• ই-পেপার

পঞ্চদশ সংশোধনী : হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু

খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল

হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে করা এক মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো সংক্রান্ত শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ৮ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ'র আদালত এ তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ২ জুলাই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানো সংক্রান্ত শুনানির জন্য আজ ৬ জুলাই দিন ধার্য রাখেন। তবে শুনানির সময় নথি না থাকায় তা পিছিয়ে আগামী ৮ জুলাই ভার্চুয়ালি শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর খায়রুল হক কারামুক্ত হচ্ছেন মর্মে কয়েকবার জানান তার আইনজীবীরা। তবে নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন থাকায় তিনি আর কারামুক্ত হতে পারছেন না।

এ মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালী সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করছিলেন। তারা সেখান থেকে শাহবাগ যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, ককটেল,  হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জল মিয়াসহ ২৫/৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় ২৮ এপ্রিল বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। তার বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলার সবগুলোতে জামিনে আছেন তিনি। এবার নতুন করে আরেক হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করল পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে নিয়ে ‘মানহানিকর পোস্ট’, গ্রেপ্তার ৪

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে নিয়ে ‘মানহানিকর পোস্ট’, গ্রেপ্তার ৪
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মানহানিকর পোস্ট’ দেওয়ার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। এর মধ্যে দুজন রিমান্ডে আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন। তিনি বলেন, ওই মামলায় ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার রাতেই মামুন ও রবিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করে রবিবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত মানিককে চার দিনের ও হেলালকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয়। পরে মামুন ও রবিনকেও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

গ্রেপ্তাররা হলেন মামুন লস্কার সরকার, ওমর ফারুক রবিন ওরফে রবিন তাজ, জয়নাল আবেদীন মানিক ও হেলাল উদ্দিন। তাদের মধ্যে মানিক ও হেলাল বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, জয়নাল আবেদিন মানিকসহ চারজন তাদের ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেজ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীর নামে ‘মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকার’ পোস্ট করে। পরে পোস্টগুলো আরো ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি : ৪ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি : ৪ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ
সংগৃহীত ছবি

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগে চারজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন এ নোটিশ জারি করেন।

নোটিশ পাওয়া চার আইন কর্মকর্তা হলেন—মো. জহিরুল ইসলাম সুমন, মো. রফিকুল ইসলাম মন্টু, মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান নজরুল।

নোটিশে বলা হয়, গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ওই চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিচারপ্রার্থী ও অন্য আইন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার সঙ্গে অসংযত আচরণ করেন। এ সময় তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানোর হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা রয়েছে। এ ধরনের আচরণ গুরুতর অসদাচরণ ও সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির শামিল। কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম মন্টু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি আমাদের চারজনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নোটিশ আমরা হাতে পাইনি।’

অপর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান নজরুলও নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কোনো আইন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগকর্তা হলেন রাষ্ট্রপতি। ফলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ ধরনের নোটিশ দিতে পারেন কি না, তা আমাদের দেখতে হবে।’

অন্য দুই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মুহাম্মদ মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা চেয়ে হাইকোর্টে রিট
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর আদায় বা পরিশোধের জন্য একটি বিস্তারিত নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এ রিট করেন। এতে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, নারী অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১০ ধারার অস্পষ্টতা দূর করে দেনমোহর আদায়ের একটি বিস্তারিত নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

আইনজীবী ফাহমিদা আখতার কালের কণ্ঠকে বলেন, দেনমোহর বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিটটি করা হয়েছে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হলেও স্ত্রী দাবি জানানো সত্ত্বেও তা পরিশোধ করা হয় না। সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদের সময় এ বিষয়টি সামনে আসে। তখন দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার মূল্য কমে যায়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি বা সময়ের ব্যবধান বিবেচনা না করে দেনমোহর পরিশোধ করা এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এতে আরও বলা হয়েছে, শরিয়া আইনে নারী অধিকার সুরক্ষায় দেনমোহরসহ বিভিন্ন ইতিবাচক বিধান থাকলেও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা ও পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের কারণে এসব বিধানের কার্যকারিতা অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যাচ্ছে। স্পষ্ট আইনি মানদণ্ড বা নীতিমালা না থাকায় দেনমোহরের সুরক্ষামূলক উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

রিটে বলা হয়েছে, দেনমোহর একজন বিবাহিত নারীর আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার। তাই কেবল আইনি অস্পষ্টতা বা নীতিমালার অভাবে এ অধিকারের কার্যকারিতা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। বিবাহিত নারীদের অধিকার, আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।