পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসনের আটটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তর চলছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। জানা গেছে, কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা পোস্টমাস্টারসহ নানা দপ্তরের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নানা বিড়ম্বনায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ দপ্তরে। বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন সিরাজী কাউখালীসহ তিনটি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহে শুধু মঙ্গলবার কাউখালী দপ্তরে হাজিরা দেন। এতে উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন দপ্তরের বিল-ভাউচার নিষ্পত্তি, সরকারি অর্থ উত্তোলন এবং আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মানসী ইসলাম কাউখালীর পদে থাকলেও বর্তমানে ঢাকার অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকায় স্থানীয় সমবায় সমিতিগুলো নিয়মিত সেবা পাচ্ছে না। উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তামান্না খুরশিদ জাহান তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন এবং সপ্তাহে মাত্র এক দিন কাউখালীতে হাজিরা দেন।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নূরে জান্নাত জিয়ানগর উপজেলার মূল দায়িত্বে থেকে কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উজ্জ্বল দেবনাথ নেছারাবাদ উপজেলার মূল দায়িত্বে থেকে সপ্তাহে এক-দুই দিন কাউখালীতে দপ্তরে হাজিরা দেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিউর রহমান পিরোজপুর সদর উপজেলায় কর্মরত থেকে কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে বেশির ভাগ সময় অফিসটি তালাবদ্ধ থাকে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি সমবায় সমিতির সদস্য আমেনা বেগম বলেন, ‘সমবায় অফিসে প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে গেলে প্রায়ই বলা হয় কর্মকর্তা নেই বা অন্য উপজেলা থেকে এলে কাজ হবে। এতে আমরা অনেক ভোগান্তিতে পড়ছি।’
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কয়েকটি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা না থাকায় পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।