উজান থেকে দলে দলে ভেসে আসছে কচুরিপানা। এতে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কচুরিপানার দাপটে উপজেলার ভাগ্যকুল বাজারের নৌরুট প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদারসহ এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মার চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ ভাগ্যকুল বাজারে আসেন। তবে ঘাট এলাকায় কচুরিপানা জমে থাকায় কোনো নৌকা বা ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চলতে পারছে না। ফলে চরাঞ্চলের মানুষকে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে বাঘড়া হয়ে ভাগ্যকূল বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, দুর্ভোগে পড়েছে নদীপারের মানুষ। প্রায় দেড় মাস ধরে এ অবস্থা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে সূত্র জানায়।
ভাগ্যকুল হাটবাজার ও ঘাটের ইজারাদার মোতালেব হোসেন আরিফ বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে একটি নৌকা কিংবা ট্রলারও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এতে ঘাটের আয় একেবারেই কমে গেছে। ১০ লাখ টাকার ইজারা নিয়ে এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।
আরিফ আরো বলেন, সম্প্রতি নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে চাল বোঝাই করে ট্রলারে ভাগ্যকূলে আসার সময় যেখানে ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে কচুরিপানা ঠেলে আসতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। এ সময় ট্রলারের একটি ইঞ্জিনও বিকল হয়ে যায়।
ভাগ্যকূল বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি আয়নাল হক বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ মাছ, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে আসতেন। কিন্তু এখন প্রায় দুই কিলোমিটার কচুরিপানা ঠেলে আসা সম্ভব নয়। তাই অনেকেই আর আসতে চান না। অনেকে বাধ্য হয়ে বাঘড়া ঘুরে বাজারে আসতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত থাকায় বাজারে ক্রেতা ও পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মুখরতা হারিয়েছে একসময়ের প্রাণচঞ্চল ভাগ্যকূল বাজার। তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী এ বাজারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মুন্সিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল দায়িত্ব নদী ও খাল খননসহ পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজ করা। কচুরিপানা অপসারণ আমাদের দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবুর রহমান বলেন, ‘কচুরিপানার এ সমস্যার বিষয়ে আমাকে আগে কেউ জানায়নি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ঘটনা সত্য হলে সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা ও পিআইওকে সঙ্গে নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’





