পরিচালক পাওয়েলের জন্ম ১৯৫৭ সালে পোল্যান্ডের ওয়ারশতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন সাহিত্য ও দর্শন। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন অক্সফোর্ড থেকে জার্মান সাহিত্য পড়ে। ব্রিটিশ টেলিভিশনে ডকুমেন্টারি ফিল্ম মেকার হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র 'দ্য স্ট্রিংগার' মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে। তবে 'লাস্ট রিসোর্ট' (২০০০) দিয়ে তিনি নজর কাড়েন। এই ছবিতে একজন নারী তার সন্তানকে নিয়ে স্বামীকে খুঁজতে বের হয় মস্কো থেকে। তাঁকে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজতে হয়। তাঁর আরো দুটি ছবি 'মাই সামার অব লাভ' ও 'দ্য ওম্যান ইন দ্য ফিফথ' মুক্তি পায় ২০০৪ ও ২০১১ সালে। প্রথমটা দুজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যকার আন্তসম্পর্ক নিয়ে এবং দ্বিতীয়টি একজন হতাশাগ্রস্ত নারীর শেষ পর্যন্ত সুখী হওয়া বিষয়ে। 'ইডা' ছবিটি তাঁর আগের ছবিগুলোর চেয়ে অনেক আলাদা বলা যায়। ফিল্মকমেন্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন পাওয়েল। দর্শক ছবিটি দেখে ষাটের দশকের অনুভব পাচ্ছে। যেমন- এটি সাদাকালো, আসপেক্ট রেশিও একাডেমিক ইত্যাদি। কোন কোন ছবির প্রভাব আছে 'ইডা'র ওপর? কোনো ছবির নয়। 'ফেলিনি এইট অ্যান্ড হাফ' বারবার দেখি। আমি ষাটের দশকের চেক নিউ ওয়েভ ছবি দেখতে পছন্দ করি। তবে এই ছবির সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে করি না। বস্তুত এই ছবির প্রেরণা এসেছে চলচ্চিত্র বিষয়ে আমার অস্থিরতা থেকে। বর্তমান ছবিগুলোর ক্যামেরা মুভমেন্ট নিয়ে আমি চিন্তাগ্রস্ত। ছবি দেখি আর ভাবি, কেন এখানে ক্লোজআপ, কেন শেকিং, কেন ট্রলি ইত্যাদি। বেশির ভাগই আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। ছবির মূল ভাবে এসব মুভমেন্ট কিছুই যুক্ত করে না, বরং ভাব থেকে দর্শককে বিযুক্ত করে। তাই একটি অ্যান্টি-সিনেমা বানাতে চেয়েছি। আমি এখন আর সিনেমা ট্রিকের শক্তি নিয়ে উত্তেজনা বোধ করি না। শান্ত ও ধ্যানস্থ কিছু পছন্দ করি, যা সরাসরি দেখায় না, বরং অনুভব করায়। সত্যি বলতে, আমার ফ্যামিলির ফটো অ্যালবাম 'ইডা'র ফ্রেম তৈরিতে সাহায্য করেছে। 'ইডা'য় আপনি প্রায় সব ফ্রেমেই আকাশ রেখেছেন। এটি সুন্দর, কিন্তু চাপিয়ে দেওয়া! শুনে ভালো লাগল। যদিও প্রথম থেকেই এ ইনটেনশন ছিল না। যখন ক্যামেরা নিয়ে লোকেশনগুলোয় শুটিং করছিলাম, তখন ওয়াইড অ্যাঙ্গল শটগুলো মনের মতো হচ্ছিল না। ক্যামেরাম্যানকে বললাম একটু টিল্টআপ করতে। আকাশটা পেয়ে প্রথমবারেই মনে হলো, চরিত্রগুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। ছবিতে সাধারণত ওয়াইড অ্যাঙ্গলে লস্ট ফিলিং হয়, মানে হরাইজন্টালি। আমার মনে হলো, আনা আর ইডা ইতিমধ্যেই হারিয়ে বসে আছে। ওদের ভার্টিক্যালি হারানোই ভালো। দুজন ক্যামেরাম্যান নিয়ে কাজ করেছেন। অসুবিধা হয়নি? প্রথম ক্যামেরাম্যান অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তা ছাড়া তিনি আমার ভাবনার সঙ্গে একমতও হতে পারছিলেন না। তাই তাঁর সহকারীকে নিয়ে কাজ শুরু করি। এর সঙ্গে সুবিধা ছিল, সে নিজের ইমেজের ব্যাপারে ভীতু ছিল না, বরং নিরীক্ষার বিষয়গুলোতে উৎসাহ পাচ্ছিল। ইডার চরিত্রে যে অভিনয় করেছে, আগাতা জেবুচোয়ুস্কা, সে একেবারেই নতুন। আর আনা চরিত্রের অভিনেত্রী আগাত কুলেসজা অনেক অভিজ্ঞ। দুজনকে একসঙ্গে সামলানো সহজ ছিল? চেবুকে আসলে আমার এক বন্ধু ওয়ারশর এক ক্যাফেতে খুঁজে পায়। তার চেহারায় এমন কিছু আছে, যা ইডার সঙ্গে মেলে। ওর মধ্যে দর্শক অভিজ্ঞতা পায়নি, কিন্তু সারল্য পেয়েছে। আর আনা ওর জন্য অনেক স্পেস ছেড়ে দিয়েছে, যেন চরিত্রটা ঠিকমতো প্রস্ফুটিত হয়। ছবিটি এক ক্যামেরায় শুট করেছেন! বেশির ভাগ সিন এক শটে ও এক অ্যাঙ্গল থেকে। আলোও মূলত রাখা হয়েছে চরিত্র দুটির ওপর। তাই বেশি ক্যামেরার প্রয়োজন হয়নি। আপনার চলচ্চিত্র-দর্শন কী? বাস্তব নয়, বরং বাস্তবের অনুভূতি। 'ইডা'র সংগীত নিয়ে কিছু বলবেন? লেস ইজ মোর চিন্তা থেকেই সংগীত করা হয়েছে। একটি সংগীত ধরনই ইনডোর-আউটডোর সর্বত্র কাজ করেছে। বাস্তবের অনুকরণ করতে চাইনি বলে দরজা খোলা, বন্ধ করা, গাড়িতে ওঠা ইত্যাদি শব্দ লাগাইনি। অ্যান্টি-সিনেমা বানাতে গিয়ে ভয় পাননি? যদি মুখ থুবড়ে পড়ত! আমি ভেবেছি, এটিই আমার শেষ ছবি। পরিচালক : পাওয়েল পাওলকোস্কি। কাহিনী : ইডা প্রার্থনালয়ে একজন শিক্ষানবিশ। নান হিসেবে শপথ নেওয়ার আগমুহূর্তে তাঁর একমাত্র জীবিত আত্মীয় আনার সঙ্গে দেখা করতে যান। জানতে পারেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর মা-বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। মা-বাবার স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো আনার সঙ্গে দেখতে বের হন ইডা। অফস্ক্রিন : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ লোককে জার্মান নাৎসিরা হত্যা করে, যার মধ্যে ত্রিশ লাখ ইহুদি। আনা সে সময়ের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েত রেড আর্মি পোল্যান্ডের দখল নেয়। আনা স্তালিন মতাদর্শের সমর্থক হয়ে ওঠে। কিন্তু কিছুকালের মধ্যে তার বিশ্বাস আবার হোঁচট খায়। ধীরে ধীরে নিজেকে একটি ফ্ল্যাটে বন্দি করেন এবং নেশায় আসক্ত হন। ১৯৬১ সালে ইডা যখন তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তখন তিনি বিক্ষিপ্ত এক মানুষ। আইএমডিবি রেটিং : ৭.৫/১০ ইউএসএ রিলিজ : ২ মে ২০১৪ আয় : প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার (২ আগস্ট পর্যন্ত) দৈর্ঘ্য : ৮২ মিনিট। আসপেক্ট রেশিও : ১.৩৩:১ (৪:৩) পুরস্কার : লন্ডন এবং ওয়ারশ চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার। পুরস্কার পেয়েছে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবেও।