অবশেষে জানা গেল কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত সেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৫২)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার পূর্ব সাগরদী গ্রামের মৃত ওয়ালীউল্লাহর ছেলে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ‘লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ’র অনলাইন সংস্করণে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে লাকসাম রেলওয়ে থানায় (জিআরপি) এসে নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম মরদেহটি তাঁর স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।
লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগেরদিন শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনার সময় তার পরনে নীল রংয়ের হাফপ্যান্ট, লাল-সাদা রঙের টি-শার্ট এবং নীল রঙের কাপড়ের জুতা ছিল। তাৎক্ষণিক নিহতের পরিচয় না পাওয়ায় তাঁকে অজ্ঞাত হিসেবে রেলওয়ে থানায় রাখা হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে রফিকুল ইসলাম ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তিনি অনেক সময় একাকি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। ফলে পরিবারের লোকজন তাকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে দরজা আটকিয়ে দিতেন। কিন্তু ঘটনার দিন ভুলক্রমে ঘরের দরজা লাগাতে পরিবারের লোকজন ভুলে য়ায়। তিনি কোনো এক ফাঁকে সবার অলক্ষ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পয়নি। পরবর্তীতে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে কাটা পড়ে ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন এবং লাকসাম রেলওয়ে থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।
লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার জানান, গতকাল রবিবার আইনি প্রক্রিয়ার পর ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




