অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার, স্থাপনা ভাঙচুর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।পশ্চিম তীরের একাধিক এলাকায় একই দিনে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
উত্তর জর্ডান উপত্যকার আইন আল-হিলওয়েহ এলাকায় ৩৪ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক লুয়াই কাদরি দারাঘমেহকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াফা জানায়, দারাঘমেহ তখন নিজের গবাদিপশু চরাচ্ছিলেন। এ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তার পথরোধ করে। পরে তারা ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীকে ডাকে। এরপর কোনো কারণ প্রকাশ না করেই সেনারা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
এদিকে পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের কাছে আওয়ার্তা সামরিক চৌকির এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেনারা গাড়িটি জব্দ করে। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেরিকোর আল-নুয়াইমাহ এলাকায় বেদুইন সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন চারটি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, আরব আল-তুরাইফাত বেদুইনদের এসব স্থাপনা সামরিক যন্ত্র ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরো কয়েকটি বসতবাড়ি এবং গবাদিপশু রাখার স্থাপনা ভেঙে ফেলার জন্য নতুন নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
হেবরনের ইয়াত্তা এলাকার খাল্লেত আল-হোমস অঞ্চলে এক ফিলিস্তিনি কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ সুসইয়া বসতি থেকে আসা সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কৃষক মাহমুদ আল-মাসরির ওপর হামলা চালায়। তিনি তখন নিজের জমিতে গম ও যব কাটার কাজ করছিলেন। হামলার সময় তার কৃষিকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হেবরনের সাইর এলাকার হামরুশ অঞ্চলেও আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা একটি পানীয় জলের কূপে অজ্ঞাত একটি পদার্থ মিশিয়ে সেটি দূষিত করে দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ ওই কূপের পানি এলাকার অনেক মানুষ ব্যবহার করে থাকেন।
বেথলেহেমের হুসান গ্রামেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেনারা গ্রামে প্রবেশ করে আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদের আশপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় বিকেলের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেনারা তাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে এবং কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদও করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার, স্থাপনা ধ্বংস এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে এবং এলাকায় উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলছে।





