• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে : এরদোয়ান

শান্তি চুক্তির আগে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
শান্তি চুক্তির আগে হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আর কোনো হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থায় নতুন হামলা পুরো প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিতে পারে।

মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক বার্তায় রবিবার (১৪ জুন) ট্রাম্প  বলেন, 'আমরা এমন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, যা এই অঞ্চলে শান্তি আনতে পারে।' তিনি সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'এটা নষ্ট করে ফেলবেন না।'

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানায়, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় আরো ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় আকাশে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর দুই দিন পর, ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভেতরে গত ২৫ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক গুরুতর অভিযান চালিয়েছে। ইরান চায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে লেবাননের সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকুক।

ইরান এই হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই বৈরুতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, 'নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেবে না ইসরায়েল।'  এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় তারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতে একটি পাঁচতলা ভবনে হামলা হয়েছে। ভবনটির নিচতলায় দোকান ছিল। বিস্ফোরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিচের দুটি তলা। হামলার পর দক্ষিণ বৈরুতের অনেক বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। এই হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রবিবারই চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।

ইরানের প্রধান আলোচকদের একজন এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ ইসরায়েলের হামলার পর মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেন। তিনি লেখেন, 'আপনারা যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইচ্ছা ও সক্ষমতা না রাখেন, তাহলে তাহলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বা কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।' অন্যদিকে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের উপপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেছেন, বৈরুতে হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। 

গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রবিবার ইরানে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তারা আশাবাদী যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অনেকটাই কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন ঘটায় সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। তবে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিদেশে আটকে থাকা দেশটির শত শত কোটি ডলারের সম্পদ। সূত্রগুলো বলছে, এসব জটিল বিষয়ে সমাধানের জন্য চুক্তিতে একটি আলাদা আলোচনার কাঠামো রাখা হতে পারে। সেখানে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক আলোচনা চালানোর সুযোগ থাকবে। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) জানিয়েছেন, রবিবারই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেও হতে পারে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সরাসরি অনুষ্ঠান ছাড়াই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। তবে এটি কখন এবং কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরান সরকার সতর্ক করে বলেছে, এই চুক্তি নিয়ে দেশের ভেতরে বিভক্তি তৈরি হলে আলোচনায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। যারা আলোচকদের সমালোচনা করছেন, তারা মূলত জাতীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-কে দেওয়া এক বক্তব্যে মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, 'ইরানিদের বোঝা উচিত, কোনো যুদ্ধই চিরকাল স্থায়ী হয় না।'

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪১ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এর বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তারা এখনো প্রকাশ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ধারণা করা হয়, এসব ইউরেনিয়াম তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার নিচে রাখা আছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেসব স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এদিকে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু সমালোচক বলছেন, আলোচনায় থাকা চুক্তিটি ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে খুব বেশি ভালো নয়। অথচ প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প নিজেই যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে বের করে এনেছিলেন।

এদিকে আশা করা হচ্ছে, আজ শুরু হওয়া জি-সেভেন এর শীর্ষ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প আলোচনা করবেন।

ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিনের ব্যবহার কমাবে যক্ষ্মার টিকা, বলছে গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিনের ব্যবহার কমাবে যক্ষ্মার টিকা, বলছে গবেষণা
সংগৃহীত ছবি

যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত বিসিজি টিকা এবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। মার্কিন চিকিৎসকেরা দাবি করেছেন, এই টিকাটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উন্নত করে অটোইমিউন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করার (সুগার) মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং ইনসুলিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে দারুণ সাহায্য করে।

আমেরিকার নিউ অরলিন্সে অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভায় ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ডঃ ডেনিস ফস্টম্যান একটি নতুন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, যক্ষ্মার টিকাটি অটোইমিউন ডায়াবেটিস (যেমন টাইপ-১ ডায়াবেটিস) আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করা বা সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর হতে পারে। টাইপ-১ ডায়াবেটিসের মতো রোগে মানুষের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরি করা বিটা কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে, আর এই টিকা সেই ক্ষতিকর প্রক্রিয়াটি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

গবেষণায় টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একদল রোগীকে ৫ বছরের ব্যবধানে এই টিকার কয়েকটি ডোজ দেওয়া হয়. ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, যারা বিসিজি টিকা নিয়েছেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে ছিল। সাধারণ ডায়াবেটিক রোগীদের তুলনায় তারা প্রায় ১৮৪ শতাংশ বেশি সময় সুস্থ রক্ত সুস্থ মাত্রায় বজায় রাখতে পেরেছেন। 

একই সাথে চিকিৎসকেরা প্রাপ্তবয়স্কদের সুপ্ত অটোইমিউন ডায়াবেটিস বা ‘টাইপ ১.৫’ রোগীদের ওপরেও এই টিকার পরীক্ষা চালান। সেখানে দেখা যায়, টিকাটি সরাসরি সুগারের মাত্রা না কমালেও রোগটি শরীরে ছড়িয়ে পড়ার গতি অনেক ধীর করে দিয়েছে। এমনকি এই টিকা নেওয়ার ফলে রোগীদের অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে পাঁচ বছর পরও সচল ছিল। অন্যদিকে যারা এই টিকা নেননি, তাদের ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা আরো ২২ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ১৯২০ সালের দিকে তৈরি এই বিসিজি টিকা দিয়ে ডায়াবেটিস হয়তো পুরোপুরি নিরাময় হবে না, তবে এটি সুগার নিয়ন্ত্রণ এত সহজ করে দেবে যে রোগীদের জীবনযাত্রা অনেক আরামদায়ক হয়ে উঠবে। বর্তমানে এই টিকাটি নিয়ে আলঝেইমার রোগের চিকিৎসারও গবেষণা চলছে। তবে এক ডলারেরও কম খরচের এই টিকার পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বড় বড় ওষুধ কম্পানিগুলো এর পেছনে নতুন করে গবেষণার তহবিল দিতে চাইছে না, যা এর প্রধান বাধা। চিকিৎসকেরা এখন এই চিকিৎসাপদ্ধতিকে চূড়ান্ত করতে আরো বড় পরিসরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জি-৭বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল জেনেভা

অনলাইন ডেস্ক
জি-৭বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল জেনেভা
ছবি : সংগৃহীত।

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে রবিবার জেনেভায় জাতিসংঘের (ইউএন) সদর দপ্তরের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেন শহরে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে জি-৭বিরোধী মিছিলে অংশ নেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বোতল, পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা জবাবে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে বিক্ষোভকারীরা পার্ক মন রেপোতে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে তারা ‘নো জি-৭’ জোটের ব্যানারে প্লাস দে নাসিওঁর উদ্দেশ্যে মিছিল শুরু করেন। জোটটি দীর্ঘদিন ধরে জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করে আসছে।

এএফপি এবং রয়টার্স সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের টেলিযোগাযোগ সংস্থার ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা ভবনের দিকে ফ্লেয়ার ছুড়ে মারে।

জি-৭বিরোধী একটি জোটের ডাকা এই বিক্ষোভের আগে জেনেভায় হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ফ্রান্সে জি৭ বিরোধী বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও প্রায় ২০ হাজার মানুষ একটি মিছিলে অংশ নিতে জড়ো হয়। মিছিলটি শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

কিছু বিক্ষোভকারী দোকানের সামনে সুরক্ষার জন্য লাগানো প্লাইউডের প্যানেল খুলে ফেলে ও জানালা ভাঙচুর করে। তারা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে এবং একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ভেন্যুর কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দিতে ফ্রান্স অস্বীকৃতি জানানোয় জেনেভায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল বলে জেনেভা নগর সরকার জানিয়েছে।

জি-৭ সম্মেলনকে ঘিরে বিক্ষোভ নতুন কিছু নয়। বিক্ষোভকারীরা সাধারণত পুঁজিবাদ, বিশ্বায়ন, বৈষম্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসগ বিশ্বের সাতটি ধনী দেশের নেতারা তিন দিনের বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার এভিয়ানে সমবেত হওয়ার কথা। এবারের সম্মেলনের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রধান বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ‘ইতিবাচক’ চোখে দেখছে বেইজিং

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ‘ইতিবাচক’ চোখে দেখছে বেইজিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফাইল ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চীন। বেইজিং এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে। সোমবার (১৫ জুন) আলজাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন সব ধরনের শত্রুতা ও যুদ্ধাবসান, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনায় ফিরে আসার পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর অন্যতম। ফলে এই চুক্তি বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, তবে চুক্তিকে স্বাগত জানালেও বেইজিং এখনই অতি-উত্সাহী না হয়ে বেশ সতর্কতা বজায় রাখছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এখনো অস্পষ্ট এবং বেশ কিছু দ্বিমত ও মতপার্থক্য নিরসন করা এখনো বাকি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও এর প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আরো ৬০ দিন সময় লাগবে। ফলে চীনের কাছে এটি একটি সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক শুরু হলেও, একে এখনই সংকটের চূড়ান্ত সমাপ্তি বলা যাচ্ছে না।

পাশাপাশি, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। বেইজিং এই নতুন কূটনৈতিক পথকে সাধুবাদ জানালেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজের জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, তা থেকে চীন পিছু হটবে না।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর গত রবিবার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।