এবার বিশ্বকাপে বেশ কিছু বিস্ময়কর ঘটনা ঘটতে দেখেছি আমরা। আমার কাছে মনে হয়, এবার ৪৮ দল খেলার কারণেই এমনটি হয়েছে। কেপ ভার্দের মতো দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে, যা প্রমাণ করে ছোট দলগুলোও বড় দলগুলোকে পরীক্ষায় ফেলতে সক্ষম। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে চিরচেনা দলগুলোকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, আবার একটি চমক-জাগানো দলও কিন্তু আছে, যারা কল্পনায়ও ছিল না কারো। তা আমরা নরওয়ের ক্ষেত্রেই দেখতে পাচ্ছি। দেশটি এবার দুর্দান্ত ফুটবল খেলে এই জায়গায় (কোয়ার্টার ফাইনালে) এসেছে যে এর সঙ্গে ১৯৯০ দশকের ক্রোয়েশিয়ার মিল খুঁজেই নিতে পারেন আপনি।
নরওয়ে দলটির মধ্যে এতটাই তাড়না, প্রতিভা এবং গুণগত মান রয়েছে যে তারা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে আজকের ক্রোয়েশিয়ার মতো একটি বিশ্বসেরা শক্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। আমি এখনকার নরওয়ে দলের মধ্যে সেই মিলগুলোই দেখতে পাচ্ছি, কারণ এটি শুধু (আর্লিং) হালান্ড বা (মার্টিন) ওডেগার্ডকে নিয়ে নয়, এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু। তাদের দলের গভীরতা অনেক এবং দেশটি অত্যন্ত লক্ষ্য-চালিত, তাই শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদ তৈরির জন্য তাদের এক ধরনের দারুণ ইতিবাচক মানসিকতা রয়েছে। তেমন কিছু না করতে পারলেও সব সময়ই সব প্রতিপক্ষের কাছে অনেক সমীহ আদায় করেছে মিসর। মরক্কো গতবার যেমনটি করেছিল (২০২২ বিশ্বকাপে), এবারও ধারাবাহিকতা রেখেছে। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে তাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, যা অনেক বড় একটি বিষয়।
এই মাত্রার একটি টুর্নামেন্টে আয়োজক দেশগুলো যদি অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে, তবে তা বড় ধরনের সাহায্য করে খেলার প্রসারে। তারা সবাই নক আউট পর্বে উঠেছে, এটি খুবই ভালো ব্যাপার। আপনি যদি আফ্রিকার মতো একটি অঞ্চল থেকে পার হয়ে আসেন, তবে আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো দল হতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা উপহার দিয়েছে অনেক চমকপ্রদ মুহূর্তের। আফ্রিকার দলগুলো চমৎকার ফুটবল খেলেছে এবং এটিই চলতি বিশ্বকাপের গল্পের একটি অংশ। তারা এমন সব দল, যারা একদিন বড় শক্তিতে পরিণত হবে, যাদের আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দলের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই টুর্নামেন্টে আপনারা দেখবেন মেসি, মডরিচ, রোনালদো, মেসি ও নয়ারের মতো অভিজ্ঞদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এর পাশাপাশি একেবারেই কম বয়সী লামিন ইয়ামাল, জুড বেলিংহামদের মতো তারকারা আলো ছড়িয়েছে। এই তরুণদের সামনে পড়ে থাকা ১৫ থেকে ২০ বছরের ক্যারিয়ারের জন্য এটি দারুণ এক দিকনির্দেশনা। আমি যদি ফ্লোরিয়ান ভির্টজ হতাম এবং এই মুহূর্তে মেসি ও রোনালদোকে দেখতাম, তবে আমি ভাবতাম যে আমি যদি নিজের যত্ন নিতে পারি এবং কোনো বড় ইনজুরিতে না পড়ি, তবে আমার সামনে অনেকগুলো বছর পড়ে রয়েছে কিছু করার জন্য। এর অর্থ, আমি বলতে চাইছি এই তরুণদের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে ভবিষ্যতে অনেক বড় কিছু হয়ে ওঠার।
লেখক : জার্মান কিংবদন্তি