• ই-পেপার

আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে কর্মক্ষেত্রে ভালো করছে

  • এইচ এম আতিফ ওয়াফিক, সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন; অতিরিক্ত পরিচালক, ব্র্যান্ড ও যোগাযোগ; অতিরিক্ত পরিচালক, অ্যাকসেস ও অন্তর্ভুক্তি; উপদেষ্টা, ছাত্র কল্যাণ; ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বিইউএফটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বিইউএফটি

দেশের রপ্তানি আয়ের মূল স্তম্ভ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই শিল্পে। এই খাতের টেকসই অগ্রযাত্রা নির্ভর করে দক্ষ, প্রযুক্তিসচেতন ও সৃজনশীল পেশাজীবীর ওপর। এই চাহিদা পূরণে ১৯৯৯ সাল থেকে যাত্রা শুরু করেছে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রথমে বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইএফটি) নামে পরিচিত ছিল। পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায় ২০১২ সালে। দেশের একমাত্র বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেক্সটাইল, ফ্যাশন, বিজনেস ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বিশেষায়িত হয়ে ওঠে বিইউএফটি।

প্রোগ্রামের বৈচিত্র্য : শিল্পের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে ১৩টিরও বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে বিইউএফটিতে। এর মধ্যে আছে—টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন ডিজাইন, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, মার্চেন্ডাইজিং, পরিবেশবিজ্ঞান, ইংরেজি এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দ্রুত কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে থাকছে স্বল্পমেয়াদি পেশাদার কোর্স।

আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তি : ঢাকার উত্তরায় ছয় একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা বিইউএফটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে আছে ৭২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ৫৩টি ল্যাব, অত্যাধুনিক ক্যাড স্টুডিও, ফ্যাশন প্রোডাকশন স্টুডিও, সুইমিং পুল, স্পোর্টস ফ্যাসিলিটি ও ওয়াইফাই সুবিধা। হাতে-কলমে শেখার সুযোগ ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আধুনিক এই অবকাঠামো।

শিল্পসংযোগ ও বাস্তাব অভিজ্ঞতা : বিইউএফটির অন্যতম শক্তি হলো সরাসরি শিল্পসংযোগ। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভিজিট, ইন্টার্নশিপ, প্রজেক্ট ও সেমিনারের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও কাজের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা।

আন্তর্জাতিক অংশীদারি ও গবেষণা : বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিইউএফটির সমঝোতা স্মারক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইএফএইচটিটিআই, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট (যুক্তরাজ্য) এবং এসিইউর মতো সংস্থার সদস্য। স্মার্ট ২০২০, নুফিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিইউএফটি গবেষণা ও উদ্ভাবনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

সহশিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী উন্নয়ন : বিইউএফটিতে রয়েছে ২২টি স্টুডেন্ট ক্লাব। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক আয়োজন, প্রযুক্তি, ভাষা, সামাজিক সেবা ও নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে এসব ক্লাব। এগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা : মুক্তিযোদ্ধা কোটা, মেধাভিত্তিক ও প্রয়োজনভিত্তিক মোট ১৬ ধরনের বৃত্তি কিংবা ফি মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক পটভূমির শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করছে বিইউএফটি।

প্রযুক্তি সক্ষমতা ও অনলাইন শিক্ষা : কভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছিল বিইউএফটি। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ।

সাফল্যের ধারাবাহিকতা : বিইউএফটির স্নাতক শিক্ষার্থীরা সাধারণত পড়াশোনা শেষ করার আগেই চাকরির প্রস্তাব পান। স্নাতক শেষ করার ছয় মাসের মধ্যে বেশির ভাগ কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন। অনেকের মতে, এটি পাঠ্যক্রমের শিল্পসম্মত নকশা ও ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণের সফলতার প্রমাণ। বিইউএফটির স্নাতকধারীরা এইচঅ্যান্ডএম, জারা, এমঅ্যান্ডএস, ওয়ালমার্টসহ বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ডে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া সফল উদ্যোক্তা হয়েও অনেকে নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন।

উপসংহার : টেক্সটাইল, ফ্যাশন ও অ্যাপারেল খাতে যাঁরা ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী, তাঁদের জন্য বিইউএফটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান, দক্ষতা এবং কর্মজীবনের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম শক্তি

অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, উপাচার্য, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি)

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম শক্তি

আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে চাই?

আইইউবিএটি দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৯১ সালে অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর স্বপ্ন ছিল—সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত একজন পেশাদার গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে। আমরা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন, প্রযুক্তি-সমন্বিত ও বাস্তবমুখী শিক্ষা প্রদানে জোর দিচ্ছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম শক্তি৯ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমরা কৃষি, প্রকৌশল, ব্যবসা, স্বাস্থ্য, কম্পিউটার বিজ্ঞান—বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি দিচ্ছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও কাজ করছে। সফলতার গল্প বলতে গেলে বলব—আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, মাইক্রোসফটসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। কৃষি বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা দেশের গ্রামীণ উন্নয়নে অবদান রাখছে।

 

মানের দিক দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতখানি এগিয়েছে?

প্রথম দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল, মান নিয়ে সন্দেহ ছিল। তবে বর্তমানে মানোন্নয়নে আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতিতে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন পাচ্ছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম করছে। গবেষণার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আগে গবেষণার সংস্কৃতি ছিল দুর্বল, কিন্তু এখন অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে নিয়মিত প্রবন্ধ প্রকাশ করছে। বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ—এসব ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবদান চোখে পড়ার মতো।

 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য কেমন?

অবশ্যই কিছু পার্থক্য আছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা ও গবেষণার তহবিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, প্রযুক্তি ব্যবহারে বেশি অগ্রসর এবং শিক্ষার্থীদের সেবাদানে তুলনামূলকভাবে বেশি যত্নবান। অন্যদিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ও রিসোর্স এখনো মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। তবে আমি মনে করি, এই দুই ধারার মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন জায়গায় আরো উন্নতির প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

প্রথমত, গবেষণায় আরো বিনিয়োগ দরকার। এখনো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নকে আরো জোরদার করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি। যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শিল্পক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা শেষ করে সরাসরি কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে, সে জন্য ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা বাড়াতে হবে।

 

আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়গুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং কেন?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় কৃষিবিজ্ঞান, কম্পিউটারবিজ্ঞান এবং ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে। কৃষিবিজ্ঞান জনপ্রিয়, কারণ এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে। কম্পিউটারবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়, কারণ আইটি খাত এখন সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান সেক্টর। ব্যবসা প্রশাসন জনপ্রিয়, কারণ শিক্ষার্থীরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে।

 

আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে শিক্ষার্থীরা চাকরিক্ষেত্রে কেমন করছে?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা বেশ সফল। তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা—এসব খাতে তারা ভালো করছে। আমাদের ৮০ শতাংশের বেশি গ্র্যাজুয়েট চাকরি পাচ্ছে পড়াশোনা শেষ করার এক বছরের মধ্যে। অনেকে আবার উদ্যোক্তা হয়েছে। যেমন—আমাদের হোটেল ম্যানেজমেন্টের এক শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকায় নিজস্ব রেস্তোরাঁ চালাচ্ছে, আরেকজন কৃষি স্নাতক নিজ গ্রামে জৈব কৃষি খামার গড়ে তুলেছে। এভাবে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিজীবী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও সামনে আসছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?

আমরা চাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি আরো সহায়ক ভূমিকা নিক। বিশেষ করে গবেষণা ফান্ড বরাদ্দ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এসব ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা দরকার। এ ছাড়া আইন ও নীতিমালা প্রয়োগে সমতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ে সমান সুযোগ পায়।

 

শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের ফলে শিক্ষার্থীদের আস্থায় সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের ফলে শিক্ষার্থীদের আস্থায় সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি

সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক স্বীকৃত। অল্প সময়েই এটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করেছে।

ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস ঢাকার খিলগাঁওয়ের দাসেরকান্দি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। ২০২৫ সালের ৩ মে এই ক্যাম্পাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভুঁইয়া, ইউনিভার্সিটির উপদেষ্টা আজিজুল বারী শিপু, উপাচার্য প্রফেসর শামীম আরা হাসান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম এবং ব্যবসায় অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. আল আমিন মোল্লা।

সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, বিজনেস এবং কলা ও মানবিক—এই তিনটি অনুষদের অধীনে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি, নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন বিভাগ, বাংলা বিভাগ এবং জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ প্রোগ্রাম।

এ ছাড়া স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রয়েছে মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, রেগুলার মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, টেক্সটাইল ও ফ্যাশন মার্কেটিং, ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট এবং আইন বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম।

শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আধুনিক লাইব্রেরি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র (সিআরটিসি), ই-লার্নিং সুবিধা এবং ২০টির বেশি বাস সার্ভিস। আধুনিক এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সিস্টেমের মাধ্যমে ভর্তি, ক্লাস ও ফলাফল দেখা যায়। মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি পেয়ে থাকে। এ ছাড়া ক্যারিয়ার গাইডেন্স, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন ক্লাব পরিচালিত হয়।

 

প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন

অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান, উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ,প্রাইম ইউনিভার্সিটি

প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন

গত প্রায় তিন যুগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতখানি সফল বলে আপনি মনে করেন?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ যাত্রাপথে সফলতা ও ব্যর্থতা উভয়ই আছে। ব্যর্থতার কারণ মূলত লক্ষ্যবহীন আমাদের জাতীয় শিক্ষা পদ্ধতি। জাতীয় শিক্ষানীতির যদি সুনির্দিষ্ট ভিশন বা লক্ষ্য থাকত, তাহলে

আমার মনে হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদ্যমান ব্যর্থতার দায়ভার বহন করতে হতো না।

 

প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেনমান ও গবেষণার দিক থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কতখানি এগিয়েছে?

মানের দিক থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই উন্নতি করেছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বের সঙ্গে গবেষণা সম্পৃক্ত, তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

 

দীর্ঘ সময় পরেও আপনি কি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পার্থক্য দেখেন?

জি, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্যাম্পাসের আয়তন, আবাসিক সুবিধা, আর্থিক সচ্ছলতা, মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, গবেষণার মান, যোগ্য শিক্ষক—এমন অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ; শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবসর ভাতা; শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে রয়েছে পার্থক্য ও মনস্তাত্ত্ব্বিক বৈষম্য। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় গবেষণাগারের ক্ষেত্রেও রয়েছে পার্থক্য।

 

আপনার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে চাই। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতার গল্প শুনতে চাই।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষক রয়েছেন। রয়েছে শিক্ষার্থীবান্ধব গবেষণাগার, সন্তোষজনকসংখ্যক গ্রন্থসহ গ্রন্থাগার, যুগোপযোগী শ্রেণিকক্ষ। বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে গবেষণাকর্মের জন্য। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার জন্য আমরা সব সময় সচেষ্ট।

সেমিনার, বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা আয়োজনসহ শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় মোটিভেশনাল কর্মকাণ্ড। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা বিষয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, প্রাইম ইউনিভার্সিটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্নাতক ডিগ্রিধারী সরকারি, বেসরকারি করপোরেট সেক্টরে মর্যাদাসম্পন্ন পদে কর্মরত আছেন। আমাদের স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায়ও ভালো করছে শিক্ষার্থীরা।

 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন জায়গায় আরো উন্নতির প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

আর্থিক সচ্ছলতা, মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর ভাতা নিশ্চিতকরণ, মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি, পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবান্ধব করা, অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

 

আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়গুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি এবং কেন?

প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে সিএসই, ব্যবসায় প্রশাসন, আইনশাস্ত্র, ইংরেজি, ইইই, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলা ও শিক্ষা বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ রয়েছে।

 

আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে শিক্ষার্থীরা চাকরিক্ষেত্রে কেমন করছে?

প্রাইম ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা চাকরিক্ষেত্রে খুবই ভালো করছে।

 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সর্বশেষ মূল্যায়ন যদি বলেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছ থেকে আপনারা আর কী ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। জাতীয় শিক্ষানীতির সুনির্দিষ্ট ভিশন ঠিক হলে বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতোই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভূমিকা রাখতে সক্ষম

হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছ থেকে আমরা অধিকতর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বান্ধব ভূমিকা প্রত্যাশা করি; একদমই গতানুগতিক কার্যক্রম নয়। গবেষণাকাজের জন্য বাৎসরিক সন্তোষজনক বরাদ্দ, গ্রন্থাগারে বাৎসরিক ভিত্তিতে চাহিদা মোতাবেক বই সরবরাহ, গরিব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, ঢাকা মহানগরের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি জমি বরাদ্দকরণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোতাবেক বিভাগ/বিষয় পাঠদানের জন্য কালক্ষেপণবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

 

 

আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে কর্মক্ষেত্রে ভালো করছে | কালের কণ্ঠ