আড্ডায় শুধু বলে দেখুন, চীনের মহাপ্রাচীর চাঁদ থেকে দেখা যায় না। সবাই আপনাকে ছেঁকে ধরবে। বলবে, তোর মাথাটা গেছে। অথচ আপনিই সত্যি। প্রাচীরটি চাঁদ থেকে দেখা যায় না। প্রচলিত কথাটির পুরোটা হচ্ছে—‘চীনের মহাপ্রাচীর হচ্ছে মানুষের তৈরি একমাত্র স্থাপনা, যা চাঁদ থেকেও দেখা যায়।’ বহু যুগ ধরেই কথাটি চালু আছে। কথাটি চালু হয়েছিল এভাবে যে মহাশূন্য থেকে এটি দেখা যায়। পরে আরো পরিষ্কার করতে, চাঁদ লাগানো হয় মহাশূন্যের বদলে। অথচ ভেবে দেখুন, মহাশূন্য শব্দটি অনির্দিষ্ট। নাসার ‘মহাশূন্য থেকে পৃথিবী’ নামের আলোকচিত্রের বই থেকে জানা যায়, ১৬০ মাইল ওপর থেকে বিমানবন্দর, ব্রিজ, হাইওয়ে, কেনেডি স্পেস সেন্টারও চিহ্নিত করা যায় (চিহ্ন বা রং দিয়ে)। মানে শুধু মহাপ্রাচীর নয়। আর এটাই সত্য যে ১৮০ মাইল ওপর থেকে পৃথিবীর কোনো কিছু বলার মতো দৃশ্যমান হয় না। আর চাঁদ তো দুই লাখ ৩৮ হাজার মাইল দূরে। চাঁদ থেকে শুধু দেখা যায়, সাদা (মেঘ), কিছুটা নীল (সাগর), হলুদ (মরুভূমি)। এখন প্রশ্ন, ধারণাটি কোথায় থেকে এলো? কবে এর জন্ম? ১৯৩৮ সালে আমেরিকান পরিব্রাজক রিচার্ড হ্যালি বার্টনের ‘বুক অব মার্ভেলস : দি ওরিয়েন্ট’ প্রকাশিত হয়। সেখানে পাওয়া যায় এই কথা যে চীনের প্রাচীর মানব সৃষ্ট একমাত্র স্থাপনা, যা চাঁদ থেকেও দেখা যায়। বার্টনের ভ্রমণবিষয়ক বইগুলো আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিল। বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় তিনি ভালো সাড়া পেয়েছিলেন। ধরে নেওয়া যায়, তিনি ‘প্রাচীর’বিষয়ক বিভ্রান্তি তৈরিতে ভালো ভূমিকা রেখেছেন। তবে তারও অনেক বছর আগে, সেই ১৯০৪ সালে হেনরি নরম্যান লিখেছিলেন ‘মানুষ এবং পুবের রাজনীতি’। সে বইতে এমন বলা হয়েছে যে প্রাচীরটি তৈরির সময়কাল যেমন বিস্মিত করে, তেমনি আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এটি চাঁদ থেকেও দেখা যায়।