• ই-পেপার

খাবার প্লেটে নেমে আসুক রংধনু

  • আদরের সোনামণির খাদ্যতালিকায় রংধনু রঙের; যেমন—লাল, হলুদ, সবুজ, কমলা, বেগুনি, সাদার মতো ফল ও শাক-সবজি রাখা গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন পুষ্টিবিদ লিনা আকতার

লামার গভীর অরণ্যে

অপূর্ব সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক এক লীলাভূমি বান্দরবানের লামা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এখানকার মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে সূর্যাস্ত দেখতে স্বর্গের মতো মনে হয়। স্থানটি ঘুরে এসে লিখেছেন আবু আফজাল সালেহ

লামার গভীর অরণ্যে
লামার মাতামুহুরী ঘাট থেকে সুখিয়া পাহাড়। ছবি : লেখক

চোখ-জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিংবা রোমাঞ্চকর অনুভূতির জন্য বান্দরবানের লামা উপজেলা পর্যটনে বেশ এগিয়ে। হাতে মেঘ ছুঁয়ে দেখা কিংবা পাহাড়ি সৌন্দর্যে বুঁদ হতে চাইলে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে যান অনেকেই। মিরিঞ্জা, মারাইংছা হিল, সুখিয়া ভ্যালি, রিভার হিল, বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহার, নুনারঝিরি, আইম্যারা ঝিরি, নকশাঝিরিসহ অসংখ্য ঝরনা, মাতামুহুরী নদী ও লামা খালে নৌকাভ্রমণ, দুখিয়া-সুখিয়াসহ অসংখ্য পাহাড় ট্রেকিং, লামা খাল, মাস্টারপাড়া সুড়ঙ্গসহ দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে লামা উপজেলায়।

সেদিন মে মাসের ২০ তারিখ। লামার সৌন্দর্যের টানে কক্সবাজারগামী বাসে উঠে ভোরে চকোরিয়ায় পৌঁছলাম। একক ভ্রমণ। এ জন্য অবশ্য নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। সেসবে এরই মধ্যে আমি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। একটি হোটেলে নাশতা সেরে নিলাম। পাহাড়ের সৌন্দর্য যেন ভালোভাবে উপভোগ করতে পারি এ জন্য ধীরগতির লোকাল বাসে উঠলাম। লামা পর্যন্ত বাসভাড়া ৭০ টাকা রাখল। মাতামুহুরী বাস সার্ভিসে চড়েছি। বাস ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। পাহাড়ের খাঁজে সবুজের সমারোহ আর আঁকাবাঁকা রাস্তা সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। লামা পর্যন্ত রোমাঞ্চকর যাত্রা বেশ উপভোগ্য লাগল।

লামার গভীর অরণ্যে
লামার মাতামুহুরী ঘাট থেকে সুখিয়া পাহাড়। ছবি : লেখক

বান্দরবানকে বলা হয় বাংলাদেশের দার্জিলিং। এখানে এলে নাকি ভারতের অন্যতম পর্যটন স্পট দার্জিলিংয়ের ফিল পাওয়া যায়! আদতেও যেন তাই। বান্দরবানের গভীর অরণ্য কিংবা পাহাড়গুলোর বেশির ভাগই থানচি, আলীকদম কিংবা লামা উপজেলার অন্তর্গত। লামা ও আলীকদম উপজেলার ঝরনাগুলোর পথ যেমন দুর্গম, তেমনি রোমাঞ্চকর। মাতামুহুরী নদীর সৌন্দর্যও কম নয়। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে। কী সুন্দর তার পথ! চারপাশে পাহাড় আর নির্জন অরণ্য। সবুজের সমাহার। লামার পথে কিছুদূর যেতেই মিরিঞ্জা ভ্যালি। চকোরিয়ার কাছাকাছি এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য মিরিঞ্জা ভ্যালিতে পর্যটক বেশি আসে। এখানে থাকা ও খাওয়ার জন্য কটেজ কিংবা জুমঘর পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক ভোরে মিরিঞ্জা ভ্যালির সৌন্দর্য উপভোগ করে চকোরিয়া, মহেশখালী কিংবা কক্সবাজারে চলে যায়। কক্সবাজারগামী পর্যটকের সংখ্যাই বেশি।

ঘণ্টাখানেক সবুজ পাহাড়ি পথ পেরিয়ে লামা বাস টার্মিনালে পৌঁছলাম। লামা শহরে নেমে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের উত্পাদিত তরিতরকারি ও পণ্য বিক্রি করছে। শহরের পাশেই মাতামুহুরী নদীর খেয়াঘাট। ওপারে সুউচ্চ সব পাহাড়, অরণ্য। শহর পেরিয়েই চকোরিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন। এর পরেই একটি ব্রিজ। এটি পেরিয়েই সুখিয়া পাহাড়। এই পাহাড় ট্রেকিং করতে হবে। সঙ্গে পানি নেওয়া দরকার। এক দোকান থেকে পানির বোতল কিনে চলতে শুরু করলাম। মাটির আঁকাবাঁকা ভঙ্গুর পথ। চলতে কষ্ট হচ্ছে। পিচ রাস্তা থেকে পাহাড়ের সরু পথে উঠতে রোমাঞ্চকরই লাগল। কিছুদূর যেতেই মাতামুহুরী ভ্যালি। এখান থেকে নদীর দৃশ্য আরো চমত্কার দেখা যায়। এই ভ্যালিতেও জুমঘর আছে। স্থানীয় আপ্যায়নে এখানে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। পাশেই আই লাভ লামা লেখা ফটোস্টেজ। সবাই এখানে এসে ছবি তোলে। আমিও তুললাম। এরপর আবার পাহাড়ি পথে ট্রেকিং। মাঝপথে একটি চায়ের দোকান সামনে পড়ল। সেখানে বসে চা খেয়ে খানিকটা চাঙ্গা হলাম। এখান থেকেও মাতামুহুরী নদী দেখা যায়। নদী নারীর মতো বয়ে যাচ্ছে। চারপাশের অরণ্যের বেশির ভাগই সেগুনগাছ। পোকামাকড় আর পাখির ডাক নির্জনতাকে যেন আরো মোহময় করে তুলেছে। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো হালকা ঝড়। আরেকটু পর ঝুম বৃষ্টি নামল। পাহাড়ের অরণ্যে বৃষ্টিবিলাস যে কী অপূর্ব ও উপভোগ্যময়, তা লিখে প্রকাশ করা কঠিন। আবার চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। চুমুকে চুমুকে গভীর পাহাড়ের দৃশ্য দেখছি। একটু দূরে নদী। সবুজ অরণ্য বৃষ্টিতে ভিজে আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে। নয়নাভিরাম দৃশ্য! অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল পাহাড়ি বৃষ্টি দেখার। লামার পাহাড়ে আজ সে আশা পূর্ণতা পেল। এখানে ভিড় নেই বললেই চলে। প্রচণ্ড গরম বলে পর্যটকের সংখ্যা এখন কম। এর ওপর সরকারি ছুটির দিন। এটিও পর্যটক কম হওয়ার আরেক কারণ। দুর্গম পথও পর্যটকের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পাহাড়ে গরম নেই। উপভোগ্য আবহাওয়া।

বৃষ্টির পর দুর্গম পথ আরো পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে যায়। একটু অপেক্ষা করে ভয় ও রোমাঞ্চ নিয়েই উঠতে শুরু করলাম পাহাড়ের শীর্ষস্থান সুখিয়া ভ্যালির দিকে। উঁচু-নিচু ও ভঙ্গুর পথ। চলতে চলতে আবার একটি চায়ের দোকান পেলাম। এরপর রিভার ভিউ রিসোর্ট। এখান থেকে মাতামুহুরী নদী দেখতে আরো সুন্দর লাগে। কিছু কটেজ আছে, বসার ব্যবস্থাও আছে। কটেজের ব্যালকনি থেকে মন ভরে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নদী, পাহাড়, সবুজ আর নীলাকাশ মিলেমিশে একাকার। আরো কিছুক্ষণ পাহাড় ট্রেকিং শেষে পৌঁছলাম সুখিয়া ভ্যালি পাহাড়ে। চমত্কার স্পট। প্রকৃতি যেন আরো মোহনীয়।

প্রকৃতপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য লামা। ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা জনপদটিকে আরো বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। চকোরিয়া টু লামা/আলীকদম যেন প্রাকৃতিক শোভাময় স্বর্গের রাস্তা। চকোরিয়া থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরের মিরিঞ্জা ভ্যালি হচ্ছে মেঘের রাজ্য। লামা যেতে চোখে পড়বে এই স্বর্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে সূর্যাস্ত দেখতে স্বর্গের মতো লাগে। এখানে লুকোচুরি খেলা করে মেঘ, পাহাড় আর অরণ্য। সমগ্র লামায়ই চলে এই খেলা। মিরিঞ্জাপাড়ায় যেন সাজেকের অনুভূতি ধরা দেয়। লামা শহরের খেয়াঘাট থেকেও মাতামুহুরী নদী যেন উপভোগ্য এক সপট। ভরা যৌবনে আরো লাস্যময়ী হয়ে ওঠে নদী ও পাহাড় ঘেরা লামা। লামাপাড়া, মারমাপাড়া, মাতামুহুরী নদী, সুখিয়া ভ্যালি, মিরিঞ্জা ভ্যালি, বিভিন্ন ঝরনা লামাকে যেন স্বর্গে পরিণত করেছে। লামা টু মানিকপুর মাতামুহুরী নদী ভ্রমণ আপনার জীবনেও হতে পারে অন্যতম স্মৃতি। পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সর্পিল নদীপথের চারদিকেই সৌন্দর্যে মোড়ানো সবুজ, পাহাড় আর জলস্রোত। দুই পাশে পাহাড়, মাঝখানে নদী। পাগল করা এমন সব দৃশ্যের মুখোমুখি হতে আপনিও একদিন যেতে পারেন লামায়।

কিভাবে যাবেন

কক্সবাজারগামী বাসে চকোরিয়ায় যাওয়া যায়। বাসস্টেশন থেকে লামার বাসভাড়া ৭০ টাকা। জিপও পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে শ্যামলী ও হানিফ বাস আলীকদম হয়ে লামা যায়। ভাড়া নন-এসি এক হাজার ১০০ টাকা। লামার খেয়াঘাট থেকে দরদাম করে এক হাজার টাকার কাছাকাছি মানিকপুর বোট ভাড়া পাওয়া যায়। লামা পার্বত্য এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট রয়েছে। চেকপোস্ট ও আবাসিক হোটেলে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দেওয়া লাগতে পারে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

খোঁজখবর

খোঁজখবর

বিশ্বরঙে মূল্যছাড়

কেনাকাটায় বর্ষাকালীন মূল্যছাড় দিচ্ছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ। পাওয়া যাবে শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শার্ট, স্কার্ট, স্টিচ, আনস্টিচসহ পোশাক, গয়না ও অ্যাকসেসরিজ। শিশুদের পোশাকেও রয়েছে বিশেষ মূল্যছাড়। সব ধরনের শাড়িতে পাওয়া যাবে ২০ শতাংশ ছাড়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্টিচ পোশাকে পাওয়া যাবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। স্টক থাকা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শোরুম ও অনলাইনে উপভোগ করা যাবে এই মূল্যছাড়।

খোঁজখবর

ধানমণ্ডিতে ব্লুচিজ

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নতুন আউটলেট উদ্বোধন করেছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ব্লুচিজ। ২৭ জুন গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠান হয়। ব্লুচিজের প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের বিশ্বাস, নতুন আউটলেটটি এখানকার ক্রেতাদের কেনাকাটা আরো আরামদায়ক করবে। এ লক্ষ্যেই এখানে আমাদের নতুন যাত্রা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যান্ডটির সহপ্রতিষ্ঠাতা সিমিন জামান ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী। পাঞ্জাবি, ডিজাইনার ড্রেস, ওয়েস্টার্ন টপস, শার্ট, নারীদের প্যান্ট, টি-শার্ট, ডেনিম, ওয়েস্টকোট, পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল ও ফরমাল পোশাক পাওয়া যাবে এখানে। ঠিকানা : গাউসিয়া টুইন পিক, হাউস-৪২ ও ৪৩ (নতুন), ৭৪২ ও ৭৪৩ (পুরনো), সাতমসজিদ রোড, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

 

 

অবাধ্য চুল বশে আনার কৌশল

প্রেমিকার অবাধ্য চুল নিয়ে কত শত কবিতা-গান-ছড়া। তবে সামনে থাকা অবাধ্য ছোট চুল বশে রাখতে নারীদের বেশ ঝামেলাই পোহাতে হয়। অবাধ্য চুল বশে আনার পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন মেহরীমা ইতি

অবাধ্য চুল বশে আনার কৌশল

সামনের ছোট চুল প্রায়ই উড়ে এসে জুড়ে বসে মুখে। সব সময় ঠিক যেন কথা শুনতে চায় না সামনের ছোট চুলগুলো। তবে খানিকটা পরিচর্যায়ই বশে আনা যায় অবাধ্য ছোট চুল।

জুতসই বাঁধন

চুল বাঁধার ঢঙে ভিন্নতা আনতে পারেন। সামনের ছোট চুল যখন কথা শুনবেই না, তখন তাকে বেঁধে ফেলাই ভালো! কপাল থেকে মাথার তালু পর্যন্ত সুন্দর একটি স্কার্ফ বেঁধে নিন। ব্যস, হয়ে গেল ক্ষণস্থায়ী সমাধান। এলোমেলো চুল সামলাতে স্কার্ফটিকে ভাঁজ করে ব্যান্ডেনার মতো করে চুলের সামনের দিকে বেঁধে নিতে পারেন। এখন মেয়েদের কাছে স্কার্ফ বেশ জনপ্রিয়। এতে একই সঙ্গে ছোট চুলগুলোও যেমন সামলে রাখা যাবে, তেমনি ফ্যাশনও হবে। স্কার্ফ দিয়ে পুরো মাথার চুল ঢেকে রাখতে না চাইলে ফিতা দিয়ে টেনে বেঁধেও নিতে পারেন। দুটির কোনোটিতে যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না হয়, আছে উপায়। সামনের চুলগুলো পেঁচিয়ে টুইস্ট করে নিন। এবার ডান বা বাম যেকোনো একদিকে বেণি করে আরেক পাশে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিতে পারেন। চাইলে ছোট চুলের সমন্বয়ে ঝুঁটি বেঁধে নিতে পারেন।

কাটের ঢংয়ে বদল

অবাধ্য ছোট চুল নিয়ে খুব বেশি ঝামেলা হলে কাটের ঢংয়েও পরিবর্তন আনতে পারেন। মুখের সঙ্গে মানানসই এমন কোনো চুলের কাট বেছে নিন। সামনের চুলগুলো ব্যাংস করে কেটে নিলেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

এ ক্ষেত্রে ভালো বিউটি পার্লারে গিয়ে হেয়ার স্টাইলিস্টের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া ভালো। তাঁর দেওয়া পরামর্শ মেনে সামনের ছোট চুলের কাট বদলে নেওয়া যাবে অনায়াসেই।

 টিপস

* চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের ঠাণ্ডা বাতাস ব্যবহার করুন। গরম বাতাসে সামনের চুল আরো উষ্কখুষ্ক ও প্রাণহীন দেখাবে।

* চুলের সিঁথিতে পরিবর্তন আনতে পারেন, যাতে সামনের ছোটগুলোর সমন্বয়ে সিঁথিতে নতুনত্ব আনা যায়।

* অনুষ্ঠানে বা কোথাও বেড়াতে গেলে পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নকশাদার হ্যাট পরতে পারেন। এতে খুব সহজেই অবাধ্য চুল বশে আনা যাবে। সঙ্গে ফ্যাশনেবলও দেখাবে।

* বাজারে চুল আটকে রাখার জন্য নানা রকমের ক্লিপ পাওয়া যায়। এসব ক্লিপের ব্যবহারে সামনের ছোট চুল টেনে নিয়ে বড় চুলের সঙ্গে আটকে ফেলুন।

*তাত্ক্ষণিক সমাধান চাইলে হেয়ার স্প্রে কিংবা ওয়্যাক্স জেল দিয়ে চুলগুলো সেট করে নিতে পারেন। তবে এটি নিয়মিত করা যাবে না।

 

প্রসাধনীতে অ্যালার্জি হলে

প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি হয় প্রসাধনী। ত্বকের ধরনভেদেও আলাদা আলাদা প্রসাধনী বানানো হয়। তবু অনেকেই প্রসাধনী ব্যবহারে অ্যালার্জি সমস্যায় ভোগেন। করণীয় কী? লিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

প্রসাধনীতে অ্যালার্জি হলে
নতুন প্রসাধনী ব্যবহারের আগে পরখ করে নিন।  মডেল : লাবণ্য চৌধুরী ছবি : এটুজেড

স্বাভাবিক ত্বকে প্রায় সব ধরনের প্রসাধনীই মানিয়ে যায়। সমস্যা বেশি হয় মূলত সংবেদনশীল ত্বকের বেলায়। কারো কারো ত্বকের সংবেদনশীলতার কারণে প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। হতে পারে অ্যালার্জিও। যেমন—নেইলপলিশে থাকা সালফোনোমাইড, ফরমালডিহাইড রেজিনের কারণে গলা ও চোখের পাতায় প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আবার নেইলপলিশ তুলতে যে অ্যাসিটোন ব্যবহার করা হয়, তার জন্য নখ ক্ষয়ে যেতে পারে। চুলের কলপে থাকা প্যারাফিনাইল ডাই-অ্যামাইন থেকে মাথা, গোঁফ বা দাড়িতে অ্যালার্জি হতে পারে। লিপস্টিকে থাকা বিশেষ ধরনের রঞ্জক পদার্থ ঠোঁটে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এ জন্য ত্বকে প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দিলেন রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। বিজ্ঞাপনের প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে বিভিন্ন প্রসাধনী নির্বিচার ব্যবহার না করাই ভালো। এ জন্য প্রসাধনী কেনার আগে একজন ডার্মাটোলজিস্ট অথবা কসমেটোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া ভালো। তাঁদের পরামর্শমতো প্রসাধনী ব্যবহার করলে অ্যালার্জি সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। প্রসাধনী বারবার পরিবর্তন করাও অনুচিত। অ্যালার্জি না হলে সেই প্রসাধনী নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত। তবে কোনো বিশেষ প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে সেটি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। এ বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।

ত্বকে যদি আগে থেকেই অ্যালার্জি থাকে তাহলে প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। তার পরও প্রসাধনী ব্যবহার করতে চাইলে কেনার আগে সেটি পরখ করে নিন। কবজিতে সামান্য প্রসাধনী লাগিয়ে পরখ করুন, সেখানে কোনো র্যাশ, চুলকানি, লাল চিহ্ন বা জ্বালাপোড়া হয় কি না। এ ধরনের সমস্যা অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। যদি সমস্যা হয় তাহলে বুঝবেন প্রসাধনীটি আপনার ত্বক উপযোগী নয়। কোনো সমস্যা না হলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন। জেনে নিন প্রসাধনীতে অ্যালার্জি হলে কী করবেন।

ব্যবহার বন্ধ করুন

কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর ত্বকে সমস্যা দেখা দিলে সেটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক আলতো করে ধুয়ে ফেলুন। চুলে কলপ লাগানোর আগে কানের লতিতে লাগিয়ে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি অ্যালার্জি সৃষ্টি হয় তবে সেটা ব্যবহার না করাই ভালো। সুগন্ধি সামগ্রী থেকে সাধারণত অ্যালার্জি সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। এটাও ব্যবহারের আগে পরখ করে নেওয়া ভালো।

ঠাণ্ডা পানি ঢালুন

অ্যালার্জি বা র্যাশের কারণে জ্বালাপোড়া বেশি হলে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিন। কয়েক টুকরা বরফ পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে আক্রান্ত স্থানে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখুন। ত্বকের জ্বলুনি কমবে।

ময়েশ্চারাইজার

জ্বালাপোড়া কমাতে প্রসাধনী ব্যবহারের স্থানটিতে ক্ষতিকারক সুগন্ধি বা রাসায়নিক নেই এমন কোমল ময়েশ্চারাইজার বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ফুসকুড়ি, তীব্র জ্বালাপোড়া, ত্বক ফুলে যাওয়া বা ফোসকা পড়ার মতো সমস্যা হলে নিজে থেকে কোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না; দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় ওষুধ খেতে পারেন।