• ই-পেপার

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে অব্যাহতি

স্পিকারকে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
স্পিকারকে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফেসবুকে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ময়মনসিংহের নান্দাইলে যুবলীগের সাবেক এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে পাশের গফরগাঁও উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ওই নেতার নাম মো. আবু ইয়াহিয়া সুমন ৩৫)। তিনি নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি আবদুল কদ্দুস মাখন নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে নিয়ে কটূক্তিমূলক ও বিতর্কিত পোস্ট করা হয়, যেখানে স্পিকারকে রাজাকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যুবলীগ নেতা সুমন ওই পোস্টটি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার করে বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারীর মধ্যে ছড়িয়ে দেন।

 

পাউবোর খালে ইউপি সদস্যের ভবন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাউবোর খালে ইউপি সদস্যের ভবন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খালে আরসিসি ভিত দিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ এই ভবন নির্মাণ করছেন।

জানা যায়, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী থেকে রাজশাহীর চারঘাট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া গ্রামের মধ্য দিয়ে পাউবোর অধিভুক্ত জমি থেকে মাটি কেটে প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে পাউবোর জমিতে তৈরি হওয়া খাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এর মধ্যে হারুনুর রশিদ এই খালে ভবন নির্মাণ করে দখলে নিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হারুনুর রশিদ সম্প্রতি দোকানের পেছনের অংশ সম্প্রসারিত করতে আরসিসি ভিত দিয়ে নতুন করে পিলার নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। 

ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, অনেকেই পাউবোর জায়গায় ভবন নির্মাণ করেছে। তাই আমিও ভবন সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছিলাম।

পাউবোর ভাঙ্গুড়া শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মাহাতাব উদ্দিন জানান, সরকারি সম্পত্তিতে এ ধরনের ভবন নির্মাণ করার সুযোগ নেই।

 

 

কাউখালী প্রশাসন

অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে ৮ দপ্তর

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর
অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে ৮ দপ্তর

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসনের আটটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তর চলছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। জানা গেছে, কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা পোস্টমাস্টারসহ নানা দপ্তরের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নানা বিড়ম্বনায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ দপ্তরে। বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন সিরাজী কাউখালীসহ তিনটি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সপ্তাহে শুধু মঙ্গলবার কাউখালী দপ্তরে হাজিরা দেন। এতে উপজেলা পরিষদ ও বিভিন্ন দপ্তরের বিল-ভাউচার নিষ্পত্তি, সরকারি অর্থ উত্তোলন এবং আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মানসী ইসলাম কাউখালীর পদে থাকলেও বর্তমানে ঢাকার অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকায় স্থানীয় সমবায় সমিতিগুলো নিয়মিত সেবা পাচ্ছে না। উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তামান্না খুরশিদ জাহান তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন এবং সপ্তাহে মাত্র এক দিন কাউখালীতে হাজিরা দেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নূরে জান্নাত জিয়ানগর উপজেলার মূল দায়িত্বে থেকে কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উজ্জ্বল দেবনাথ নেছারাবাদ উপজেলার মূল দায়িত্বে থেকে সপ্তাহে এক-দুই দিন কাউখালীতে দপ্তরে হাজিরা দেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিউর রহমান পিরোজপুর সদর উপজেলায় কর্মরত থেকে কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে বেশির ভাগ সময় অফিসটি তালাবদ্ধ থাকে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি সমবায় সমিতির সদস্য আমেনা বেগম বলেন, সমবায় অফিসে প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে গেলে প্রায়ই বলা হয় কর্মকর্তা নেই বা অন্য উপজেলা থেকে এলে কাজ হবে। এতে আমরা অনেক ভোগান্তিতে পড়ছি।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কয়েকটি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা না থাকায় পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

দৌলতপুর-শাহপুর সড়ক বেহাল

খুলনা অফিস
দৌলতপুর-শাহপুর সড়ক বেহাল

মহানগরী খুলনার দৌলতপুর মহসিন মোড় থেকে আড়ংঘাটা হয়ে আমভিটা শাহপুর আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে ১০ সহস্রাধিক মানুষ। সড়কের কোথাও কোথাও বিটুমিন ও পাথর উঠে বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে প্রায়ই ইজি বাইক, মাহেন্দ্র, পণ্যবোঝাই যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে শাহপুর বাজার, থুকড়া মাদরাসা, রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, আমভিটা বাজার, খানজাহান আলী কৃষি কলেজের সামনে, শলুয়া বাজার, শলুয়া পূর্ণচন্দ্র বিদ্যালয়ের সামনে, বাইপাস সড়কের সামনে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি সড়কটি আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। চলতি মাসে ২৩ জুলাই আড়ংঘাটা রেলস্টেশন থেকে শাহপুর অংশ দরপত্র দাখিল শেষ হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে মহসিন মোড় থেকে আড়ংঘাটা অংশ ও চলতি অর্থবছরের পুরো অংশের সংস্কার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ লক্ষ্মী রানী, সবিতা মণ্ডল জানান, রাস্তাটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ তাঁদের এলাকার মানুষ মাছ-সবজি, দুধ নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে দৌলতপুর যান। তারা তো পথে বসে যাবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনা জেলার প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সড়কটি সংস্কারে বিলম্ব হয়েছে। চলতি অর্থবছরে পুরো সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হবে আশা করছি।