• ই-পেপার

মাদারীপুরে ট্রাক-মিনি ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ত্রুটি উদ্বেগজনক নয় — এনপিসিবিএল

আলমগীর হোসাইন (নাবিল), আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ত্রুটি উদ্বেগজনক নয় — এনপিসিবিএল
সংগৃহীত ছবি

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের পর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সময় একটি কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে কারিগরি এই বিচ্যুতি নিয়ে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।

সংস্থাটির জানিয়েছে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে এ ধরনের ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন করা কমিশনিং প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক এবং বাধ্যতামূলক অংশ। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যক্রম শুরুর আগেই গুরুতর কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে—এমন দাবি প্রচারিত হলে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব তথ্যকে বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে উল্লেখ করে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান। 

সোমবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। কিছু মহলের প্রচারিত বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অযথা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, যার সঙ্গে প্রকৃত পরিস্থিতির কোনো মিল নেই।’ 

ড. জাহেদুল হাসান জানান, কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একাধিক নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এসব পরীক্ষায় সামান্য বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়া বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতারই প্রমাণ। 

তিনি আরো বলেন, সেকেন্ডারি সার্কিটে ৮.১ মেগাপাস্কাল (এমপিএ) চাপে পরিচালিত ‘লিক-টাইটনেস টেস্ট’ একটি বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত পরীক্ষা, যা প্রতিবার কেন্দ্র শাটডাউন অবস্থা থেকে অপারেশনাল অবস্থায় যাওয়ার সময় সম্পন্ন করা হয়। পারমাণবিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্পে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। 

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরমাণু বিজ্ঞানী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি লোডিং বা কমিশনিং পর্যায়ে এ ধরনের ক্ষুদ্র কারিগরি বিষয় শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে প্ল্যান্ট শাটডাউন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সে ধরনের নয় এবং এটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনেরও কোনো কারণ নেই।’ 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রূপপুর প্রকল্পকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, প্রথম প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে রূপপুরে আরো দুটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যান্য অনেক জ্বালানি উৎসের তুলনায় অধিক সাশ্রয়ী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরে দুটি ইউনিট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। 

 

বরিশালে বিপুল অবৈধ রেণুপোনা জব্দের পর নদীতে অবমুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে বিপুল অবৈধ রেণুপোনা জব্দের পর নদীতে অবমুক্ত

বরিশালে অবৈধভাবে পাচারকালে ১৩ ব্যারেল রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) মধ্যরাতে বরিশালের দোয়ারিকা শিকারপুর ব্রিজের টোল প্লাজায় একটি ট্রাকযোগে ১৩ ব্যরেল রেণুপোনা অবৈধভাবে পাচারকালে তা আটক করা হয়। এসময় ট্রাকে থাকা সাতজন শ্রমিক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। 

সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় জব্দ রেণুপোনা বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কীর্ত্তণখোলা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। 

বরিশাল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জামাল হোসাইন জানান, ভোলা থেকে অবৈধভাবে ট্রাকযোগে মাছের রেণুপোনা পাচারকালে এনএসআই-এর সহযোগিতায় জব্দ করা হয়। ১৩টি ব্যরেলে প্রায় তিন লক্ষ রেণুপোনা আটক করা হয়েছে। এগুলো বরিশালের কীর্ত্তণখোলা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। এঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

সাতক্ষীরায় সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানববন্ধন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানববন্ধন

সাতক্ষীরায় সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সামনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম যৌথভাবে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

এ সময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুস্থ জীবন, নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন’, ‘আসুন দূষণমুক্ত সাতক্ষীরা গড়ি’, ‘সঠিক জায়গায় ময়লা ফেলি দূষণমুক্ত আবাসন গড়ি’, ‘নিজের এলাকা পরিষ্কার রাখি, সুস্থ সুন্দর পরিবেশ গড়ি’, যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করুন’, ‘সবাই মিলে শপথ গড়ি, সুস্থ সুন্দর পরিবেশ গড়ি’, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুস্থ সবল বাংলাদেশ’, ‘সবাই মিলে হাত মেলাই, দূষণমুক্ত সাতক্ষীরা চাই’, ‘পরিচ্ছন্ন চারপাশ, রোগবালাই হবে নাশ’ প্রভৃতি স্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি জমে ময়লা আবর্জনা ভেসে বেড়াচ্ছে। শহরে ময়লা আবর্জনা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। গড়ে তোলা হয়নি কোনো ডাম্পিং স্টেশন। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও সাতক্ষীরা পৌরসভার সেবার মান তলানিতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাতক্ষীরা পৌরসভা বসবাসের যোগ্যতা হারাবে।

এ সময় বক্তারা ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন–নাগরিক নেতা সিদ্দিকুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট বিপ্লব হোসেন, বারসিক এর প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য হৃদয় মন্ডল, ইমতি জামিল, নুরজাহান খাতুন প্রমুখ।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বিদেশি পিস্তলসহ মাদক উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বিদেশি পিস্তলসহ মাদক উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং দুই কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)। সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের একটি আমবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রাজ মাহমুদের নেতৃত্বে বারাদী বিওপি’র একটি টহল দল সীমান্ত মেইন পিলার ৮১-এর ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কামারপাড়া গ্রামের মো. আজিম উদ্দিন মাস্টারের আমবাগানে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় আসামিবিহীন এই অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং ২ কেজি ভারতীয় গাঁজা। উদ্ধার এসব সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা (এর মধ্যে পিস্তলের মূল্য ১ লাখ টাকা, গুলির মূল্য ২০০ টাকা এবং গাঁজার মূল্য ৭ হাজার টাকা)।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রাজ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি দর্শনা থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।