জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা—সব লন্ডনে। শিরিনের পৈতৃক ভিটা অবশ্য চট্টগ্রামে। এবার বাংলাদেশে এসেছিলেন আর্মি স্টেডিয়ামের কনসার্টে অংশ নিতে। ভেবেছিলেন ১৫ দিন থাকবেন। বারকয়েক ফ্লাইটের ডেট পরিবর্তন করলেন। পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাসখানেক থেকেই যাবেন। চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ঘুরতে। সেখানে দেখা কম্পোজার আভরাল সাহিরের সঙ্গে। শিরিনের জন্য আগেই একটা গান কম্পোজ করে রেখেছিলেন সাহির। সুরটা শোনালেন। এতই পছন্দ হয়ে গেল শিরিনের, তখনই কণ্ঠ দিলেন। পুরো একটা অ্যালবাম রেডি করার জন্য বললেন সাহিরকে এবং সেটা লন্ডনে ফিরে যাওয়ার আগেই। কয়েকটা গান তৈরিই ছিল। বাকি গানগুলো দ্রুত করতে হয়েছে। হাতে সময় খুব কম, তাই শিরিনকেও নিয়মিত থাকতে হচ্ছে স্টুডিওতে। এ মাসেই অ্যালবামটি প্রকাশ করবেন। সাহিরের প্রশংসা করে বললেন, ‘আগে আমি অনেক জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান কম্পোজারের সঙ্গে কাজ করেছি। সেসব বিবেচনা করেই বলতে চাই, ওর মাঝেও আমি সেই মানের প্রতিভা দেখতে পেয়েছি। ওর কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছে। একটা পুরো অ্যালবাম করার সিদ্ধান্ত তো আর এমনি এমনি নিইনি। দেশে আসার আগে এমন কোনো প্ল্যানই ছিল না।’ অ্যালবামের নাম রেখেছেন ‘গানওয়ালী’। তবে শেষ মুহূর্তে নামটা বদলেও যেতে পারে বলে জানালেন। সব গানের কথা ও সুর করেছেন আভরাল সাহির। থার্টি ফার্স্ট নাইটে অ্যালবামের টাইটেল সং ‘গানওয়ালী’র ভিডিও প্রকাশ করবেন। ভিডিও পরিচালনা করেছেন এস ডি সাব্বির। সাব্বিরকে নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত শিরিন—‘ওর মধ্যেও অন্য রকম প্রতিভা দেখেছি। ওর আইডিয়া পছন্দ হয়েছে যে কারণে ওকে দিয়েই গানের ভিডিও বানালাম। এখানে যেমন ফান আছে তেমন আছে রোমান্স। গানের মতো ভিডিওটাও সবার পছন্দ হবে আশা করি।’ অ্যালবাম ও ভিডিও প্রকাশ করার পর বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যাবেন ইতালি। কিছুদিন সেখানে থেকে তারপর যাবেন লন্ডন। লন্ডনে তার পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। সমাজসেবামূলক কাজও করে থাকেন। তবে শিরিনের মনটা কিন্তু পড়ে থাকে এ দেশেই। ‘দেশের জন্য সব সময় মন কাঁদে। জীবনের প্রয়োজনেই লন্ডনে থাকতে হয়। দেশের মাটিতে পা দেওয়ার পর থেকে কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝাতে পারব না। বাংলাদেশই আমার কাছে সবচেয়ে শান্তির জায়গা।’ এবার অনেক শো করার অফার পেয়েছেন। কিন্তু অ্যালবামের কাজের জন্য সবাইকে সময় দিতে পারেননি। এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিরিন—‘পরেরবার সময় নিয়ে আসব, কথা দিচ্ছি সবার জন্য গাইব।’ হাবিব ওয়াহিদের সংগীতায়োজনে শিরিনের প্রথম একক অ্যালবাম ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। দুই বছর পর প্রকাশিত হয় ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সংগীতায়োজনে ‘মাতওয়ালি’। সর্বশেষ ‘রঙিলা’ প্রকাশ হয় ২০১৪ সালে। সংগীতায়োজনে ছিলেন ছয়জন—হাবিব ওয়াহিদ, ফুয়াদ আল মুক্তাদির, বাপ্পা মজুমদার, হৃদয় খান, রাফা ও রোমেল।