• ই-পেপার

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ সেই রেফারিকে পুরো পারিশ্রমিক দেবে ফিফা

তিউনিশিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাল সুইডেন

ক্রীড়া ডেস্ক
তিউনিশিয়াকে গোলবন্যায় ভাসাল সুইডেন
তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে সুইডেন। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ দুর্দান্ত সূচনা করেছে সুইডেন। মেক্সিকোর মনতেরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে সুইডিশরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইডেন। সপ্তম মিনিটে দূরপাল্লার দারুণ শটে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসিন আয়ারি। তিউনিশীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় গোল করার পর কোনো উদযাপন করেননি তিনি।

৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেকজান্দার ইসাক। ভিক্টর ইয়োকেরেসের পাস থেকে বল পেয়ে শট নেন ইসাক। তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক বলটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সেটি জালে জড়িয়ে যায়।

প্রথমার্ধের শেষদিকে তিউনিশিয়া ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। ৪৫ মিনিটে ওমর রেকিক হেড থেকে গোল করে ব্যবধান কমান। ফলে বিরতিতে যাওয়ার সময় স্কোরলাইন ছিল ২-১।

দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সুইডেন। ৫৯ মিনিটে তিউনিশিয়ার অধিনায়ক ইলযাস সিকিরির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ইয়োকেরেস। এরপর ৮৪ মিনিটে বদলি নেমেই গোল করেন মাটিয়াস সভানবার্গ। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলের স্বীকৃতি দেন রেফারি।

যোগ করা সময়ে আবারও জ্বলে ওঠেন আয়ারি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করার পাশাপাশি দলের পঞ্চম গোলও উপহার দেন তিনি।

ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন গিওকেরেস। অন্যদিকে ইসাকের অবদান ছিল এক গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট। তাদের দুর্দান্ত সমন্বিত আক্রমণে পুরো ম্যাচজুড়েই বিপর্যস্ত ছিল তিউনিশিয়ার রক্ষণভাগ।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এফ’-এ শীর্ষে উঠে এসেছে সুইডেন। 

বিশ্বকাপে গোলকিপার নিয়ে মধুর সমস্যায় স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে গোলকিপার নিয়ে মধুর সমস্যায় স্পেন

বিশ্বকাপ মাঠে নামার আগে স্পেন দলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দুশ্চিন্তা এখন গোলকিপার পজিশন। একদিকে ইউরো ২০২৪ জয়ের নায়ক উনাই সিমন, অন্যদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ডেভিডি রায়া। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছেন বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে দূর্দান্ত খেলা তরুণ গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।

আর্সেনালের হয়ে গত কয়েক মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন ডেভিড রায়া। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দলকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিততে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে এত কিছুর পরও স্পেনের প্রথম পছন্দের গোলকিপার হিসেবে এখনো এগিয়ে রয়েছেন অ্যাথলেটিক ক্লাবের উনাই সিমন।

রায়া অবশ্য প্রতিযোগিতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা সবাই একে অপরকে আরও ভালো হতে সাহায্য করি। যে-ই মাঠে নামুক, সে দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

এদিকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা হোয়ান গার্সিয়াও আলোচনায় রয়েছেন। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই তরুণ গোলরক্ষককে স্প্যানিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিশ্বকাপের শুরুতেই তার একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

ফলে স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে এখন এমন এক পরিস্থিতিতে আছেন, যেখানে তিনজন মানসম্পন্ন গোলকিপারের মধ্যে বেছে নিতে হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এটি নিঃসন্দেহে একটি ‘মধুর সমস্যা’।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে উনাই সিমনকেই দেখা যেতে পারে স্পেনের গোলবারে। তবে বেঞ্চে ডেভিড রায়া ও হোয়ান গার্সিয়ার মতো নির্ভরযোগ্য বিকল্প থাকায় স্বস্তিতে রয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল জার্মানি

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল জার্মানি
বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল এখন জার্মানি। ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে জার্মানি। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা দেশের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সোমবার অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কুরাসাওয়ের জালে সাতবার বল পাঠানোর পর বিশ্বকাপে জার্মানির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৯। এর ফলে তারা ছাড়িয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গোলসংখ্যা ২৩৮টি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে জার্মানির ধারাবাহিকতা বরাবরই নজরকাড়া। ১৯৫০ সালের আসর ছাড়া প্রতিটি বিশ্বকাপেই অংশ নিয়েছে দলটি। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে তারা সর্বোচ্চ ২৫ গোল করে শিরোপা জিতেছিল। অন্যদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে মাত্র দুই গোল করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় জার্মানরা।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে জার্মানি ২৩৯ গোলের বিপরীতে ১৩১ গোল হজম করেছে। ফলে তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে +১০৮। সর্বাধিক গোল করা দলের তালিকায় জার্মানির পর রয়েছে ব্রাজিল (২৩৮) ও আর্জেন্টিনা (১৫২)।

জার্মানির বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসা। তার নামের পাশে রয়েছে ১৬ গোল। এটি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও। এ ছাড়া গার্ড মুলার ১৪, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান ১১ এবং থমাস মুলার ১০ গোল করেছেন।

কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়টি বিশ্বকাপে জার্মানির আরেকটি বড় ব্যবধানের জয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ এবং ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা।

শেষ মুহূর্তের গোলে হাসল আইভরি কোস্ট

ক্রীড়া ডেস্ক
শেষ মুহূর্তের গোলে হাসল আইভরি কোস্ট
আইভরি কোস্টের গোলের নায়ক আমাদ (১৫ নম্বর জার্সি)। ছবি : রয়টার্স

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি ছিল। এরপরে যোগ করা সময়ে গড়াত ম্যাচ। এত সময় ধরেও যখন গোলের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না তাতে মনে হচ্ছিল ড্রয়েই হতে যাচ্ছে ম্যাচ।

কিন্তু না। আমাদ দিয়ালো তা হতে দিলে না। কাঁটায় কাঁটায় ৯০ মিনিটে গোল করে আইভরি কোস্টকে বুনো উল্লাসের সুযোগ এনে দিলেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। বক্সের মধ্যে পাওয়া সতীর্থ উইলফ্রেইড সিনগোর পাসকে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়দের এড়িয়ে জালের পথ দেখিয়ে দিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড। আমাদের গোলেই পরে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে আইভরি কোস্ট।   

এর আগে মনে হচ্ছিল কোনো দলই গোল পাবে না ম্যাচে। অথচ, চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলের খোঁজে লড়াই চালিয়ে গেলেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। কিন্তু ফিলাডেলফিয়ায় ‘সোনার হরিণের’ দেখা মিলছিল না।

ম্যাচে ভাগ্যকেও পাশে পাচ্ছিল না দুই দলের খেলোয়াড়রা। উল্টো ‘ভাগ্য দেবতা’ যেন বারের সাহায্যে প্রতিপক্ষ বনে গেলেন। তা না হলে দুদলের মোট ৪বার বল বারে লেগে ফিরে আসবে কেন? এর মধ্যে ৩টিই ইকুয়েডরের। বিপরীতে ৫২ মিনিটে হতাশ হয় আইভরি কোস্ট। 

রক্ষণভাগের সঙ্গে দুদলের গোলরক্ষকরাও দারুণ কিছু সেভ দেন। এতে করে পয়েন্ট ভাগাভাগিই যখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে ঠিক সে সময়ই সব হিসেব বদলে দিলেন আমাদ।