• ই-পেপার

টানা ৯ ঘণ্টা আজ বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

মুন্সীগঞ্জে জামায়াতের দুই রুকন বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জে জামায়াতের দুই রুকন বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ জেলার ২ সদস্যকে (রুকন) বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রবিবার (৫ জুলাই) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কাররা হলেন- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার জামায়াতের সদস্য (রুকন) ও সাবেক রশুনিয়া ইউনিয়ন আমির মাওলানা মনির হোসেন। অপরজন সদর উপজেলার সদস্য (রুকন) আমিনুল ইসলাম নাসির।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জামায়াতের আমির তাদের সদস্য (রুকন) পদ বাতিল করেছেন। ফলে মাওলানা মনির হোসেন ও আমিনুল ইসলাম নাসির বর্তমানে জামায়াতের কোনো পদে নেই এবং তারা আর দলটির সদস্য নন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নৈতিক স্খলন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মাওলানা মনির হোসেন দীর্ঘদিন সিরাজদীখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, সিরাজদীখান উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং জামায়াতের রুকন ছিলেন। গত বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ১৪ ডিসেম্বর তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ হাতে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদীখান–শ্রীনগর) আসনে জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারি এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে তার কর্মকাণ্ড সাংগঠনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আমরা তার দায়িত্ব স্থগিত করে বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়েছিলাম। তখন থেকেই তিনি কার্যত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছিলেন না। আজ কেন্দ্রীয়ভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু মাওলানা মনির নন, দেশব্যাপী যাদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

অনলাইন ডেস্ক
আগামীকাল টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

গ্যাস পাইপ লাইন টাই-ইন কাজের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশের কয়েকটি এলাকায় ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস।

এতে বলা হয়,  আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৬ ঘণ্টা জয়দেবপুর, গাজীপুর থেকে কুমুদিনী, টাঙ্গাইল পর্যন্ত ১০ ও ২০, ১৪০ পিএসআইজি লাইনের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এতে গাজীপুর ডিভিশনের আওতাধীন জয়দেবপুর, নাওজোর, ইটাহাটা, কড্ডা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, শফিপুর, চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ), কালিয়াকৈর ও মির্জাপুর এলাকার ১০০ ও ২০, ১৪০ পিএসআইজি এর সাথে সংযুক্ত সকল শিল্প, ক্যাপটিভ এবং সিএনজি গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। 

এছাড়াও, তৎসংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। সম্মানিত গ্রাহকবৃন্দের সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৯ জনের মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৯ জনের মৃত্যু

প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ায় দুইটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক চারটি পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে। এ ঘটনায় কামাল হোসাইন ও তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের (৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা  বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এ সময় তিনজনকে মৃত ও দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে। রাত ১ টা ৪৫ এর দিকে পাহাড়িঢলে আসা মাটি চাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।’

সর্বশেষ রাত ৩ টার দিকে ক্যাম্প প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে উপজেলার বালুখালী ১১ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন ১ জন।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (০৩)।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার ভোররাত ৪ টার কিছু পর ছাত্তার ঘোনায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় পাহাড় ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজন। স্থানীয়রা তিনজন উদ্ধার করে। এসময় আলী আকবরের অবস্থান আশঙ্কাজনক হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরো দুইদিন ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

শিক্ষককে অব্যাহতি ঘিরে উত্তপ্ত দেওভোগ মাদরাসা

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
শিক্ষককে অব্যাহতি ঘিরে উত্তপ্ত দেওভোগ মাদরাসা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসায় এক শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে মাদরাসার মোহতামিম (প্রিন্সিপাল) আবু তাহের জিহাদী, ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকনসহ কয়েকজনকে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদরাসার প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর মোহতামিম আবু তাহের জিহাদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, মাদরাসার শিক্ষক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জেরে দুপুর থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, মুফতি হারুন অর রশিদের সমর্থকরা শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তোলেন। পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় প্রবেশ করে মোহতামিম, সাধারণ সম্পাদক এবং পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। এ সময় মাদরাসার সামনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য দেওভোগ এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলও বন্ধ করে দেন।

বিকেলে ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা জাকির খান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা ফেরদৌস এবং মুফতি হারুন অর রশিদ উপস্থিত হন। পরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, স্থানীয় আলেম-উলামা ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মোহতামিম আবু তাহের জিহাদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং অবরুদ্ধ অবস্থারও অবসান ঘটে।

মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি মাদরাসায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি কমিটি গঠনের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। এ বিষয়ে পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান এবং একটি পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে অভ্যন্তরীণ সংকট আরো গভীর হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগেই মুফতি হারুন অর রশিদকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, দিনভর পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।