kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

গেম

কোনো এক ভবিষ্যতের গল্প

সালাম মোহাম্মদ   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোনো এক ভবিষ্যতের গল্প

মািনুষ নতুন এক হরমোন আবিষ্কারের মাধ্যমে মস্তিষ্কের সাইয়োনিক শক্তি ব্যবহার করা শুরু করেছে, তেমনই এক ভবিষ্যতের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে গেম ‘স্কারলেট নেক্সাস’। এর নির্মাতা বান্ডাই নামকো গেমটির ঘরানা বলছে ‘ব্রেইন পাঙ্ক’, সাইবারপাঙ্কের মতোই এক ডিস্টোপিয়ান ভবিষ্যতের কাহিনি। যে সময়ে শুধু প্রযুক্তির বদলে মানুষের ক্ষমতার উৎস তার নিজের মস্তিষ্ক।

সাইয়োনিক ক্ষমতার মধ্যে পড়ে চিন্তার মাধ্যমে বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা, অন্য প্রাণীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিশেষ টেলিপ্যাথি হামলার শক্তিও, ফলে মানুষ হয়ে ওঠে সব ধরনের প্রাণী ও প্রাকৃতিক শক্তির সামনে অপ্রতিরোধ্য। এই অসীম ক্ষমতায় আকৃষ্ট হয়ে পৃথিবীতে হামলা শুরু করে সাইয়োনিক শক্তিধারী মস্তিষ্ক সংগ্রহকারী এক শক্তি, যার নাম ‘দ্য আদার’। অত্যন্ত শক্তিশালী এই মিউট্যান্ট প্রাণীকে সাধারণ কোনো অস্ত্রের মাধ্যমে দমন করা সম্ভব না হওয়ায় সব মানুষের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য তৈরি করা হয় ‘আদার সাপ্রেশন ফোর্স’ বা ‘ওএসএফ’, যেখানে পুরো বিশ্ব থেকে সবচেয়ে ক্ষমতাবান সব সাইয়োনিক শক্তিসম্পন্ন শিশুকে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সুপারসোলজার তৈরির জন্য। এদের কাজ আদারের বিরুদ্ধে লড়াই করে দুনিয়া রক্ষা করা।

গেমের শুরুতে দুটি চরিত্রের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। চরিত্রের ওপর নির্ভর করে গেমের কাহিনি বদলে যাবে পুরোটাই, সঙ্গে গেমপ্লের ধরনের পার্থক্য তো আছেই। দুটি চরিত্রই ওএসএফের সদস্য। কিন্তু তাদের চালচলন-চিন্তাভাবনা সম্পূর্ণ আলাদা। গেমটি তৈরি করা হয়েছে অন্তত দুইবার খেলার জন্য, যাতে দুটি চরিত্রের অভিজ্ঞতা থেকে পুরো কাহিনিটি জানা যায়। সঙ্গে আছে আরো কয়েকটি সঙ্গী চরিত্র, যাদের কাজ মূল চরিত্রকে তাদের নিজস্ব ক্ষমতা দিয়ে সাহায্য করা।

গেমপ্লে দুই ভাগে বিভক্ত বলা যায়—অ্যাকশন মিশন এবং চরিত্রদের মধ্যে বন্ডিং। প্রতিটি মিশনের শেষে সবাই তাদের মূল বেইসে ফিরে যাবে, সে সময় তারা একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাবে এবং ঘটনাবলি আলোচনা করবে। গেমের কাহিনি এই বন্ডিংয়ের সময়ই এগিয়ে যাবে। কারণ অ্যাকশনের সময় কোনো প্রকার নতুন তথ্য বা ঘটনাবলি গেমারের সামনে পড়বেই না। অ্যাকশনের অংশগুলো চমৎকার কিন্তু একঘেয়ে, প্রতিটা মিশনের কাজই বলা যায় শুরু থেকে শেষে যাওয়া আর মাঝখানের সব শক্র পরাস্ত করা। ঘুরে বেড়ানো বা কোনো প্রকার নিজ পছন্দ বা মিশনে বৈচিত্র্য নেই।

উল্টো বন্ডিং অংশগুলোই মনে রাখার মতো। প্রতিটি চরিত্রের মধ্যকার সম্পর্ক, কথোপকথন, গেমের কাহিনি নিয়ে প্রশ্নোত্তর—প্রতিটি অংশই মনে রাখার মতো। বিশেষ করে গেমারের চরিত্রের সঙ্গে অন্যদের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই নতুন সব ক্ষমতা পাওয়া যাবে, যা গেমে সামনে এগোনোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রাফিকসের দিক থেকে স্কারলেট নেক্সাস একটু অন্য রকম। বাস্তবসম্মত ডিটেইলসে ভরা উচ্চমানের গ্রাফিকসের বদলে বান্ডাই নামকো বেছে নিয়েছে সাইবারপাঙ্ক অ্যানিমে ঘরানার আর্ট স্টাইল। ভবিষ্যতের সাই-ফাই জাপানকে পটভূমি করে তৈরি করা হয়েছে গেমটি, যার সঙ্গে অ্যানিমে স্টাইল চমৎকার মানিয়ে গেছে। বোনাস সুবিধা হিসেবে গেমটি চালাতে খুব শক্তিশালী পিসির প্রয়োজন হবে না।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত উইন্ডোজ ১০ ৬৪বিট

ইন্টেল কোর আই৫ ৩৪৭০ প্রসেসর বা সমমানের এএমডি

৬ গিগাবাইট র‌্যাম

এনভিডিয়া জিটিএক্স ৭৬০ বা এএমডি এইচডি ৭৯৭০ জিপিউ

৫০ গিগাবাইট জায়গা

 

বয়স

খেলতে পারবে কিশোর বয়সীরা



সাতদিনের সেরা