চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলার সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। তাঁরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আরো দুই আসামি। তাঁরা হলেন—বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল।
গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দণ্ডিত এই চার আসামির পক্ষে পৃথক আপিল করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়। আন্দোলন চলার সময় দুই হাত দুই দিকে প্রসারিত করে বুক পেতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান তিনি। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সে সময় গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কী যুক্তিতে আপিল করা হয়েছে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রায়ে বলা হয়েছে, আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়, যদি গুলিতেই আবু সাঈদের মৃত্যু হয়, তবে গুলি খাওয়া ব্যক্তি অর্থাৎ আবু সাঈদের পরনে যে গেঞ্জি ছিল, সেই গেঞ্জিতে গুলি লাগার চিহ্ন থাকবে। মানে গুলির এন্ট্রি ও এক্সিটের ছিদ্র থাকবে। কিন্তু আবু সাঈদের যে গেঞ্জিটি এক্সিবিট (প্রদর্শনী) হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে এ রকম কোনো চিহ্ন নেই। এমনকি গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক্স-রে বা রেডিওপিক টেস্ট নেই। এর ফলে সন্দেহ থেকে যায়, আবু সাঈদের মৃত্যু আদৌ গুলিতে হয়েছে কি না। আর সন্দেহাতীতভাবে হত্যাকাণ্ডটি প্রমাণিত না হলে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না। এই যুক্তিসহ আরো কিছু যুক্তিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে আপিল ফাইল করা হয়েছে।’
পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি শরীফুল ইসলাম ও রাফিউল হাসান রাসেলের আপিল কী যুক্তিতে করা হয়েছে, জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো যে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে এই দুজন পুলিশকে উসকানি দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তি হচ্ছে, পুলিশ একটি বিধিবদ্ধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশ আইন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করে থাকে। ছাত্রনেতা বা অন্য কারো নির্দেশে এই বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন না। এ ছাড়া এই দুজনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।’

