• ই-পেপার

জাবিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় মেধা তালিকা থেকে ভর্তি আগামী ১৬ জুন

দেশে ফিরেছেন কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে উদ্ধার ৩৭ বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ফিরেছেন কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম থেকে উদ্ধার ৩৭ বাংলাদেশি

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৭ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩৩৯) একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের একজন শাহিনুর রহমান (ছদ্মনাম) জানান, বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালচক্র তাদের অর্থের বিনিময়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেয়।

ফেরত আসা ভুক্তভোগীরা জানান, এসব কম্পাউন্ডে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এর আগে একই ভাবে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। কম্পিউটার অপারেটর, টাইপিস্ট, কল সেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের কৌশলে স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত করা হয়।

তিনি বলেন, এ কারণেই সরকার এবং ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একাধিকবার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আমরা সবাইকে সতর্ক করছি। এসব বিষয়ে বিদেশগামীসহ সবার সচেতনতা প্রয়োজন। সরকারেরও এসব দেশে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেওয়ার আগে আরো ভালো করে যাচাই-বাছাই করা উচিত। বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের চাকরি যাচাই, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং সাইবার স্ক্যাম বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করতে হবে।

উত্থাপিত বাজেট সম্পূর্ণ ‘ক্রিয়েটিভ’ : মির্জা ফখরুল

বাসস
উত্থাপিত বাজেট সম্পূর্ণ ‘ক্রিয়েটিভ’ : মির্জা ফখরুল

২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এটি একটি ক্রিয়েটিভ বাজেট।

বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবনের নিজের চেম্বারে বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ বাজেট মূলত উৎপাদনবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। এ বাজেটে যে ছাড়গুলো দেওয়া হয়েছে, যে রেয়াত দেওয়া হয়েছে, আমরা এর আগে এত বড় ছাড় দেখতে পাইনি। 

শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর ফলে অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে এবং আমরা আশা করি যে, খুব দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তার চিন্তা-ভাবনাগুলোকে নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয়ের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসে বিকেল ৩টায়। অর্থমন্ত্রী এই অধিবেশনে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। স্পিকার রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে দেশের অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পরে মাঝখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারা ঠিক সেভাবে দেশকে একটা ট্র্যাকের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি, একটা অগোছালো প্রশাসন এবং অর্থনীতির চরম দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দায়িত্ব এসে পড়েছে বিএনপি সরকারের উপরে।

তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় গঠনে সরকার কতটা আন্তরিক। একই সঙ্গে সরকার অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে চায়। এর সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে, সম্পূর্ণ একটা ক্রিয়েটিভ বাজেট বলব আমি এটাকে। এর মধ্যে কতগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যে পদক্ষেপগুলো আমরা কেউ চিন্তাও করতে পারি না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখানে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, এটা একটা বিশাল ব্যাপার এবং এতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবার প্রধান মহিলাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সেখানে ফ্যামিলি কার্ডে খরচ হবে ১ লাখ তিনশ’ ৩৮ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ এই অর্থবছরে। পরে সেটা বাড়তে থাকবে।’

‘একই ভাবে কৃষক কার্ড করা হয়েছে, প্রতি কৃষক পাবেন আড়াই হাজার টাকা করে। মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রতিমাসে সম্মানী প্রদান করা হবে, খাল খননের মধ্য দিয়ে কৃষিতে সেচের ব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, মৎস্য চাষ এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবচেয়ে বড় আমার কাছে যে জিনিসটা সেটা হলো, দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে যারা বিভিন্ন খাতে উৎপাদন করতে যাবেন, বিনিয়োগ করতে যাবেন তাদেরকে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এটা আগে কখনো দেওয়া হয়নি এবং সমস্ত কর রেয়াত দেওয়া হয়েছে এবং অন্য সব রকমের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে এবং যেখানে যেগুলো আমাদের দেশীয় উৎপাদন হয়, সেগুলোকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করার ব্যাপারে কর আরোপ করা হয়েছে অর্থাৎ প্রটেকশন পুরোপুরিভাবে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, কৃষির ক্ষেত্রেও সেটা করা হয়েছে এবং আমাদের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি যেটাকে বলছে এটা অত্যন্ত নতুন ধরনের একটা চিন্তাভাবনা। স্পোর্টস ইকোনমিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন করা হবে এবং ইন্টার স্কুল খেলা আবার চালু করা হচ্ছে।

‘একই সঙ্গে ১২ থেকে ১৪ বছরের ক্রীড়া শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদান করা হবে এবং ৬৪ জেলায় ৬৪ ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এগুলো সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা এবং একই সঙ্গে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সংস্কৃতিকে পুরোপুরিভাবে একটা ইকোনমির মধ্যে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। একটি গ্রাম একটি পণ্য উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, বুননশিল্প শীতল পাটি শতরঞ্চি সব ধরনের ক্রিয়েটিভ  পণ্য চিহ্নিত করে সেগুলোকে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লোকসংস্কৃতি, হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার প্রসারের চেষ্টা করা হবে। রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে ১৬০ একর জায়গার উপর বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করা হবে। এই জিনিসগুলো হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা। এগুলো আমাদের অর্থনীতিকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

এসএসই খাতের বিকাশে শর্তে ঋণ বিতরণ, প্রবাসী কার্ড প্রদান, হাইটেক পার্ক প্রভৃতি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখবেন যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আপনার বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারটা এখানে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে আইনের সংস্কার ও সহজীকরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে যারা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করতে আসবেন তারাও উপকৃত হবেন, যারা দেশে বিনিয়োগ করবেন তারা উপকৃত হবেন।

শিক্ষা খাতে জিডিপির  ২ শতাংশ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক ১ এ উন্নীত করার এই দুই খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য কর প্রদানে হয়রানি রোধের কথা উল্লেখ করে অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক মির্জা ফখরুল বলেন, আইনের নিয়ন্ত্রণের কারণে ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত না, সেগুলোকে তুলে দেয়া হয়েছে। এখন ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারবেন। তারা নিজেরা কর দিতে পারবেন, রিটার্ন দিতে পারবেন সহজভাবে। আমার কাছে মনে হয়েছে এগুলোকে বেশি বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘করনীতি ও কর ব্যবস্থাপনাকে পৃথকীকরণ করা হয়েছে। করদাতাদের পরিধিটাকে অনেক বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন হবে, স্বয়ংক্রিয় করের মাধ্যমে উৎেসে কর যাচাইয়ের সময় কমিয়ে আনা হবে, জনবান্ধব কর প্রশাসন গঠনের মাধ্যমে করের আওতা বৃদ্ধি করা হবে, রপ্তানি সম্ভাবনাময় সকল খাতকে কাস্টমস বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত ভাবে কাঁচামাল উপকরণ আমদানি সুবিধা প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগগুলো এই বাজেটের সবচেয়ে মূল বিষয়। আমি মনে করি যে এই বাজেট নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা যুগান্তকারী বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।’

বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে আসবে।’

নতুন পে স্কেল জুলাই থেকেই কার্যকর, কার বেতন কত?

অনলাইন ডেস্ক
নতুন পে স্কেল জুলাই থেকেই কার্যকর, কার বেতন কত?

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বরাদ্দ বাড়বে ৯৬ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ খাতের বরাদ্দ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই (২০২৬) হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল—এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়নে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো তথা পে স্কেল আগামী মাস থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

এ ছাড়া সব পর্যায়ে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণের মতো মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে নতুন বেতন কাঠামোতে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে বাড়িভাড়াসহ মূল বেতনের সঙ্গে সব ভাতা যোগ করে দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

গ্রেড ১ : ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

গ্রেড ২ : ৬৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

গ্রেড ৩ : ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

গ্রেড ৪ : ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা।

গ্রেড ৫ : ৪৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ হাজার টাকা।

গ্রেড ৬ : ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭১ হাজার টাকা।

গ্রেড ৭ : ২৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৮ হাজার টাকা।

গ্রেড ৮ : ২৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭ হাজার ২০০ টাকা।

গ্রেড ৯ : ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ১০০ টাকা।

গ্রেড ১০ : ১৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা।

গ্রেড ১১ : ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা।

গ্রেড ১২ : ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা।

গ্রেড ১৩ : ১১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা।

গ্রেড ১৪ : ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা।

গ্রেড ১৫ : ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা।

গ্রেড ১৬ : ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

গ্রেড ১৭ : ৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা।

গ্রেড ১৮ : ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার টাকা।

গ্রেড ১৯ : ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা।

গ্রেড ২০ : ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা।

ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বের সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব : দীনেশ ত্রিবেদী

অনলাইন ডেস্ক
ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বের সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব : দীনেশ ত্রিবেদী
সংগৃহীত ছবি

ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বের যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কলকাতায় নেতাজি ভবন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি। সড়কপথে বেনাপোল হয়ে শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় আসছেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমি আগেই বলেছি, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য সীমান্ত নয়, স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নও অভিন্ন। (বাংলায় তিনি বলেন) একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। আমাদের স্বপ্ন অভিন্ন। গণতন্ত্রের স্বপ্ন আমাদের সবার। তাই আমি শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কথা বলছি না; এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরো ২০ কোটি মানুষকে যোগ করছি। এই ১৬০ কোটি মানুষ, যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা—তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিশ্চিত, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর আশীর্বাদ, ভারতের মানুষের শুভ কামনা এবং বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন আমাকে সাহায্য করবে, যাতে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারি। একে অপরের মঙ্গল কামনা করার চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।’

নেতাজি ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, ‘আসলে আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি। এখান থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে আমার বাড়ি, যেখানে আমি শৈশব কাটিয়েছি। তাই নেতাজিকে ঘিরে যে আবেগ, তা নিয়ে আমরা বড় হয়েছি। আমরা যে মূল্যবোধগুলো ধারণ করেছি, তার জন্য নেতাজির প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার জন্য এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না যে দায়িত্ব নেওয়ার আগে নেতাজি ভবনে এসে তার থেকে প্রেরণা গ্রহণ করছি এবং গণতন্ত্রের সেই মূল্যবোধগুলো ধারণ করছি, যার জন্য নেতাজি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমি নেতাজির আশীর্বাদ নিয়ে এমন এক দায়িত্ব পালনে যাচ্ছি, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং এ দেশের জনগণ আমাকে দিয়েছেন।’

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীনেশ ত্রিবেদী একজন বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি একজন রাজনীতিক হয়েও হাইকমিশনার হিসেবে কূটনৈতিক দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। বিদায়ি হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জাবিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় মেধা তালিকা থেকে ভর্তি আগামী ১৬ জুন | কালের কণ্ঠ