আগে পোশাক, পরে সাজ—এটাই সাধারণ নিয়ম। তবে ডিওডোরেন্ট, লোশন, সানস্ক্রিন, মেকআপ ও চুলের বিভিন্ন পণ্য সাদা কাপড়ের রং নষ্ট করতে পারে। তাই এসব প্রসাধনী ব্যবহার করে শুকিয়ে যাওয়ার পরই শুধু পছন্দের সাদা জামাটি সাবধানে পরে নিন।
সাদা কাপড় ব্যবহারের পর বাতাসে শুকিয়ে নিন। এতে কাপড়ে ঘামের দাগ পড়বে না। না হলে দাগ বসে গেলে যত কাচাই হোক, সেই দাগ আর পরে উঠতে চায় না।
দাগ লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা দূর করার ব্যবস্থা নিলে ভালো। এতে দাগ বসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। দাগ হালকা হলে লেবু ও বেকিং সোডা দিয়ে কাপড়কে আরো সাদা করা যায় কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
জামার কলার, হাতা ও ভাঁজ করা প্রান্তগুলোতে বেশি চাপ পড়ে। ধুলাবালি, ঘামে জামার এসব অংশ বেশি ময়লা হয়। জামার রং সাদা হলে এসব দাগ আরো বেশি দেখা যায়। তাই কাপড় ধোয়ার সময় এসব অংশের দিকে বেশি মনোযোগ দিন।
রঙিন কাপড় আর সাদা কাপড় একসঙ্গে রাখবেন না। রং উঠতে পারে—এমন কাপড়ের সঙ্গে সাদা কাপড় পরা উচিত নয়। ঘাম হলে কাপড় ভিজে যায়, আর রঙিন কাপড় থেকে সাদা কাপড়ে দাগ লাগে।
সাদা পোশাক সব সময় আলাদাভাবে ধুতে হবে। কারণ, অন্য কোনো রঙের পোশাকের সঙ্গে ধুলে সেগুলোর রং ও দাগ সাদা পোশাকে লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনেকেরই ধারণা, বেশি ডিটারজেন্ট দিলে কাপড় বেশি পরিষ্কার হবে। কিন্তু আসলে বিপরীত। ডিটারজেন্টে কাপড়কে নরম ও আরো সাদা করতে যেসব ব্লিচ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারে সাদা কাপড় তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে হয়ে পড়ে মলিন।
কয়েক দিন ব্যবহারের পর সাদা পোশাকে হলদে ভাব এসে যায়, এটি দূর করতে কাপড় ধোয়ার সময় একটু সাদা ভিনেগার বা লেবুর রস দিয়ে দিন। সাদা পোশাকটি কড়া রোদে শুকালে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি প্রাকৃতিকভাবে সাদার উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়।
সাদা কাপড়ে অনেকে নীল ব্যবহার করে। এ ক্ষেত্রে সাবধানে পরিমাণমতো গুঁড়া বা তরল নীল ব্যবহার করতে হবে। কেননা নীলচে ছোপ বা নীলচে ভাব ধরা পোশাক খুব দৃষ্টিকটু।
সাদা কাপড় ব্যবহারের পরই ধুয়ে রাখা উচিত। আলতোভাবে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে কাপড়ের তন্তুগুলো ভালো থাকে। কাপড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কেমিক্যালের ব্যবহার কমিয়ে সূর্যের আলোতে শুকাতে হবে। সূর্যের আলো প্রাকৃতিক হোয়াইটেনার হিসেবে কাজ করে। সংরক্ষণের বেলায়ও রঙিন কাপড় থেকে সাদা কাপড় আলাদা রাখতে হবে।












