এই বৃষ্টি আর জল-কাদার দিনে শখের সাদা পোশাক সুন্দর রাখা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কিছু টিপস মেনে সাদা পোশাক সুন্দর রাখতে পারবেন অনায়াসে। লিখেছেন আয়েশা সিদ্দিকা স্বর্ণা
সাদা পোশাক সব সময় আলাদাভাবে ধুতে হবে। ছবি : এটুজেড
আগে পোশাক, পরে সাজ—এটাই সাধারণ নিয়ম। তবে ডিওডোরেন্ট, লোশন, সানস্ক্রিন, মেকআপ ও চুলের বিভিন্ন পণ্য সাদা কাপড়ের রং নষ্ট করতে পারে। তাই এসব প্রসাধনী ব্যবহার করে শুকিয়ে যাওয়ার পরই শুধু পছন্দের সাদা জামাটি সাবধানে পরে নিন।
সাদা কাপড় ব্যবহারের পর বাতাসে শুকিয়ে নিন। এতে কাপড়ে ঘামের দাগ পড়বে না। না হলে দাগ বসে গেলে যত কাচাই হোক, সেই দাগ আর পরে উঠতে চায় না।
দাগ লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা দূর করার ব্যবস্থা নিলে ভালো। এতে দাগ বসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। দাগ হালকা হলে লেবু ও বেকিং সোডা দিয়ে কাপড়কে আরো সাদা করা যায় কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
জামার কলার, হাতা ও ভাঁজ করা প্রান্তগুলোতে বেশি চাপ পড়ে। ধুলাবালি, ঘামে জামার এসব অংশ বেশি ময়লা হয়। জামার রং সাদা হলে এসব দাগ আরো বেশি দেখা যায়। তাই কাপড় ধোয়ার সময় এসব অংশের দিকে বেশি মনোযোগ দিন।
রঙিন কাপড় আর সাদা কাপড় একসঙ্গে রাখবেন না। রং উঠতে পারে—এমন কাপড়ের সঙ্গে সাদা কাপড় পরা উচিত নয়। ঘাম হলে কাপড় ভিজে যায়, আর রঙিন কাপড় থেকে সাদা কাপড়ে দাগ লাগে।
সাদা পোশাক সব সময় আলাদাভাবে ধুতে হবে। কারণ, অন্য কোনো রঙের পোশাকের সঙ্গে ধুলে সেগুলোর রং ও দাগ সাদা পোশাকে লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অনেকেরই ধারণা, বেশি ডিটারজেন্ট দিলে কাপড় বেশি পরিষ্কার হবে। কিন্তু আসলে বিপরীত। ডিটারজেন্টে কাপড়কে নরম ও আরো সাদা করতে যেসব ব্লিচ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারে সাদা কাপড় তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে হয়ে পড়ে মলিন।
কয়েক দিন ব্যবহারের পর সাদা পোশাকে হলদে ভাব এসে যায়, এটি দূর করতে কাপড় ধোয়ার সময় একটু সাদা ভিনেগার বা লেবুর রস দিয়ে দিন। সাদা পোশাকটি কড়া রোদে শুকালে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি প্রাকৃতিকভাবে সাদার উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়।
সাদা কাপড়ে অনেকে নীল ব্যবহার করে। এ ক্ষেত্রে সাবধানে পরিমাণমতো গুঁড়া বা তরল নীল ব্যবহার করতে হবে। কেননা নীলচে ছোপ বা নীলচে ভাব ধরা পোশাক খুব দৃষ্টিকটু।
সাদা কাপড় ব্যবহারের পরই ধুয়ে রাখা উচিত। আলতোভাবে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে কাপড়ের তন্তুগুলো ভালো থাকে। কাপড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কেমিক্যালের ব্যবহার কমিয়ে সূর্যের আলোতে শুকাতে হবে। সূর্যের আলো প্রাকৃতিক হোয়াইটেনার হিসেবে কাজ করে। সংরক্ষণের বেলায়ও রঙিন কাপড় থেকে সাদা কাপড় আলাদা রাখতে হবে।
জ্যৈষ্ঠ শেষ হলেও গ্রীষ্মের সুমিষ্ট ফল আমের স্বাদ নিতে পারেন বছরজুড়েই। সংরক্ষণের উপায় জানিয়ে লিখেছেন রুমিয়া হক শর্মী
‘বৈশাখে আম পাকে, আরো পাকে জাম, মৌ মৌ ঘ্রাণ ছোটে সবাই খাব আম।’ গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন সেজে ওঠে আমের রঙে ও সুবাসে। ফলের দোকান থেকে শুরু করে পথের ধারের অস্থায়ী বাজার—সবখানেই আমের প্রাচুর্য চোখে পড়ে। এ সময় প্রতিটি ঘরে থাকে আমের উপস্থিতি। কেউ পাকা আমের স্বাদ নেয় সরাসরি, কেউ তৈরি করে শরবত, জুস, আচার কিংবা মুখরোচক মিষ্টান্ন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের কাছেই সমান জনপ্রিয় এই ফল।
আমের মৌসুম ক্ষণস্থায়ী হলেও এর স্বাদ ও মাধুর্য দীর্ঘদিন মনে গেঁথে থাকে। মৌসুম ফুরিয়ে গেলেও প্রিয় এই ফলের স্বাদ ধরে রাখতে অনেকেই বেছে নেয় সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায়। ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ সবচেয়ে কার্যকর ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। ফলে ঋতু পেরিয়ে গেলেও বছরের বিভিন্ন সময়ে ফ্রিজে রাখা আমে ফিরে পাওয়া যায় গ্রীষ্মের সোনালি দিনের স্মৃতি, আর জিভে লেগে থাকে বাংলার প্রিয় ফলের চিরচেনা মিষ্টি স্বাদ।
আমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অটুট রাখতে সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন সচেতনতা। পুষ্টিবিদদের মতে, পাকা আম দীর্ঘদিন ফ্রিজে সংরক্ষণ না করাই উত্তম। অতিরিক্ত সময় ধরে সংরক্ষণের ফলে ধীরে ধীরে এর স্বাভাবিক পুষ্টিমান কমে যায়। তাই মৌসুমি এই ফলের প্রকৃত স্বাদ ও গুণাগুণ উপভোগ করতে যথাসম্ভব তাজা অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সংরক্ষণ করা যেতে পারে প্রয়োজনের তাগিদে, তবে তা যেন স্বাদ ও পুষ্টির সঙ্গে আপস না করে সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
সারা বছর পাকা আমের স্বাদ ধরে রাখার উপায়
* সংরক্ষণের জন্য ভালো মানের, সম্পূর্ণ পাকা ও তাজা আম বেছে নিন। এরপর আমগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। খোসা ছাড়ানোর পর আমের আঁটি আলাদা করে শুধু আমের শাঁস সংগ্রহ করুন।
* সংগ্রহ করা আমের শাঁস ফুড গ্রেড মানের বায়ুরোধী পাত্রে ভরে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। ছোট ছোট পাত্র ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনক। প্রতিটি পাত্রে এমন পরিমাণ আম রাখা উচিত, যা একবার বের করে সহজেই খাওয়া বা ব্যবহার করা যায়। এতে বারবার গলানো ও পুনরায় সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না এবং আমের গুণগত মানও ভালো থাকে।
* প্রয়োজনের সময় ফ্রিজ থেকে আম বের করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে তৈরি করা যায় সুস্বাদু জুস, মিল্কশেক কিংবা নানা ধরনের ডেজার্ট। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে আমের স্বাদ, ঘ্রাণ ও রসালত্ব অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে।
* আমের টুকরা, পিউরি [রস] বা আস্ত আম ভালোভাবে জিপলক ব্যাগ বা এয়ারটাইট বক্সে ভরে ডিপ ফ্রিজে রেখে ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত রেখে খাওয়া যায়। স্বাদ ও গন্ধও ঠিক থাকে।
* ফ্রিজে একসঙ্গে অনেক আম না রেখে ছোট ছোট আলাদা ব্যাগে রাখুন।
* পাকা আম সামান্য জ্বাল দিয়ে ঘন পাল্প বা জ্যামের মতো বানিয়ে কাঁচের বয়ামে নরমাল ফ্রিজে কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যায়।
* আস্ত আম সংরক্ষণ করতে চাইলে প্রথমে কাগজের ব্যাগে আমগুলো রাখুন। ব্যাগটি একটি কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। এবার আরেকটি পলিথিনের ব্যাগে তুলে রাখুন। এরপর ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। অনেক দিন পর্যন্ত এভাবে আম ভালো থাকবে।
যোগব্যায়াম তথা ইয়োগার কথা কমবেশি আমরা সবাই জানি। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। দিবসটি সামনে রেখে জেনে নিন যোগব্যায়াম বিষয়ে জরুরি কিছু তথ্য। লিখেছেন আহমেদ ইমরান
যোগব্যায়াম করতে হয় ধিরস্থিরভাবে। খোলা পরিবেশে যোগ ব্যায়াম করা ভালো। ছবি : এটুজেড
যোগব্যায়ামকে প্রাণায়াম, যোগা, ইয়োগা বলেও ডাকা হয়। যোগব্যায়ামের একটি শাখা হচ্ছে যোগাসন। যেখানে আসন বা বসার মাধ্যমে যোগব্যায়াম করা হয়। এটি একপ্রকার আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া; যেখানে দেহ, মন এবং আত্মাকে একত্রিত করা হয়। মন, শরীর এবং আত্মার সর্বোত্কৃষ্ট সাফল্যের পরিপূর্ণ উপায় হিসেবে ভারতের ঋষিমুনিরা হাজার হাজার বছর আগে এই যোগ উদ্ভাবন করেছেন। যোগব্যায়াম হলো দেহ এবং চেতনার মিলন।
উপকারিতা
যোগব্যায়ামের প্রক্রিয়া ধিরস্থিরভাবে করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় ধীরগতির লয়ে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। এটা আমাদের শরীরের রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। সঙ্গে পেশিগুলোকে উষ্ণ করে তোলে। নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে যোগব্যায়াম করা হয়। এটা শারীরিক শক্তি সঞ্চয় করে।
যোগব্যায়ামের ফলে পিঠের ব্যথা উপশম হয়। আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ানস দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথার জন্য প্রথম লাইনের চিকিত্সা হিসেবে এই ব্যায়াম নিয়মিত করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।
যোগাসনের সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। ছবি : লা রিভ
নিয়মিত যোগব্যায়াম অনুশীলনের ফলে মানসিক চাপ কমে। পাশাপাশি এই ব্যায়াম শরীরজুড়ে নানাবিধ ব্যথা কমিয়ে দেয়, যা সুস্থ হার্ট গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে। উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত ওজনসহ হূদরোগের মতো অনেক কঠিন অসুখের সমাধান যোগব্যায়ামের মাধ্যমেও করা যেতে পারে।
যোগব্যায়াম আমাদের পেশি শিথিল করে এবং আরো ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। ভালো মানের ঘুম পেতে যোগব্যায়াম রুটিন অনুসরণ করতে পারেন। রাতে শরীরকে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে এই ব্যায়াম বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
যোগব্যায়ামের ফলে শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত যোগব্যায়াম অনুশীলনের রুটিন মেনে চললে মানসিক এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। কাজে উত্সাহ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে একজন মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়। সহজে নেতিবাচক চিন্তার দ্বারা তারা প্রভাবিত হয় না।
নিয়মিত যোগব্যায়ামের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অনেক গবেষণায় বাত, অস্টিওপেনিয়া, ভারসাম্যের সমস্যা, অনকোলজি, মহিলাদের স্বাস্থ্য সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং অন্যান্য বিভিন্ন অসুখে এই যোগব্যায়ামের উপকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
যোগব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ-এর তথ্য মতে, যোগব্যায়াম স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া মননশীলতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন হ্রাস এবং মানসম্পন্ন ঘুমের জন্যও গবেষকরা নিয়মিত যোগব্যায়াম করার প্রতি উত্সাহ দেন।
সতর্কতা
যোগাসনের সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত, যাতে যোগাসন আরামদায়ক হয়। হালকা ঢিলেঢালা ধরনের পোশাক পরার সুবিধা হলো, এতে করে আপনি যোগব্যায়ামের যেকোনো ভঙ্গি করতে পারবেন সহজেই। বয়সসীমা নির্বিশেষে যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ যোগাসন করতে পারেন। তবে একা একা অনুশীলন না করে কোনো অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের সহায়তা নেওয়া ভালো। শরীরের ওপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে অথবা শরীরে ব্যথা নিয়ে যোগাসন করা ঠিক নয়, প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। নিয়ম মেনে গর্ভাবস্থায় যোগব্যায়াম অনুশীলন খুবই উপকারী। তবে অনুশীলনের আগে অবশ্যই চিকিত্সকের বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সঠিক সময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সময়ে যোগব্যায়াম করলে নিজের মন ভালো লাগবে, ওই সময় করলেই সবচেয়ে ভালো কাজ হয়। তবে সকালের সতেজ আবহাওয়ায় যোগব্যায়াম করা বেশি উপকারী। এ সময় যোগব্যায়াম করলে দিন ভালোভাবে শুরু হয়। সারা দিন এর উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে যোগ নিয়ে কাজ করা অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মতে, যোগব্যায়াম শুধু সকাল-সন্ধ্যায় অভ্যাস করার বিষয় নয়। যোগ হলো বিশেষভাবে বাঁচা। এ জন্য যোগার সঙ্গে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে নিতে হয়। নিজেকেই যোগ হয়ে উঠতে হয়। নয়তো সেটা যোগ নয়, শুধুই যোগের অভ্যাস।
উপকারী ৫টি যোগাসন
ভুজঙ্গাসন বা কোবরা পোজ
এই পদ্ধতিতে বুকের অবস্থান এমন হবে যেন সাপের ফনার মতো দেখতে লাগে। যাঁরা যোগব্যায়াম প্রথম করছেন তাঁদের জন্য উপকারী। এটা শুধু শ্বাসকষ্ট থেকেই মুক্তি দেয় তা নয়, পাশাপাশি মানসিক উদ্বেগ কমায়। সার্বিকভাবে মন খুশি রাখে।
অর্ধ মত্স্যন্দ্রাসন
শরীরে ওপরের অংশের সঙ্গে নিচের অংশের অবস্থান এমন হবে যেন ঠিক মাছের মতো দেখতে লাগে। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে গভীর শ্বাস নিতে সাহায্য করে। ফুসফুসের পেশি আরো ভালো করে সঞ্চালন করে। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে। মানসিক উদ্বেগের সময় স্বস্তি দেয়।
শবাসন
এই আসনটি অপেক্ষাকৃত কঠিন। সারা দিন, সপ্তাহ, এমনকি বছরজুড়ে আমরা আমাদের শরীরের সঙ্গে চিন্তাকে বয়ে নিয়ে বেড়াই, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরনের ওপরও প্রভাব ফেলে। শবাসন মূলত একটি বিশ্রাম নেওয়ার আসন। নিজের মাথা থেকে বাইরের চিত্কার, উত্তেজনা, উদ্বেগ থেকে মুক্ত করার পদ্ধতি। আরো ভালোভাবে শ্বাস নেওয়ার জন্য শেষ দুটি যোগাসন অবশ্যই প্রত্যেকের করা উচিত। শ্বাস-প্রশ্বাসের পাশাপাশি আরো একাধিক সুবিধা পাওয়া যায় এই দুই যোগব্যায়ামে।
প্রাণায়াম
অনেকেই প্রাণায়ামকে গভীর প্রশ্বাস বলে ভুল করে থাকে। প্রাণায়াম অত্যন্ত ধীর একটি প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে ফুসফুসের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন প্রবেশ করে। এভাবে শরীরেও বাড়তি শক্তি পাওয়া যায়।
অনুলোম-বিলোম
এর মাধ্যমে আঙুল দিয়ে নাকের একটা অংশ চেপে ধরে অন্য অংশ নিয়ে প্রশ্বাস নিতে হয়। এরপর পুনরায় উল্টো পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। বলা হয়, এই শ্বাস-প্রশ্বাসের পদ্ধতির মাধ্যমে শারীরিক এবং মানসিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ার উন্নতি হয়। এর ফলে মানসিক উদ্বেগ হ্রাস পায় এবং শ্বাস পদ্ধতি ও রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি হয়।
রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ
পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় উইকএন্ড উদযাপনের জন্য বিশেষ আয়োজন শুরু করেছে রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেল। ম্যাজিক্যাল ফ্রাইডে ব্রাঞ্চ নামের এই আয়োজন থাকবে হোটেলটির বাহার রেস্টুরেন্টে। এখন থেকে প্রতি শুক্রবার আয়োজন হবে এই ব্রাঞ্চ। মূল্য জনপ্রতি তিন হাজার ২৫০ টাকা। গ্রামীণফোন স্টার ও বাংলালিংক অরেঞ্জ ক্লাব এলিট গ্রাহক, নির্বাচিত ব্যাংক কার্ড এবং গ্রুপ বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন।
ঢাকায় কিনোকুনিয়া
বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বখ্যাত জাপানি বুকশপ কিনোকুনিয়া। ১৯ জুন রাজধানীর সেন্টার পয়েন্টে শুরু হবে পথচলা। ১৯২৭ সালে জাপানে প্রতিষ্ঠিত কিনোকুনিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বুকশপ। আন্তর্জাতিক প্রকাশনার নতুন বই, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, শিল্পকলা, একাডেমিক গবেষণা, শিশুতোষ বই এবং জাপানি মাঙ্গারসমৃদ্ধ সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে পরিচিত।
বিশ্বরঙে মূল্যছাড়
ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙে চলছে নীল উত্সব। ‘তবু হে অপূর্ব রূপ, দেখা দিলে কেন কে জানে’—নীলমণিলতাকে দেখে এ গানটি লিখেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি নীল রং পছন্দ করতেন। কারণ নীল রং যেন টিকে থাকার লড়াইয়ে আকাশ-অস্তিত্বের কবজ। আনন্দ প্রকাশে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে প্রয়োগ করেছেন নীল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো আনন্দ প্রকাশের এই রং সবার মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘বিশ্বরঙ’ উদযাপন করছে ‘বিশ্বরঙ নীল উত্সব-২০২৬’। এ উপলক্ষে সব ধরনের পোশাক কেনাকাটায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে ব্র্যান্ডটি।