• ই-পেপার

জিডিপির ৪.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট ঘাটতির পথে ভারত

পশ্চিম তীরে অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার-ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার-ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ
ছবি: রয়টার্স

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার, স্থাপনা ভাঙচুর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।পশ্চিম তীরের একাধিক এলাকায় একই দিনে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
 
উত্তর জর্ডান উপত্যকার আইন আল-হিলওয়েহ এলাকায় ৩৪ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক লুয়াই কাদরি দারাঘমেহকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াফা জানায়, দারাঘমেহ তখন নিজের গবাদিপশু চরাচ্ছিলেন। এ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তার পথরোধ করে। পরে তারা ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীকে ডাকে। এরপর কোনো কারণ প্রকাশ না করেই সেনারা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এদিকে পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের কাছে আওয়ার্তা সামরিক চৌকির এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেনারা গাড়িটি জব্দ করে। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেরিকোর আল-নুয়াইমাহ এলাকায় বেদুইন সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন চারটি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, আরব আল-তুরাইফাত বেদুইনদের এসব স্থাপনা সামরিক যন্ত্র ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরো কয়েকটি বসতবাড়ি এবং গবাদিপশু রাখার স্থাপনা ভেঙে ফেলার জন্য নতুন নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

হেবরনের ইয়াত্তা এলাকার খাল্লেত আল-হোমস অঞ্চলে এক ফিলিস্তিনি কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ সুসইয়া বসতি থেকে আসা সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কৃষক মাহমুদ আল-মাসরির ওপর হামলা চালায়। তিনি তখন নিজের জমিতে গম ও যব কাটার কাজ করছিলেন। হামলার সময় তার কৃষিকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হেবরনের সাইর এলাকার হামরুশ অঞ্চলেও আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা একটি পানীয় জলের কূপে অজ্ঞাত একটি পদার্থ মিশিয়ে সেটি দূষিত করে দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ ওই কূপের পানি এলাকার অনেক মানুষ ব্যবহার করে থাকেন।

বেথলেহেমের হুসান গ্রামেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেনারা গ্রামে প্রবেশ করে আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদের আশপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় বিকেলের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেনারা তাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে এবং কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদও করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার, স্থাপনা ধ্বংস এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে এবং এলাকায় উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

উ. কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ, দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
উ. কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ, দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে শুক্রবার আরো ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২৪ সালে তার বিতর্কিত সামরিক আইন জারির জন্য একটি অজুহাত তৈরির উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

বিশেষ প্রসিকিউটররা গত এপ্রিল মাসে অভিযোগ করেন, ড্রোন ব্যবহার করে ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ তৈরি করার চেষ্টা করে ইয়ুন দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। এর আগে, জাতীয় সংসদকে কার্যত অচল করার উদ্দেশ্যে সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নতুন এই রায় সেই দণ্ডের পরই এলো।

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের একজন মুখপাত্র জানান, ড্রোন-সংক্রান্ত মামলায় ইয়ুনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি রায়ের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রসিকিউটরদের মতে এই ড্রোন অভিযান উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি ড্রোনগুলো ভূপাতিত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কিত কিছু গোপন তথ্যও ফাঁস হয়ে যায়। ইয়ুন বিদ্রোহের মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তিনি সামরিক আইন ঘোষণা করেছিলেন। 

তবে তার আইনজীবীরা ড্রোন-সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযানের জন্য ইয়ুন কোনো পূর্ব নির্দেশ দেননি বা পরে অনুমোদনও দেননি। আইনজীবীদের মতে, ওই সময়ে উত্তর কোরিয়া সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আবর্জনাবাহী বেলুন পাঠাচ্ছিল। ড্রোন অভিযান ছিল তার জবাবে নেওয়া আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ পদক্ষেপ। এর সঙ্গে সামরিক আইন ঘোষণার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা প্রসিকিউশনের অভিযোগকে ‘অনুমানভিত্তিক ও মিথ্যা গল্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

দুই কোরিয়ার মধ্যে ড্রোন উড্ডয়ন দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার অন্যতম কারণ। কারণ, দুই দেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেনি।

এ বছরের শুরুতে এক তদন্তে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা জানুয়ারিতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়েছিলেন। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং প্রেসিডেন্ট লি-এর মন্তব্যকে ‘বিচক্ষণ আচরণ’ বলে স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া আবারও দক্ষিণ কোরিয়াকে তার সবচেয়ে বৈরী শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করায় দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
 

সমুচা কিনতে না পারা সেই বস্তির ছেলেটি এখন ২০ হাজার কোটির মালিক

অনলাইন ডেস্ক
সমুচা কিনতে না পারা সেই বস্তির ছেলেটি এখন ২০ হাজার কোটির মালিক
সংগৃহীত ছবি

শৈশব কেটেছে মুম্বাইয়ের বস্তিতে। স্কুলের ক্যান্টিনে সমুচা কেনার টাকাও ছিল না, সেই বস্তির ছেলে রিজওয়ান সাজান আজ দুবাইভিত্তিক নির্মাণসামগ্রী ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ড্যানিউব গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। তার দুবাইয়ে রয়েছে ৪০ হাজার বর্গফুটের এক প্রাসাদ। সেখানে আছে বিশাল ফোয়ারা, ব্যক্তিগত সিনেমা হল, ক্যাসিনো-স্টাইল গেমিং লাউঞ্জ, সুইমিংপুল, স্পা, এমনকি ঘরের ভেতর খাবার ওঠানামার জন্য আলাদা লিফট। 

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রিয়ালিটি সিরিজ ‘দুবাই ব্লিং’-এ উপস্থিতির পর নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন রিজওয়ান সাজান। কিন্তু ক্যামেরার ঝলকানি, বিলাসবহুল জীবন আর হাজার কোটি টাকার সম্পদের আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগ্রাম, ঝুঁকি আর অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়ের এক গল্প।

রিজওয়ান সাজানের জন্ম মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার এলাকায় এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল নড়বড়ে। বাবা কষ্ট করে কনভেন্ট স্কুলের ফি দিতেন। মাসে হাতখরচ হিসেবে পেতেন মাত্র ১৫ রুপি। স্কুলের ক্যানটিনে সহপাঠীদের খাবার খেতে দেখতেন। কিন্তু নিজের পকেটে টাকা থাকত না। এই ছোট্ট অপমানই একদিন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পরে এক সাক্ষাৎকারে রিজওয়ান সাজান বলেছিলেন, ‘বন্ধুরা যখন ক্যানটিনে খেত, আমি দূর থেকে দেখতাম। খুব খারাপ লাগত। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, নিজের টাকা নিজেই আয় করব।’ মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি প্রথম ব্যবসা শুরু করেন।

বাবার কাছ থেকে এক হাজার রুপি ধার নেন ব্যবসা শুরু করার জন্য। সেই টাকা দিয়ে মুম্বাইয়ের পাইকারি বাজার থেকে স্কুলের বই কিনে মৌসুমে বিক্রি করা শুরু করেন। হিসাব ছিল, ৭৫ রুপি লাভ হলেই রিজওয়ান খুশি। কিন্তু মৌসুম শেষে লাভ দাঁড়ায় ২০০ রুপি। আজকের দিনে ২০০ রুপি তেমন কিছু নয়। কিন্তু তখন সেই অর্থ রিজওয়ান সাজানের কাছে ছিল বিশাল সম্পদ। মজার ব্যাপার হলো, প্রথম লাভের টাকা দিয়ে তিনি নিজের জন্য নয়, বন্ধুদের জন্য সমুচা কিনেছিলেন। যে সমুচা খাওয়ার জন্য ব্যবসা শুরু, সেই সমুচাই যেন হয়ে উঠেছিল তার প্রথম সাফল্যের প্রতীক।

১৮ বছর বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে। মারা যান রিজওয়ান সাজানের বাবা। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। তখন কাজের খোঁজে পাড়ি জমান কুয়েতে। সেখানে মাসে ১৮ হাজার রুপি বেতনের চাকরি পান। যে ছেলেটি কয়েক বছর আগেও ১৫ রুপির হাতখরচে চলত, তাঁর কাছে এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক অঙ্ক। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য আরো বড় পরীক্ষা জমিয়ে রেখেছিল।

কুয়েত অধ্যায়ের পর রিজওয়ান পাড়ি জমান দুবাইয়ে। তখন রিজওয়ানের সঞ্চয় ছিল প্রায় এক লাখ দিরহাম। এই অর্থও খুব পরিকল্পনা করে ভাগ করেছিলেন। স্ত্রীর হাতে সংসার চালানোর জন্য কিছু অর্থ দেন। একটি ছোট অফিস নেন। গাড়ি কেনেন কিস্তিতে। ব্যবসার লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য আলাদা তহবিল রাখেন। নিজেকে সময় দিয়েছিলেন মাত্র তিন মাস। প্রথম মাসে আয় হয় ৫ হাজার দিরহাম। দ্বিতীয় মাসে ১০ হাজার। তৃতীয় মাসে ২০ হাজার। তখনই বুঝেছিলেন, তার ব্যবসা সঠিক পথে এগোচ্ছে।

ধীরে ধীরে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ড্যানিউব গ্রুপ। আজ মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণশিল্পে অন্যতম পরিচিত নাম এই প্রতিষ্ঠান। বিল্ডিং ম্যাটারিয়াল, হোম ইন্টেরিয়র, রিয়েল এস্টেট—বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে ব্যবসা। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। রিজওয়ানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি। তবে তার ভাষায়, ‘আমাকে কখনো টাকা অনুপ্রাণিত করেনি। কাজই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। টাকা শুধু সেই কাজের ফল।’

বিলাসবহুল জীবনযাপন করেও ভুলে যাননি অতীতকে। রিজওয়ানের সবচেয়ে আলোচিত উক্তিগুলোর একটি হলো—‘আমি বস্তিতে জন্মেছি। পরে চাওলে থেকেছি। আজ ৪০ হাজার বর্গফুটের বাড়িতে থাকি। কিন্তু আমাকে যদি আফ্রিকার কোনো জঙ্গলে কিছু না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, আমি আবারও নিজেকে গড়ে তুলতে পারব।’ এই আত্মবিশ্বাসই তার সাফল্যের মূল রহস্য। কারণ, তিনি জানেন, সম্পদ হারানো যায়; কিন্তু অভিজ্ঞতা, সাহস আর উদ্যোগ হারায় না।

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইলন মাস্ক

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইলন মাস্ক
ছবি: রয়টার্স

স্বপ্নের প্রকল্প স্পেসএক্স ইলন মাস্ককে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনিয়ার হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছে। স্পেসএক্স নিউইয়র্কের শেয়ারবাজার নাসডাক-এ তালিকাভূক্ত হয়েছে। নিছক তালিকাভূক্তি নয়, স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে এসেছে সর্বকালের সবচেয়ে বড় আইপিও'র মাধ্যমে। 

প্রতিটি ১৩৫ ডলার মূল্যে ৫৫৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেয়ার ছেড়ে স্পেসএক্স সংগ্রহ করেছে ৭৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে সবচেয়ে বড় আইপিওর রেকর্ড ছিল সৌদি আরামকোর। ২০১৯ সালে সৌদি আরামকো ২৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। বৃহস্পতিবার স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে তাদের তালিকাভূক্তির খবর জানানো হয়। রেকর্ডভাঙ্গা এই আইপিওর মাধ্যমে স্পেসএক্স পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক কোম্পানিতে। আর এর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনিয়ার হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।  

স্পেসএক্সের আইপিও প্রক্রিয়ায় মাস্কের নিট সম্পদ ২৭৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৯৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌছেছে। মাস্ক পৌছাতে না পারলেও তার কোম্পানি অনেক আগেই ট্রিলিয়ন ডলারের ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গেছে। নাসডাকে তালিকাভূক্তির পর স্পেসএক্সের বাজার মূল্য দাড়িয়েছে ১ দশমিক ৮ ট্রিলয়ন ডলার। 

ইলন মাস্ক এমনিতেই আমেরিকানদের স্বপ্ন দেখান। তার নানা উদ্যোগ নিয়ে সাধারন মানুষের কৌতুহলের অন্ত নেই। তাই তো স্পেসএক্সের তালিকাভূক্তির খবরে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইপিওতে আগ্রহীর সংখ্যা ছিল চার গুন। এই আগ্রহ বজায় থাকলে ইলন মাস্ক আজই ট্রিলিওনিয়র বনে যেতে পারেন। আজ শুক্রবার নাসডাকে লেনদেনে যদি স্পেসএক্স দারুণ কোনো পারফরম্যান্স করে, তবে ইলন মাস্কের নিট সম্পদ ৩০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে এক ট্রিলিয়নে পৌছে যেতে পারে। তবে কোনো কারণে আজ না হলেও মাস্কের ট্রিলিওনিয়ার হওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র। আজ না হয় কাল বা পরশু ইলন মাস্কই প্রথম এই চূড়ায় উঠবেন। একজন ব্যক্তিকে ট্রিলিওনিয়ার হতে দেখাটাও দারুণ উত্তেজনার। ট্রিলিয়ন ডলার। মাস্ক চাইলে গোটা বাংলাদেশকে দুইবার কিনতে পারবেন!