস্টের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া ভালো। তাঁর দেওয়া পরামর্শ মেনে সামনের ছোট চুলের কাট বদলে নেওয়া যাবে অনায়াসেই।

 টিপস

* চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের ঠাণ্ডা বাতাস ব্যবহার করুন। গরম বাতাসে সামনের চুল আরো উষ্কখুষ্ক ও প্রাণহীন দেখাবে।

* চুলের সিঁথিতে পরিবর্তন আনতে পারেন, যাতে সামনের ছোটগুলোর সমন্বয়ে সিঁথিতে নতুনত্ব আনা যায়।

* অনুষ্ঠানে বা কোথাও বেড়াতে গেলে পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নকশাদার হ্যাট পরতে পারেন। এতে খুব সহজেই অবাধ্য চুল বশে আনা যাবে। সঙ্গে ফ্যাশনেবলও দেখাবে।

* বাজারে চুল আটকে রাখার জন্য নানা রকমের ক্লিপ পাওয়া যায়। এসব ক্লিপের ব্যবহারে সামনের ছোট চুল টেনে নিয়ে বড় চুলের সঙ্গে আটকে ফেলুন।

*তাত্ক্ষণিক সমাধান চাইলে হেয়ার স্প্রে কিংবা ওয়্যাক্স জেল দিয়ে চুলগুলো সেট করে নিতে পারেন। তবে এটি নিয়মিত করা যাবে না।