আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে চাই?
আইইউবিএটি দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৯১ সালে অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর স্বপ্ন ছিল—সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত একজন পেশাদার গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে। আমরা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন, প্রযুক্তি-সমন্বিত ও বাস্তবমুখী শিক্ষা প্রদানে জোর দিচ্ছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায়
৯ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমরা কৃষি, প্রকৌশল, ব্যবসা, স্বাস্থ্য, কম্পিউটার বিজ্ঞান—বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি দিচ্ছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও কাজ করছে। সফলতার গল্প বলতে গেলে বলব—আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, মাইক্রোসফটসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। কৃষি বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা দেশের গ্রামীণ উন্নয়নে অবদান রাখছে।
মানের দিক দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতখানি এগিয়েছে?
প্রথম দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল, মান নিয়ে সন্দেহ ছিল। তবে বর্তমানে মানোন্নয়নে আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতিতে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন পাচ্ছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম করছে। গবেষণার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আগে গবেষণার সংস্কৃতি ছিল দুর্বল, কিন্তু এখন অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে নিয়মিত প্রবন্ধ প্রকাশ করছে। বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ—এসব ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবদান চোখে পড়ার মতো।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য কেমন?
অবশ্যই কিছু পার্থক্য আছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা ও গবেষণার তহবিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, প্রযুক্তি ব্যবহারে বেশি অগ্রসর এবং শিক্ষার্থীদের সেবাদানে তুলনামূলকভাবে বেশি যত্নবান। অন্যদিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ও রিসোর্স এখনো মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। তবে আমি মনে করি, এই দুই ধারার মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন জায়গায় আরো উন্নতির প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
প্রথমত, গবেষণায় আরো বিনিয়োগ দরকার। এখনো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নকে আরো জোরদার করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি। যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শিল্পক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা শেষ করে সরাসরি কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে, সে জন্য ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা বাড়াতে হবে।
আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়গুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং কেন?
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় কৃষিবিজ্ঞান, কম্পিউটারবিজ্ঞান এবং ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে। কৃষিবিজ্ঞান জনপ্রিয়, কারণ এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে। কম্পিউটারবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়, কারণ আইটি খাত এখন সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান সেক্টর। ব্যবসা প্রশাসন জনপ্রিয়, কারণ শিক্ষার্থীরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে।
আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে শিক্ষার্থীরা চাকরিক্ষেত্রে কেমন করছে?
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা বেশ সফল। তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা—এসব খাতে তারা ভালো করছে। আমাদের ৮০ শতাংশের বেশি গ্র্যাজুয়েট চাকরি পাচ্ছে পড়াশোনা শেষ করার এক বছরের মধ্যে। অনেকে আবার উদ্যোক্তা হয়েছে। যেমন—আমাদের হোটেল ম্যানেজমেন্টের এক শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকায় নিজস্ব রেস্তোরাঁ চালাচ্ছে, আরেকজন কৃষি স্নাতক নিজ গ্রামে জৈব কৃষি খামার গড়ে তুলেছে। এভাবে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিজীবী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও সামনে আসছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?
আমরা চাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি আরো সহায়ক ভূমিকা নিক। বিশেষ করে গবেষণা ফান্ড বরাদ্দ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এসব ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা দরকার। এ ছাড়া আইন ও নীতিমালা প্রয়োগে সমতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ে সমান সুযোগ পায়।




মান ও গবেষণার দিক থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতখানি এগিয়েছে
শিক্ষার মান ও গবেষণার দিক থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতখানি এগিয়েছে?