ডানপিটে স্বভাবের দীপ। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির অম্বরনগর গ্রামের সবাই তটস্থ থাকত তাঁর জন্য। এর গাছের ডাব তো ওর গাছের পেয়ারা হাপিস করে দিতেন প্রায়ই। আবার অনেকেই পছন্দ করত। দেখতে সুদর্শন হওয়ায় বন্ধু ও নিকটাত্মীয়রা প্রায়ই তাঁকে অভিনয়ে আসার উৎসাহ দিত। দীপ কেবল শুনতেন। ঢাকায় এসে অনার্সে ভর্তি হন। থাকেন ধানমণ্ডির এক মেসে। সেখানে রুমমেট বড় ভাইয়ের পরামর্শেই অভিনয়ে প্রথমবার আগ্রহী হন। ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদের কাছে যান ফটোশুটের জন্য। চঞ্চল তাঁকে দেখে জানতে চান, তিনি মডেল-অভিনেতা নিলয়ের ছোট ভাই কি না? ঢাকায় আসার পর বহুবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন দীপ। ফটোশুট করে কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে ছবি জমা দেন। কিন্তু ডাক আসে না। এক বছর পর দেখা করেন চঞ্চলের সঙ্গে। তিনিই সুযোগ করে দেন একটি ফ্যাশন হাউসের মডেল হওয়ার। সেই শুরু। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত মডেলিং করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনচিত্রের তালিকায় রয়েছে প্রাণ ললিপপ, টেলিটক, প্রাণ জেলি, ক্যান্টন স্যুপ, এপেক্স ফোম ও মোজো। এ পর্যন্ত তিনটি নাটকে অভিনয় করেছেন—জহিরুল ইসলামের ‘লাভ উইল টার্ন’, মঈনুল রাজীবের ‘তুমি চাইলে’ ও তন্ময় তানসেনের ‘ক্ষরণ’। বেশ কয়েকটি গানের ভিডিওতে মডেল হয়েছেন। দুটি গান বেশ জনপ্রিয় হয়—ন্যান্সি ও মিলনের গান ‘ডানাকাটা পরী’, আরফিন রুমী ও লিজার ‘ভালোবাসার বসতবাড়ি’। বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে? ‘নতুন কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছি। বাবা দিবসকে সামনে রেখে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো কয়েক দিন আগে। ভাবছি এখন অভিনয়েই বেশি মনোযোগ দেব’, বলেন দীপ। অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। যা শিখেছেন দেখে দেখেই। বললেন, ‘অভিনয়ের ইচ্ছেটা ছোটবেলায় থাকলে হয়তো শিখে-পড়ে আসতে পারতাম। নিয়মিত অভিনয় করেই শিখতে চাই। স্বপ্ন দেখি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের।’ চার ভাই-বোনের মধ্যে দীপ সবার ছোট। বড় তিন বোনের আদর, শাসনে বড় হয়েছেন। এখন থাকেন শ্যামলীতে বড় বোনের সঙ্গে। ছবি আঁকা আর সাঁতার ভীষণ পছন্দের। গান শোনেন নিয়মিত। ভালোবাসেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির, তাহসান ও মিনারের গান।